যেন পুরো পৃথিবী থেমে আছে, শুধু চোখের লড়াই চলছে—নীল রায় চৌধুরী আর রুদ্র সেন… আর মাঝখানে নিঃশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আবিবা ইসলাম মিম।
রুদ্র ঠোঁটের কোণে সেই পরিচিত শীতল হাসিটা টেনে ধীরে ধীরে বললো—
“তুই বদলাইনি, নীল… এখনো আগের মতোই
impulsive… emotional…”
নীলের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়—
“আর তুই এখনো আগের মতোই নোংরা…”
রুদ্র হেসে ওঠে, তারপর হঠাৎ করে তার পেছন থেকে কয়েকজন armed লোক বেরিয়ে আসে, চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে জায়গাটা।
মিমের বুক কেঁপে ওঠে… সে অজান্তেই নীলের শার্টটা আঁকড়ে ধরে।
নীল সেটা টের পায়… এক সেকেন্ডের জন্য তার চোখ নরম হয়ে যায়, কিন্তু সে কিছু বলে না… শুধু একটু সামনে সরে দাঁড়ায়, যেন পুরো পৃথিবী থেকে মিমকে ঢেকে রাখবে।
“তুই জানিস আমি কী চাই…”—রুদ্র ধীরে বলে—
“আমার জায়গা… আমার কোম্পানি… আর—”
সে একটু থেমে মিমের দিকে তাকায়—
“ওকে।”
মিমের শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়।
নীল এক পা এগিয়ে আসে—
“Over my dead body.”
রুদ্র হেসে মাথা নাড়ে—
“Exactly… সেটাই তো দেখতে চাই…”
হঠাৎ করেই চারপাশে আবার গুলির শব্দ শুরু হয়—
ধাঁই! ধাঁই!
নীল মুহূর্তের মধ্যে মিমকে টেনে নিজের বুকে আড়াল করে ফেলে, দু’জন একসাথে নিচু হয়ে পড়ে পাশের দেয়ালের আড়ালে।
“Stay down!”—নীল চিৎকার করে ওঠে।
মিম তার বুকের সাথে লেগে আছে… তার নিঃশ্বাস গুলো এলোমেলো… আর সে স্পষ্ট অনুভব করছে নীলের দ্রুত, শক্ত হৃদস্পন্দন…
এই মানুষটা… যে কয়েক মিনিট আগে কাউকে মেরে ফেললো… সেই মানুষটাই এখন তাকে বাঁচাতে নিজের শরীর ঢাল বানিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
মিমের মাথা ঘুরছে… সে বুঝতে পারছে না—এই মানুষটা আসলে কে?
নীল এক হাতে বন্দুক ধরে পাল্টা গুলি চালাচ্ছে, আর অন্য হাত দিয়ে মিমকে শক্ত করে ধরে রেখেছে—
“চোখ বন্ধ করো!”
কিন্তু মিম চোখ বন্ধ করতে পারে না… সে শুধু তাকিয়ে থাকে… এই রক্ত, এই হিংসা, এই অন্ধকার—সব তার চোখের সামনে।
কয়েক মিনিটের intense ফাইটের পর হঠাৎ করেই নীল মিমকে টেনে নিয়ে পাশের একটা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। দরজাটা বন্ধ করে দেয় জোরে।
ঘরটা অন্ধকার… ছোট… শুধু একটা ক্ষীণ আলো জ্বলছে।
দু’জনেই হাঁপাচ্ছে।
কিছুক্ষণ কেউ কিছু বলে না… শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ।
তারপর—
মিম ধীরে ধীরে নীলের বুক থেকে সরে আসে… তার চোখে জল… রাগ… ভয়… সবকিছু একসাথে—
“তুমি… তুমি আমাকে এইসবের মধ্যে এনে ফেলেছো…”
নীল কিছু বলে না… শুধু তাকিয়ে থাকে।
মিম কাঁপা গলায় বলে—
“তুমি জানো এটা কী? এটা নরক… আর তুমি… তুমি সেই নরকের রাজা…”
নীলের চোখ এক মুহূর্তের জন্য বন্ধ হয়ে যায়… যেন কথাগুলো তাকে কোথাও আঘাত করে।
“আমি তোকে এখানে আনতে চাইনি…”—সে ধীরে বলে—
“কিন্তু এখন… তুই বের হতেও পারবি না…”
মিম চোখ মুছে বলে—
“আমি বের হবো… যেভাবেই হোক…”
নীল হঠাৎ করে এগিয়ে এসে তার হাত চেপে ধরে—
“না… তুই বুঝছিস না…”
তার গলাটা এবার কাঁপছে… প্রথমবার…
“তুই এখন আমার weakness… আর আমার weakness-গুলো বাঁচে না…”
মিম স্তব্ধ হয়ে যায়…
“তাহলে… আমাকে মেরে ফেলো…”
এক সেকেন্ড… দুই সেকেন্ড…
নীলের চোখ ধীরে ধীরে বদলে যায়—রাগ, কষ্ট, উন্মাদনা—সব মিশে যায়।
সে হঠাৎ করে মিমকে নিজের দিকে টেনে নেয়—
“Don’t say that!”
মিম তার বুকের ওপর ধাক্কা দেয়—
“তাহলে কী চাই তুমি?!”
নীল খুব কাছে ঝুঁকে আসে… এতটাই কাছে যে তাদের নিঃশ্বাস এক হয়ে যায়…
তার গলাটা নিচু… ভারী… ভাঙা—
“আমি চাই… তুই শুধু আমার হ…”
কথাটা শেষ করতে পারে না সে।
মিম চোখে চোখ রেখে ফিসফিস করে—
“এটা ভালোবাসা না… এটা obsession…”
নীল হেসে ফেলে… কিন্তু সেই হাসি পুরো ভাঙা—
“Exactly…”
হঠাৎ বাইরে আবার পায়ের শব্দ…
কেউ দরজার কাছে এসেছে।
নীল সঙ্গে সঙ্গে মিমকে নিজের পেছনে সরিয়ে দেয়… বন্দুক তুলে নেয়।
দরজার ওপাশ থেকে রুদ্রের কণ্ঠ—
“Hide and seek খেলছিস, নীল?”
মিমের বুক ধুকপুক করছে…
নীল ধীরে বলে—
“শেষ হয়ে যাবে আজ…”
রুদ্র হেসে ওঠে—
“হ্যাঁ… কিন্তু কার জন্য, সেটা এখনো decide হয়নি…”
দরজার হাতলটা ধীরে নড়ে ওঠে…
আর ঠিক সেই মুহূর্তে—
মিম বুঝতে পারে…
এই মানুষটা… নীল রায় চৌধুরী…
সে হয়তো দানব…
কিন্তু সেই দানবের ভেতরেই কোথাও একটা ভাঙা মানুষ লুকিয়ে আছে…
আর সে নিজে—
সে এখন এমন এক খেলায় আটকে গেছে…
যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো সহজ পথ নেই…
দরজার হাতলটা ধীরে ধীরে ঘুরছে…
ঘরের ভেতরের বাতাস যেন জমে গেছে… নিঃশ্বাস নেওয়াটাও কঠিন হয়ে উঠছে…
নীল বন্দুকটা শক্ত করে ধরে দাঁড়িয়ে আছে, তার পুরো শরীর টানটান, চোখে সেই চেনা ভয়ংকর ফোকাস… আর তার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে মিম… কাঁপছে… কিন্তু এবার আর পিছিয়ে যাচ্ছে না।
হঠাৎ—
দরজাটা ধাক্কা মেরে খুলে যায়!
ধাঁই!
একসাথে গুলির শব্দ…
কিন্তু নীল আগেই প্রস্তুত ছিল… সে এক ঝটকায় মিমকে পাশে সরিয়ে দিয়ে নিজে সামনে এসে দাঁড়ায়, আর টানা দুটো শট ফায়ার করে।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুইজন লোক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
ধোঁয়া… বারুদের গন্ধ… নিস্তব্ধতা…
কিন্তু—
রুদ্র নেই।
নীলের চোখ সরু হয়ে যায়—
“Too easy…”
মিম কাঁপা গলায় বলে—
“সে… কোথায় গেলো…?”
নীল কিছু বলে না… শুধু চারপাশটা লক্ষ্য করে… তারপর হঠাৎ করেই তার মুখ শক্ত হয়ে যায়—
“Shit…”
মিম বুঝতে পারে কিছু একটা ভুল হচ্ছে—
“কি হয়েছে…?”
নীল তার দিকে তাকায়…
“এটা distraction ছিল…”
মিমের বুক কেঁপে ওঠে—
“মানে…?”
ঠিক তখনই—
ঘরের ভেতরের একমাত্র জানালার কাঁচ ভেঙে যায়—
ঝনঝন!
একটা স্মোক গ্রেনেড ভেতরে এসে পড়ে… মুহূর্তের মধ্যে ঘরটা সাদা ধোঁয়ায় ভরে যায়…
মিম কাশি দিতে থাকে—
“নীল… আমি কিছু দেখতে পাচ্ছি না…”
নীল তার হাত ধরে—
“Hold my hand! Don’t let go!”
কিন্তু ধোঁয়া… বিশৃঙ্খলা… শ্বাস নিতে কষ্ট…
হঠাৎ—
পেছন থেকে একটা শক্ত হাত মিমকে টেনে নেয়!
মিম চিৎকার করে ওঠে—
“নীল!!”
নীল সামনে হাত বাড়িয়ে দেয়—
“মিম!!”
কিন্তু তার হাত ফাঁকা বাতাসে থেমে যায়…
ধোঁয়ার ভেতরে ছায়াগুলো নড়ছে…
আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে—
সব চুপ।
ধোঁয়া ধীরে ধীরে কেটে যায়…
ঘরটা ফাঁকা…
মিম নেই।
নীলের হাত মুঠো হয়ে যায়… তার চোখে ধীরে ধীরে সেই ভয়ংকর অন্ধকার নেমে আসে…
“রুদ্র…”
তার গলা এতটাই ঠান্ডা যে শোনামাত্রই গা শিউরে ওঠে।
সে ধীরে ধীরে চারপাশে তাকায়… তারপর মেঝেতে পড়ে থাকা একটা ছোট্ট জিনিস তার চোখে পড়ে—
মিমের ওড়নার একটা ছেঁড়া অংশ…
নীল সেটা তুলে নেয়… কয়েক সেকেন্ড চুপ করে তাকিয়ে থাকে…
তারপর—
হাসে।
কিন্তু সেই হাসি…
এবার সম্পূর্ণ পাগলামির…
“তুই ভুল করে ফেলেছিস, রুদ্র…”
সে ধীরে ধীরে ফোন বের করে—
“Lock down the entire city… no one moves without my permission…”
তার চোখে এখন আর কোনো দ্বিধা নেই… কোনো মানবিকতা নেই…
শুধু একটাই জিনিস—
Possession.
“তুই আমার জিনিস ছুঁয়েছিস…”
সে ফিসফিস করে—
“এবার তোর সবকিছু আমি শেষ করে দেবো…”
অন্যদিকে—
অন্ধকার একটা ঘর…
হাত বাঁধা… চোখে কাপড়…
মিম ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে পায়…
তার মাথা ঘুরছে… শরীর দুর্বল…
সে নড়তে চেষ্টা করে—
কিন্তু পারে না।
ঠিক তখনই—
একটা কণ্ঠস্বর… খুব পরিচিত… খুব ঠান্ডা…
“Welcome, আবিবা ইসলাম মিম…”
মিমের বুক কেঁপে ওঠে—
“রুদ্র…”
চোখের বাঁধনটা খুলে দেওয়া হয়…
আলো চোখে লাগে…
ধীরে ধীরে সে দেখতে পায়—
রুদ্র তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে…
তার ঠোঁটে সেই ভয়ংকর শান্ত হাসি—
“তুমি জানো… নীল তোমাকে কতটা পছন্দ করে?”
মিম কিছু বলে না… শুধু তাকিয়ে থাকে।
রুদ্র একটু ঝুঁকে আসে—
“কিন্তু তুমি জানো না… সে কতটা dangerous…”
মিম দাঁতে দাঁত চেপে বলে—
“তুমি তার থেকেও খারাপ…”
রুদ্র হেসে ওঠে—
“Maybe… কিন্তু একটা কথা সত্যি—”
সে ধীরে ধীরে মিমের চুলের একটা গোছা আঙুলে পেঁচায়—
“তুমি এখন আমার trump card…”
মিম চোখ বন্ধ করে ফেলে…
তার মাথায় একটাই নাম ঘুরছে—
নীল…
আর ঠিক সেই সময়—
শহরের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে—
নীল রায় চৌধুরী তার গাড়ির পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে…
তার চোখে আগুন… হাতে সেই ছেঁড়া কাপড়টা…
সে ধীরে বলে—
“আমি আসছি, মিম…”
“আর এবার… কেউ আমাকে থামাতে পারবে না…”
অন্ধকার ঘরটা যেন সময়কে গিলে ফেলেছে… চারপাশে কংক্রিটের দেয়াল, ছাদের এক কোণে ঝুলে থাকা ম্লান লাইটটা দুলছে হালকা হাওয়ায়, আর সেই আলো-ছায়ার খেলায় আবিবা ইসলাম মিমের মুখটা আরো ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে… তার হাত দুটো শক্ত করে বাঁধা, ঠোঁট শুকিয়ে গেছে, কিন্তু চোখ… সেই চোখে এখনো ভয় আর জেদ একসাথে লড়াই করছে।
রুদ্র সেন ধীরে ধীরে তার সামনে হাঁটছে, যেন কোনো খেলায় মেতে আছে… তার জুতোর শব্দ টাপ… টাপ… টাপ… করে প্রতিটা সেকেন্ডকে ভারী করে তুলছে।
“তুমি জানো, মিম…”—সে থামে, মিমের সামনে ঝুঁকে পড়ে—
“আমি আসলে তোমাকে hurt করতে চাই না…”
মিম ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে থাকে—
“তাহলে ছেড়ে দাও আমাকে…”
রুদ্র হালকা হেসে মাথা নাড়ে—
“না… সেটা পারবো না… কারণ তুমি শুধু একজন মেয়ে না… তুমি একটা weapon…”
মিমের ভ্রু কুঁচকে যায়—
“কি বলছো তুমি…?”
রুদ্র সোজা হয়ে দাঁড়ায়, হাত দুটো পকেটে ঢুকিয়ে ধীরে ধীরে বলে—
“নীল রায় চৌধুরী… যে মানুষটা নিজের emotions-কে কবর দিয়ে রেখেছিল… যার কাছে মানুষ মানে শুধু pawn…”
সে একটু থামে… চোখ
সরু করে—
“সেই মানুষটা আজ একটা মেয়ের জন্য পুরো শহর lock down করে দিচ্ছে…”
মিমের বুক ধক করে ওঠে…
“তুমি বুঝতে পারছো না… তুমি তাকে বদলে দিয়েছো…”
মিম ধীরে বলে—
“আমি তাকে বদলাইনি… সে নিজেই এমন…”
রুদ্র হেসে ওঠে—
“No… তুমি ভুল…”
সে টেবিলের উপর থেকে একটা ফাইল তুলে নেয়… ধীরে ধীরে খুলে মিমের সামনে ছুঁড়ে দেয়।
“দেখো…”
মিম নিচে তাকায়…
কাগজগুলোতে ছবি… রিপোর্ট… নাম…
তার নিজের ছবি… তার পরিবারের ছবি… তার কলেজ… তার প্রতিটা move…
তার নিঃশ্বাস আটকে যায়—
“এগুলো… এগুলো কি…?”
রুদ্র নিচু গলায় বলে—
“Surveillance…”
মিমের চোখ বড় হয়ে যায়—
“তুমি…?”
রুদ্র মাথা নাড়ে—
“না…”
সে ধীরে ধীরে সামনে ঝুঁকে আসে… তার চোখে এক ভয়ংকর ঝলক—
“এইসব করেছে… নীল।”
এক মুহূর্তে যেন পুরো পৃথিবী থেমে যায়…
মিমের কানে যেন শব্দ বন্ধ হয়ে যায়…
সে শুধু তাকিয়ে থাকে… বিশ্বাস করতে পারে না…
“না… এটা মিথ্যে…”
রুদ্র হেসে ওঠে—
“তুমি কি সত্যিই ভাবো… তোমাদের first meeting টা coincidence ছিল?”
মিমের মাথা ঝিমঝিম করে…
“সে অনেক আগেই তোমাকে target করেছিল…”
“তোমার routine… তোমার পছন্দ… তুমি কখন কাঁদো… কখন হাসো…”
প্রতিটা শব্দ যেন ছুরির মতো বিঁধছে মিমের ভেতরে…
“সে তোমাকে protect করেনি… সে তোমাকে own করতে চেয়েছে…”
মিমের চোখে জল চলে আসে…
“Stop it…”
রুদ্র থামে না—
“তুমি তার project ছিলে, মিম… একটা obsession… একটা experiment…”
“STOP IT!!”—মিম চিৎকার করে ওঠে।
ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা নেমে আসে…
মিম হাঁপাচ্ছে… তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে…
সে ফিসফিস করে—
“সে এমন না…”
ঠিক তখনই—
দরজার বাইরে একটা বিস্ফোরণের শব্দ—
ধাম!
পুরো ঘর কেঁপে ওঠে…
রুদ্র ধীরে হাসে—
“Speak of the devil…”
আরেকটা বিস্ফোরণ—
ধাম!
দরজাটা ভেঙে যায়…
ধোঁয়ার ভেতর থেকে একটা ছায়া ভেসে ওঠে…
নীল রায় চৌধুরী।
তার মুখে রক্তের দাগ… চোখে আগুন… হাতে বন্দুক…
সে এক সেকেন্ডে পুরো রুম স্ক্যান করে…
তার চোখ গিয়ে থামে মিমের উপর…
“মিম…”
তার গলাটা বদলে যায়… নরম হয়ে যায়…
মিম তাকিয়ে থাকে…
তার চোখে হাজার প্রশ্ন… হাজার ভাঙন…
“এগুলো… সত্যি…?”—সে ফিসফিস করে।
নীল থেমে যায়…
রুদ্র পেছনে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছে—
“Answer her…”
কয়েক সেকেন্ড…
তারপর—
নীল ধীরে বলে—
“…হ্যাঁ।”
মিমের ভেতরটা যেন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়…
“আমি তোকে খুঁজেছিলাম…”—নীল বলে—
“কারণ তুই আলাদা ছিলি…”
“আমি তোকে observe করেছি… protect করেছি…”
“কারণ আমি জানতাম… তুই আমার…”
মিম মাথা নাড়ে—
“না… আমি কারো না…”
নীল এগিয়ে আসে—
“তুই বুঝছিস না—”
“DON’T COME NEAR ME!”—মিম চিৎকার করে ওঠে।
নীল থেমে যায়…
তার চোখে এবার সত্যিকারের কষ্ট…
রুদ্র তালি দেয়—
“Beautiful… absolutely beautiful…”
সে ধীরে বলে—
“এটাই চেয়েছিলাম… তোমাদের মধ্যে ভাঙন…”
হঠাৎ—
রুদ্র বন্দুক তুলে নেয়…
সোজা মিমের দিকে তাক করে—
“Now… let’s end this game…”
নীল মুহূর্তে চিৎকার করে ওঠে—
“NO!”
সবকিছু এক সেকেন্ডে ঘটে—
ধাঁই!
গুলির শব্দ…
মিম চোখ বন্ধ করে ফেলে…
কিন্তু…
কিছুই হয় না…
সে ধীরে চোখ খোলে…
দেখে—
নীল তার সামনে দাঁড়িয়ে…
তার বুক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে…
সে… গুলিটা নিজের ওপর নিয়েছে।
“নীল…”—মিমের গলা ভেঙে যায়।
নীল হালকা হেসে বলে—
“আমি বলেছিলাম… তুই আমার weakness…”
তার চোখ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসে…
আর সেই মুহূর্তে—
মিম বুঝতে পারে…
ভালোবাসা… obsession… control…
সবকিছুর মাঝেও—
এই মানুষটা সত্যিই তাকে বাঁচাতে নিজের জীবন দিতে পারে…