The Pact of Darkness - 9 in Bengali Thriller by Sohagi Baski books and stories PDF | অন্ধকারের চুক্তি - 9

Featured Books
Categories
Share

অন্ধকারের চুক্তি - 9

মিম দাঁড়িয়ে আছে… হাতের মধ্যে সেই ছোটো কালো ডিভাইসটা… স্ক্রিনে এখনো জ্বলছে—
RUDRA — ACTIVE

তার বুকের ভেতর ধীরে ধীরে আগুনটা আবার ছড়িয়ে পড়ছে…

নীল খুব শান্ত চোখে তাকিয়ে আছে… যেন সে আগেই সব জানত…

“কোথায়…?” মিমের গলা নিচু… কিন্তু ধারালো…

নীল একটু থামে… তারপর বলে—
“লোকেশন ট্রেস হচ্ছে… কিন্তু—”

“কিন্তু কি?” মিম তীক্ষ্ণভাবে তাকায়…

“ও চাইছে আমরা ওকে খুঁজে পাই…”

এই কথাটা শুনে মিমের ঠোঁটে একটা অদ্ভুত হাসি ফুটে ওঠে…

“তাহলে… সে এখনও আগের মতোই আছে…”

নীল মাথা নাড়ে…
“না… এবার ও আরও খারাপ…”

ঠিক তখনই—

ডিভাইসটা হঠাৎ করে বীপ দিতে শুরু করে…

স্ক্রিনে নতুন কিছু ডেটা আসতে থাকে…

একটা ম্যাপ…

একটা লোকেশন পিন…

মিম তাকিয়ে থাকে…

লোকেশন—
শহরের বাইরে… পুরনো ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন…

মিম ফিসফিস করে—
“ও আমাদের ডেকে নিচ্ছে…”

নীল ধীরে বলে—
“না… আমাদের টেনে নিচ্ছে…”

দুজনের চোখে চোখ পড়ে…

এইবার—

কেউ ভয় পাচ্ছে না…

কারণ তারা দুজনেই জানে—

এটা শেষ খেলা…

মিম দ্রুত ব্যাগ তুলে নেয়… ফোন পকেটে ঢোকায়…

“চল…”

নীল একটু থামে…
“তুই নিশ্চিত…?”

মিম তাকায়… তার চোখে সেই পুরনো আগুন… কিন্তু এবার আরও গভীর…

“এইবার আমি পিছিয়ে যাবো না…”

নীল হালকা মাথা নাড়ে…

“আমি তো কখনোই যাইনি…”

———

রাত…

রাস্তা ভিজে…

গাড়ির হেডলাইট কেটে যাচ্ছে অন্ধকার…

মিম আর নীল একই গাড়িতে…

কিন্তু ভেতরে কোনো কথা নেই…

শুধু—

টান…

অস্বস্তি…

আর না বলা হাজারটা প্রশ্ন…

হঠাৎ—

মিম বলে ওঠে—
“সেদিন… যদি তুমি না আসতে…”

নীল চোখ রাস্তার ওপর রেখেই বলে—
“তাহলে তুই আজ এখানে থাকতিস না…”

“আর তুমি…?” মিম তাকায়…

নীল হালকা হাসে…
“আমি তো আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিলাম…”

এই কথাটা মিমকে থামিয়ে দেয়…

সে কিছু বলে না…

শুধু জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকে…

বৃষ্টি গড়িয়ে পড়ে…

যেন সবকিছু ধুয়ে ফেলতে চাইছে…

কিন্তু কিছু দাগ—

কখনো যায় না…

———

গাড়ি থামে…

পুরনো, ভাঙা ফ্যাক্টরি…

চারপাশ অন্ধকার…

কোনো শব্দ নেই…

মিম দরজা খুলে নামে…

নীলও নামে…

দুজন একসাথে এগিয়ে যায়…

দরজাটা আধখোলা…

ভেতর থেকে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে আসে…

মিম খুব আস্তে বলে—
“ও ভেতরেই আছে…”

নীল তাকিয়ে বলে—
“অথবা… আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে…”

দুজন ভেতরে ঢোকে…

অন্ধকার…

শুধু দূরে একটা আলো…

হঠাৎ—

একটা কণ্ঠস্বর ভেসে আসে…

চেনা…

ভয়ংকর…

“ওয়েলকাম ব্যাক…”

মিমের শরীর জমে যায়…

নীলের চোখ সরু হয়ে আসে…

আলোটা ধীরে ধীরে জ্বলে ওঠে…

আর সেখানে—

রুদ্র দাঁড়িয়ে…

একদম ঠিকঠাক…

কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই…

মুখে সেই পুরনো হাসি…

“মিস করেছো আমাকে…?”

মিম দাঁত চেপে বলে—
“এইবার… শেষ করে দেবো…”

রুদ্র হেসে ওঠে…

“তোমরা এখনও ভাবছো—এটা তোমাদের গেম…?”

সে হাত তালি দেয়—

চারপাশের অন্ধকার থেকে আরও কয়েকজন বেরিয়ে আসে…

সবাই সশস্ত্র…

মিম আর নীল একে অপরের দিকে তাকায়…

এক সেকেন্ড…

শুধু এক সেকেন্ড—

তারপর—

দুজনেই বুঝে যায়…

এইবার—

বাঁচতে হলে…

একসাথে লড়তে হবে…

রুদ্র সামনে এগিয়ে আসে…

“লাস্ট লেভেলে স্বাগতম…”

তার চোখে পাগলামি…

“এখান থেকে কেউ সহজে বের হবে না…”

মিম ঠান্ডা গলায় বলে—
“আমরা সহজ কিছু চাইও না…”

নীল খুব আস্তে বলে—
“আমরা শেষ চাই…”

নীরবতা…

ঝড়ের আগের…

আর তারপর—

রুদ্র হাত তোলে…

“স্টার্ট…”

চারপাশে বন্দুক উঠতে থাকে…

আলো নিভে যায়…

আর—

অন্ধকারের ভেতর শুরু হয়—

শেষ যুদ্ধ… 

অন্ধকার…

হঠাৎ সব আলো নিভে যাওয়ার সাথে সাথে পুরো ফ্যাক্টরিটা যেন গিলে নেয় চারপাশের সব শব্দ…

এক সেকেন্ড…

দুই সেকেন্ড…

তারপর—

প্রথম গুলির শব্দ…

ঝাঁক করে আলো জ্বলে ওঠে আবার… লাল এলার্ম লাইট… চারপাশে ছায়া নড়ে ওঠে…

মিম নিচু হয়ে পাশ কাটিয়ে যায়… তার নিঃশ্বাস দ্রুত… কিন্তু চোখ স্থির…

নীল ইতিমধ্যেই কাভার নিয়ে ফেলেছে… তার হাতের মুভমেন্ট আগের মতোই নিখুঁত…

“বাম দিক!” নীল ফিসফিস করে—

মিম এক মুহূর্তও দেরি করে না—

ঘুরে গুলি ছোড়ে…

একজন পড়ে যায়…

রক্ত ছিটকে পড়ে কংক্রিটে…

রুদ্র দূরে দাঁড়িয়ে… সব দেখছে…

তার ঠোঁটে হাসি…

“ইমপ্রেসিভ…”

কিন্তু খেলা এখানেই থামে না…

চারপাশ থেকে আবার লোক বেরিয়ে আসে…

সংখ্যা বেশি…

আর সময় কম…

মিম একটা পিলারের আড়ালে লুকায়…

নীল তার পাশেই এসে দাঁড়ায়…

দুজনের কাঁধ প্রায় ছুঁয়ে যায়…

এই কাছাকাছি—অনেকদিন পর…

কিন্তু এখন—

সময় নেই…

“ও আমাদের ক্লান্ত করতে চাইছে…” মিম নিচু গলায় বলে…

নীল মাথা নাড়ে—
“না… ও আমাদের ভাঙতে চাইছে…”

মিম তাকায়…

“আমরা কি ভাঙবো…?”

নীল সরাসরি তাকায় তার চোখে—

“আগে ভেঙেছি… এবার না…”

এই এক মুহূর্ত—

দুজনের মধ্যে আবার সেই অদ্ভুত সংযোগ ফিরে আসে…

বিশ্বাস…

যেটা একসময় হারিয়ে গিয়েছিল…

হঠাৎ—

একটা বিস্ফোরণ!

পাশের দেয়াল ভেঙে পড়ে…

ধুলো, ধোঁয়া, চিৎকার…

মিম পিছিয়ে যায়…

নীল তাকে ধরে ফেলে…

“ঠিক আছিস?”

মিম মাথা নাড়ে…

“আমি ঠিক আছি…”

কিন্তু তার চোখে আগুন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে…

সে চারপাশে তাকায়—

রুদ্র নেই…

গায়েব…

“সে কোথায় গেল…?” মিম ফিসফিস করে…

নীল চোখ সরু করে—

“সে আমাদের দেখছে…”

ঠিক তখনই—

লাউডস্পিকারে রুদ্রর কণ্ঠ ভেসে আসে…

“গেমটা খুব সহজ হয়ে যাচ্ছে না…?”

মিম দাঁত চেপে ফেলে…

“বের হয়ে আসো…”

রুদ্র হেসে ওঠে—

“না… এবার তোমরা আমাকে খুঁজে বের করবে…”

একটা বিরতি…

তারপর—

“তিনটা দরজা… একটা পথ…”

ফ্যাক্টরির সামনে তিনটা বড় লোহার দরজা খুলে যায়…

প্রতিটা অন্ধকার…

অজানা…

“একটায় আমি আছি…” রুদ্র বলে…
“একটায় মৃত্যু…”
“আর একটায়—”

সে থামে…

“তোমাদের সত্যি…”

নীরবতা…

মিম আর নীল দরজাগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে…

“এটা একটা ট্র্যাপ…” মিম বলে…

“সবকিছুই…” নীল উত্তর দেয়…

“তাহলে?” মিম তাকায়…

নীল ধীরে বলে—

“আমরা আলাদা হবো না…”

মিম এক সেকেন্ড চুপ থাকে…

তারপর মাথা নাড়ে—

“কখনোই না…”

দুজন একসাথে এগিয়ে যায়…

মাঝের দরজার সামনে এসে থামে…

“কেন এইটা?” মিম জিজ্ঞেস করে…

নীল হালকা হাসে—

“কারণ রুদ্র জানে—আমরা সেফ খেলবো না…”

মিমের ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটে ওঠে…

“ঠিক…”

দরজাটা ধীরে ধীরে ঠেলে খোলা হয়…

ভেতরে—

অন্ধকার…

ঠান্ডা বাতাস…

আর—

দেয়ালে ঝুলছে কিছু ছবি…

মিম থেমে যায়…

তার চোখ বড় হয়ে ওঠে…

সব ছবি—

তার…

তার অতীত…

তার পরিবার…

তার ভাঙা মুহূর্তগুলো…

সব…

সে ধীরে বলে—

“এইটা… কি…?”

নীলও তাকিয়ে থাকে…

তার মুখ শক্ত হয়ে যায়…

ঠিক তখন—

আবার রুদ্রর কণ্ঠ—

“ওয়েলকাম টু ট্রুথ…”

মিমের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে ওঠে…

“তুমি কি করতে চাও…?”

রুদ্র ফিসফিস করে—

“তোমাদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে…”

হঠাৎ—

একটা স্ক্রিন জ্বলে ওঠে…

ভিডিও চলতে শুরু করে…

মিম তাকিয়ে থাকে…

আর তার চোখ ধীরে ধীরে বদলে যায়…

অবিশ্বাস…

ধাক্কা…

ভাঙন…

“না…”

সে পিছিয়ে যায়…

নীল বলে—
“কি হয়েছে?”

মিম তার দিকে তাকায়…

এইবার—

তার চোখে আবার সেই ঠান্ডা অন্ধকার ফিরে এসেছে…

“তুমি… আমাকে মিথ্যে বলেছিলে…”

নীল থমকে যায়…

“কি—?”

স্ক্রিনে চলতে থাকা ভিডিও—

প্রকাশ করছে এমন কিছু…

যা সবকিছু বদলে দিতে পারে…

মিম ধীরে বলে—

“এই গেমটা… তুমি আগেই শুরু করেছিলে…”

নীল নিঃশ্বাস আটকে যায়…

রুদ্রর হাসি ভেসে আসে…

“এখন—খেলাটা সত্যি শুরু হলো…”

মিম ধীরে ধীরে পিছিয়ে যায়…

তার হাত আবার বন্দুকের দিকে যায়…

আর এইবার—

তার নিশানা—

নীলের দিকে…

নীরবতা…

ভয়ংকর…

“ব্যাখ্যা করো…” মিম বলে…

নীল চুপ…

এক সেকেন্ড…

দুই সেকেন্ড…

তারপর—

সে খুব আস্তে বলে—

“সবকিছু যেমন দেখছিস… তেমন না…”

মিম ঠান্ডা হেসে ওঠে—

“তাহলে সত্যিটা কি…?”

নীল সামনে এক পা বাড়ায়…

“আমি তোকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম…”

“না!” মিম চিৎকার করে ওঠে…
“তুমি আমাকে ব্যবহার করেছো!”

তার আঙুল ট্রিগারে শক্ত হয়ে আসে…

চোখে জল নেই…

শুধু আগুন…

এই এক মুহূর্ত—

সবকিছু আবার ভেঙে পড়তে চলেছে…

আর বাইরে—

রুদ্র হাসছে…

কারণ—

তার গেম কাজ করছে…


পার্ট ১১ (শেষ অংশ — Season 1 Finale)
------------------------------------------------------------
নীরবতা…

এত ভারী যে শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়…

মিমের হাত কাঁপছে না আর… ট্রিগারের ওপর তার আঙুল শক্ত… চোখে কোনো দ্বিধা নেই…

সামনে—

নীল…

একদম স্থির…

তার চোখে ভয় নেই… শুধু এক অদ্ভুত শান্তি…

“শুট কর…” নীল খুব আস্তে বলে…

মিমের বুক কেঁপে ওঠে… কিন্তু হাত নামে না…

“তুমি আমাকে মিথ্যে বলেছো…” তার গলা ভাঙা না… বরং আরও ঠান্ডা…

নীল ধীরে মাথা নাড়ে…

“হ্যাঁ… বলেছি…”

এক সেকেন্ড—

সবকিছু থেমে যায়…

মিমের চোখে হালকা কাঁপন…

কিন্তু সে নিজেকে সামলায়…

“কেন…?”

নীল সামনে এক পা এগিয়ে আসে…

বন্দুক এখন তার বুকের একদম সামনে…

“কারণ সত্যিটা জানলে… তুই বাঁচতিস না…”

“আর এখন…?” মিম ফিসফিস করে…

“এখন… তুই নিজেই নিজের জন্য লড়তে পারিস…”

নীরবতা…

স্ক্রিনে ভিডিও এখনো চলছে…

সেই রাত…

সেই পরিকল্পনা…

সেই গেম—

যেটার শুরুতেই নীল ছিল…

মিম চোখ বন্ধ করে এক সেকেন্ড…

তারপর খুলে—

আর সেই মুহূর্তে—

গুলির শব্দ!

ধাক্কা…

কিন্তু—

নীল পড়ে না…

কারণ—

মিম ইচ্ছে করেই পাশ দিয়ে গুলি করেছে…

নীল তাকিয়ে থাকে…

মিমের চোখে জল নেই… কিন্তু সবকিছু ভেঙে গেছে…

“আমি তোমাকে মারতে পারতাম…” সে ধীরে বলে…

“কিন্তু এটা খুব সহজ হয়ে যেত…”

নীল কিছু বলে না…

তার চোখে হালকা কষ্ট…

হালকা স্বস্তি…

ঠিক তখনই—

হাসির শব্দ…

রুদ্র…

চারপাশের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসে…

তালি দিচ্ছে…

“বিউটিফুল… একদম পারফেক্ট…”

তার চোখে পাগলামি ঝিলিক দেয়…

“ভালোবাসা… বিশ্বাসঘাতকতা… আর অসম্পূর্ণ প্রতিশোধ…”

সে সামনে এগিয়ে আসে…

“এই জন্যই তোমাদের সাথে খেলতে এত মজা…”

মিম এবার তার দিকে ঘুরে দাঁড়ায়…

“এই খেলা এখানেই শেষ…”

রুদ্র মাথা কাত করে—

“তুমি এখনও ভাবছো—শেষটা তুমি ঠিক করবে…?”

সে হঠাৎ একটা রিমোট বের করে…

ক্লিক—

চারপাশে সাইরেন বেজে ওঠে…

দেয়ালের ভেতর থেকে টাইমার জ্বলে ওঠে—

00:59… 00:58…

মিম থমকে যায়…

“বোমা…” নীল নিচু গলায় বলে…

রুদ্র হেসে ওঠে—

“লাস্ট টেস্ট…”

“এক মিনিট…”

“একটা পথ…”

সে পিছিয়ে যেতে থাকে…

“দেখি—কে কাকে বাঁচায়…”

মিম চিৎকার করে—
“রুদ্র!”

কিন্তু সে ইতিমধ্যেই অন্ধকারে মিলিয়ে গেছে…

টাইমার—

00:40…

চারপাশ কাঁপছে…

মিম চারদিকে তাকায়—

একটা দরজা… দূরে…

কিন্তু—

সময় খুব কম…

নীল বলে—
“তুই বের হয়ে যা…”

মিম তাকায়—

“তুমি…?”

নীল হালকা হাসে…

“আমি অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছি, মিম…”

“ড্রামা করো না!” মিম চিৎকার করে ওঠে…
“চলো!”

টাইমার—

00:25…

নীল মাথা নাড়ে—

“শুন…”

সে খুব আস্তে বলে—

“যা কিছু করেছি… সবকিছু ভুল ছিল না…”

মিম থেমে যায়…

“কিছুটা সত্যি ছিল…”

তার চোখে তাকিয়ে—

“তুই ছিলি…”

নীরবতা…

এক সেকেন্ড…

কিন্তু সেই এক সেকেন্ডেই—

মিমের ভেতরের সবকিছু ভেঙে পড়ে…

“চুপ করো…” সে ফিসফিস করে…

টাইমার—

00:15…

নীল হঠাৎ মিমের হাত ধরে—

জোরে টেনে নেয় দরজার দিকে…

“দৌড়াও!”

মিম চিৎকার করে—
“না! তুমি—”

নীল তাকে ঠেলে দেয় বাইরে…

দরজা বন্ধ হয়ে যায়…

মিম ধাক্কা দেয়—

“নীল! দরজা খোলো!”

ভেতর থেকে শুধু একবার—

খুব আস্তে—

“লিভ…”

টাইমার—

00:03… 00:02… 00:01…

বিস্ফোরণ!!!

পুরো ফ্যাক্টরি কেঁপে ওঠে…

আগুন…

ধোঁয়া…

চিৎকার…

মিম ছিটকে পড়ে বাইরে…

তার কানে কিছু শোনা যায় না…

শুধু—

আগুনের আলো…

আর ভেতরে—

সব শেষ…

……

কিছুক্ষণ পর…

বৃষ্টি শুরু হয়…

আগুন ধীরে ধীরে নিভে আসে…

মিম হাঁটু গেড়ে বসে আছে…

চোখ ফাঁকা…

হাত কাঁপছে…

কিন্তু এবার—

কোনো কান্না নেই…

শুধু শূন্যতা…

তারপর—

ধীরে ধীরে—

সে উঠে দাঁড়ায়…

চোখে আবার সেই আগুন ফিরে আসে…

আরও গভীর…

আরও ভয়ংকর…

সে ফিসফিস করে—

“এইবার… আমি শেষ করবো…”

……

দূরে—

অন্ধকারের ভেতর…

একটা ছায়া দাঁড়িয়ে…

রুদ্র…

তার ঠোঁটে হাসি…

“গেম ওভার…?”

সে মাথা নাড়ে…

“না…”

“নেক্সট লেভেল…”

……

শেষ দৃশ্য—

ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে মিম…

তার চোখে আগুন…

পিছনে জ্বলছে আগুনের ছাই…

ভেতরে—

একটা নাম প্রতিধ্বনি করছে—

নীল…

……

সমাপ্তি :