The Secret of Existence in Bengali Horror Stories by SHIB SANKAR MAITRA books and stories PDF | সত্তারহস্য ( অন্তিম সিজন )

Featured Books
  • વડનગર પુરાતત્વ મ્યુઝિયમ

    વડનગર હાટકેશ્વર મંદિર વિશે અત્રે લખી ગયો છું. ટૂંકમાં ફરી કહ...

  • રોકાણ - 5

    ભાગ ૫ — એક અધૂરું સપનુંડોક્ટરનો ફોન મૂક્યા પછી રમેશભાઈ થોડા...

  • Imege Time Mashin

    સોમનાથના દરિયા કિનારે અદ્રશ્ય થયેલી 'ટાઈમ-મશીન' વાન...

  • શૂન્યની બહાર - 11

    ભાગ 11 — પ્રથમ વિષય“હું નક્ષત્રનો પ્રથમ વિષય હતી.”નિષાના શબ્...

  • આનંદનગર : પ્રકરણ ૩૦

    પ્રકરણ ૩૦: દ્વારકાની યાદો અને આનંદનગરમાં પાવન 'લાલાના હિ...

Categories
Share

সত্তারহস্য ( অন্তিম সিজন )


                                        (১)

এখন

স্থান:  ভগবানগোলা, পূর্ব মেদিনীপুর 

সময়:  বিকেল 


জলধর পাকড়াশী চিন্তিত গলায় বলল," আমার দাদুর শরীর খারাপ। দোকানে বসতে পারছেন না। তারপর থেকেই দেখছি ব্যবসা খারাপ যাচ্ছে। "

জলধরের হার্ডওয়ারের ব্যবসা। বাবা-মা কর্মসূত্রে থাকেন মুম্বাই।

জলধরের বয়স ৩২। দুমাস হল বিয়ে করেছে।

বন্ধু অসীম বলল," বাজার নিশ্চয়ই খারাপ। "

" বাজার খুব ভালো নেই ঠিকই কিন্তু তাই বলে ব্যবসা খারাপ হবে তেমনটাও নয়। "

" তোর বউকে দোকানে বসা। "

" তোর মাথা খারাপ হয়েছে নাকি ?  "

" ছুটি তো আগে চাকরি করত। সেজন্যই বললাম। "

" সেটা বিয়ের আগের ব্যাপার। এখন ও ঘর সামলাবে আর আমি ব্যবসা দেখব। বিয়ের আগে এমনটাই কথা হয়ে আছে। "

" ছুটি রাজী হয়েছে ? "

" কেন একথা বলছিস ? ও তো নিজেই বিয়ের আগে আমাকে বলেছে। "

" এখন জিজ্ঞেস করেছিস ? "

" না। "

" একবার জিজ্ঞেস করে দেখ। "


                                         (২)

এখন

স্থান: বৈকুন্ঠপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

সময়: দুপুর


ত্রিলোচন দাস এখানকার কুখ্যাত ডাকাত। তার বউ মনিরা মাছের ব্যবসা করে। দুজনেই দাপুটে। এক বাড়িতে থাকলেও আলাদা থাকে।

তাই বলে দুজনের মধ্যে সম্পূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে এমনটা ঠিক নয়। আসলে কেউ কারোর কর্তৃত্ব মানতে রাজী নয়।

তবে মাঝেমধ্যে এমন সময় আসে যখন দুজনেই দুজনের বশে থাকে। আর সেটা অবশ্যই রোম্যান্টিক মুহূর্ত। 

আজ অনেকদিন পর দুজনেই বাড়িতে আছে।

সম্প্রতি মাত্র কয়েকদিন আগে দুজনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়েছে।

দুজনেই বলে রেখেছিল তারা এবার আলাদা আলাদা স্থানে থাকবে। ঠিক সাতদিন আগের ঘটনা।

তারপর মনিরা একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ল। ত্রিলোচন তাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। 

আপাতত মনিরা সুস্থ।

অনেকদিন পর মনিরা দুজনের জন্য রান্না করেছে। 

পাঁঠার মাংস, ভাত। 

ত্রিলোচন খেতে ভালোবাসে। খেতে খেতে সে বলল," তোর ব্যবসা কেমন চলছে ? "

" ব্যবসার কথা রাখ। আমি ঠিক করেছি একটা কুকুর পুষব। "

" খবরদার ঐ কাজ করিস না। "

" কেন ? "

" ও আমাকে চিনে ফেলবে। "

" চিনবে না। "

" একথা কেন বলছিস ? "

" আমার উপর ভরসা রাখ। কুকুর রাখলে আমাদের সুবিধাই হবে। তোর কাজ অনেক বেড়ে যাবে। "

মনিরার কথার মধ্যে রহস্যের গন্ধ আছে। ত্রিলোচন বলল," তুই কিছু দেখেছিস বা শুনেছিস ? "

" সেজন্যই তো বলছি। কুকুর পুষব । আমি দেখেও এসেছি কুকুরটাকে। "

" কোথাকার? "

" আমতলার। "


                                      (৩)

এখন

স্থান: ভবানীপুর, কলকাতা              সময়: সকাল 

" সিংহদুয়ার "- এ আজকে অনুষ্ঠান। রমেন সাহার জন্মদিন। সন্ধ্যায় বন্ধু-বান্ধবরা আসবে। 

মহীয়সী রান্নায় ব্যস্ত। 

এইসময় রাস্তার উল্টোদিকের একটা বাড়িতে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হল।

" ওরে বাবা এ আমার কি হল রে ?," নারীকন্ঠের আর্তনাদ।

ঐ বাড়িতে মা মেয়ে থাকে । সম্প্রতি এক আত্মীয় বেড়াতে এসেছেন। তিনিও মহিলা।

রমেন সাহা হন্তদন্ত হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন। 

ঐ বাড়িতে পৌঁছে দেখতে পেলেন তিনজন মহিলা মাইক্রোফোনের সামনে বসে আছেন। প্রত্যেকের হাতে খাতা। 

রমেন সাহাকে আসতে দেখে সব থেকে বয়স্ক মহিলা বললেন," আরে দাদা আসুন আসুন। আমরা শ্রুতিনাটক করব। তারই মহড়া দিচ্ছি। "

রমেন সাহা হাসলেন," আপনাদের আওয়াজ শুনে মনে হচ্ছিল কোনও বিপদ হয়েছে। ঠিক আছে আসি। আপনারা মহড়া দিন। "

এবার নতুন অতিথি যে ভদ্রমহিলা এসেছেন তিনি বললেন," চা খেয়ে যান। "

বয়স্ক ভদ্রমহিলার মেয়ে বললেন," আমার মাসি। ভগবানগোলা থেকে এসেছেন। "

সেই অতিথি ভদ্রমহিলা নমস্কার করে বললেন," আমার নাম ছুটি। "

রমেন সাহা বললেন," এই জন্যই বোধহয় আমাকে ছুটিয়ে আনলেন ! ধন্যবাদ, এখন চা খাব না। আসছি।"

রমেন সাহা বেরিয়ে এলেন।


                                         (৪)

এখন

স্থান: ভগবানগোলা , পূর্ব মেদিনীপুর 

সময়: রাত 

রমেন সাহা সস্ত্রীক এখানে বেড়াতে এসেছেন এক আত্মীয়ের বাড়িতে। 

খাওয়া-দাওয়া অনেক আগেই শেষ হয়েছে কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না। সারাক্ষণ শরীরে একটা অস্বস্তিভাব। 

রমেন সাহা তাই ঘরের মধ্যে পায়চারি করছেন।

গরম আছে। তিনি দরজা খুলে ঘরের বাইরে বেরিয়ে এলেন। ঘরের মধ্যে এসি আছে কিন্তু সেটা তিনি বন্ধ করে রেখেছেন।

এসি চললেই তাঁর একটা ভীষণরকম অস্বস্তি হচ্ছে। অথচ গরম থেকে বাঁচতে এসিতে তাঁর ভালো থাকারই কথা। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেটা হচ্ছে না। 

রমেন সাহা দরজা বন্ধ করে রাস্তায় এলেন। এখন  একটা বাজে।

হঠাৎই তাঁর মাথাটা ব্যথা করতে লাগল।  আবার সঙ্গে সঙ্গে একটা শান্তির অনুভূতি। অদ্ভুত পরিস্থিতি।

রমেন সাহা হাঁটতে লাগলেন। অনেকটা পথ অতিক্রম করে আসার পর তিনি দেখতে পেলেন সামনে একটা কুকুর দাঁড়িয়ে আছে। 

রমেন সাহা সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গিয়ে কুকুরটার কাছে গেলেন। কুকুরটা কোনও আওয়াজ না করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। তার গা থেকে একটা অদ্ভুত গন্ধ বেরোচ্ছে।

গন্ধটা রমেন সাহাকে নাড়িয়ে দিল। তিনি হাঁটু গেড়ে বসে কুকুরটার মাথায় হাত বোলালেন।

এবার আশ্চর্যজনকভাবে গন্ধটা নেই।

কুকুরটা কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে তারপর হাঁটতে লাগল আর ইশারায় রমেন সাহাকে ডাকতে লাগল।

রমেন সাহা কুকুরটাকে অনুসরণ করে একটা বাড়ির সামনে গেলেন।

সঙ্গে সঙ্গে একটা চিৎকার ভেসে এলো," ওরে বাবা! এ আমাদের কি হল রে ? "

গলার আওয়াজ শুনে রমেন সাহা বুঝতে পারলেন এই কন্ঠ তাঁর পরিচিত। এটা ছুটির গলা।

এতরাতেও শ্রুতি নাটকের রিহার্সাল দিচ্ছে ! 

হঠাৎ করে কুকুরটা লাফাতে লাগলো। রমেন সাহার অস্বস্তি বেড়ে গেল। তিনি ফিরে যাবেন মনস্থ করেছেন কিন্তু তার আগে কুকুরটা তাঁর পথ আটকে দাঁড়ালো। কিছুতেই তাঁকে যেতে দেবে না।

এইসময় রমেনবাবু দেখলেন এক ভদ্রলোক ভদ্রমহিলা সুটকেস নিয়ে এগিয়ে আসছে। তারা বেরিয়েছে ছুটিদের বাড়ি থেকেই। 

কুকুরটা হঠাৎ থেমে গেল। রমেন সাহার পথ থেকে সরে দাঁড়াল।

দূর  থেকে ভদ্রলোককে দেখে রমেন সাহা সঙ্গে সঙ্গে তাকে চিনতে পারলেন অথচ ইতিপূর্বে কোনওদিন তাকে দেখেননি!

রমেন সাহার মুখ থেকে বেরিয়ে এলো,"  কাজ শেষ করে এসেছ ঠিকই কিন্তু যেতে পারবে না। "

ভদ্রমহিলা মিষ্টি গলায় বললেন," আমরা এই বাড়ির অতিথি। এখন ফিরে যাচ্ছি। "

" এখন ফেরার কোনও বাস ট্রেন নেই মন্টু। "

ত্রিলোচন দাস চমকে উঠল। দিব্যি এতক্ষণ ভদ্রলোক সেজে ছিল। হঠাৎ করে 'মন্টু' এসে সব গন্ডগোল করে দিল। প্রথম জীবনে ত্রিলোচন যখন ডাকাতি শুরু করেছিল তখন তার নাম ছিল মন্টু। ' মন্টু ডাকাত ' বলে সবাই জানত। তারপর নাম পাল্টে ফেলে। 

" ফলা, তোর ড্রাগের ব্যবসা তো দেখছি  ভালই চলছে," আরেকটা কণ্ঠস্বর শোনা গেল। মহীয়সী।

মনিরা চমকে উঠে বুঝতে চাইলো এই ' ফলা ' নামটা কে বলল। ড্রাগের ব্যবসা মনিরা শুরু করেছিল একদম কম বয়সে। তখন তার নাম ছিল ফলা। তারপর সে নাম পাল্টে ফেলেছে।

মাছের ব্যবসার আড়ালে এখনও সে ড্রাগের ব্যবসা করে।

মনিরা আর দেরি করল না। একটা পিস্তল বার করে বলল," রাস্তা থেকে সরে যাও নাহলে গুলি করব। "

ত্রিলোচন ওরফে মন্টু সেও পিস্তল বার করেছে। 

এবার কুকুরটা চিৎকার করে উঠল।

মন্টু গুলি চালিয়ে দিয়েছে । সঙ্গে সঙ্গে কুকুরটা মনিরাকে লক্ষ্য করে ঝাঁপিয়ে পড়ল। মনিরার হাত থেকে পিস্তলটা পড়ে গেল।

রমেন সাহা আর মহীয়সী হঠাৎ ছিটকে পড়লেন মাটিতে। আর তাদের দুজনের দেহ থেকে একটা খুদে অবয়ব ছিটকে বেরিয়ে এসে বৃহৎ আকার ধারণ করল। 

মন্টুর গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। অবয়বটা এবার মন্টুকে তাড়া করল। মনিরা ' ও মা গো ' চিৎকার করে পালাল স্বামীর সঙ্গে।


একদিন পর 


রমেন সাহা আর মহিয়সী হাসপাতালে ভর্তি।

তাঁরা চোখ মেলে দেখলেন সামনে ছুটি এবং তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাঁড়িয়ে। 

ছুটি হাততালি দিয়ে উঠল। তারপর বলল," আপনাদের জন্যই আমরা এযাত্রায় রক্ষা পেলাম। "


রমেন সাহা আর তাঁর বউ হাসলেন। কিন্তু কেন তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি সেটা জিজ্ঞেস করতে পারলেন না।

আসলে তাঁদের আগের দিনের শুধুমাত্র রোমহর্ষক ঘটনার স্মৃতিটুকু লোপ পেয়েছে। ঘটনার পূর্ব মুহূর্তের স্মৃতি অবশ্য ঠিকই আছে।




                                  সমাপ্ত 


গল্পটা এখানেই শেষ