The fire of dormant love in Bengali Love Stories by Lamisa Anjum books and stories PDF | সুপ্ত প্রেমের আগুন - 32

Featured Books
Categories
Share

সুপ্ত প্রেমের আগুন - 32

সকালের সেই হাসি-ঠাট্টা শেষ হতে না হতেই ঘরের ভেতরে যেন একেবারে নতুন যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।

রাশিক এখন রুমের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে—কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকলেও তার অবস্থা এমন, যেন তাকে কেউ মাটিতে গেঁথে দিয়েছে।

সে নড়তেই পারছে না।আসলে “নড়তে পারছে না” বললে পুরোটা বোঝানো হয় না…সত্যি কথা হলো—ওকে নড়তে দেওয়াই হচ্ছে না।

কারণ চারদিক থেকে চারজন তাকে এমনভাবে চেপে ধরেছে, যেন সে কোনো বড় অপরাধী আর এরা চারজন পুলিশ হয়ে তাকে ধরে ফেলেছে।

ঐশী তার ডান হাতটা শক্ত করে জাপটে ধরে আছে।সাদ ধরে আছে বাম হাত।লাইবা দুই হাতে শক্ত করে ধরে আছে তার ডান পা।আর রাইশা—লজ্জায় মুখ নিচু করে হলেও—ধরে আছে তার বাম পা।

রাশিকের অবস্থা এমন হয়েছে যে সে যদি একটু নড়তেও চায়, সঙ্গে সঙ্গে চারজনের টানাটানিতে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে।

একটু আগেই সাদ্দিকের ফোন এসেছিল।ওপাশ থেকে উত্তেজিত গলায় বলছিল—
“আজ কিন্তু দেরি করা যাবে না। আজ আমাদের ফেয়ারওয়েল। ইউনিভার্সিটির শেষ দিন!”

এই ফেয়ারওয়েলটা ছিল রাশিক চৌধুরীর—
এই বছর সে গ্রাজুয়েশন শেষ করছে। এতদিনের ইউনিভার্সিটি জীবন আজ শেষ হয়ে যাবে। চার বছরের হাসি, ঝগড়া, পড়াশোনা, বন্ধুত্ব—সবকিছু যেন আজ বিদায় নিচ্ছে।

সাদ্দিক যখন ফোনে কথা বলছিল,তখন আশেপাশেই ছিল ঐশী, লাইবা আর রাইশা।তিনজনই চুপচাপ ছিল ঠিকই,কিন্তু কান দুটো ছিল পুরো খাড়া। তাদের যা শোনার শোনা হয়ে গিয়েছে। ফোন কেটে রাখার আগেই তারা সব শুনে ফেলেছিল।

সাদ্দিক ফোনটা নামাতেই তিনজন একসাথে তার সামনে এসে দাঁড়াল।“আমরাও যাব।”
প্রথমে বলল লাইবা।
তারপর রাইশা চোখ বড় করে বলল—
“ইউনিভার্সিটির ফেয়ারওয়েল! এত বড় অনুষ্ঠান! আমরা দেখতে চাই?”

ঐশী কিছুক্ষণ চুপ করে ছিল।তার চোখে কৌতূহল, মুখে হালকা হাসি।ধীরে ধীরে সে বলল—
“আমাদের নিয়ে যেতে হবে।”

সাদ একটু হতভম্ব হয়ে গেল।
“তোমরা পাগল নাকি? এটা কিন্তু ইউনিভার্সিটির ফেয়ারওয়েল।আমার না হলে পার্টি হবেই না!”
সত্যিই তাই। এতোক্ষণ ধরে সাদ দরজার পিছনে থেকে সব শুনছিল, যেই যাওয়ার কথা হয়েছে, এমনই দরজার পিছনে থেকে বেড়িয়ে এলো, খাতায় তার নাম টাও অ্যাড করতে হবে। 

ঐশী, লাইবা আর রাইশা—
তিনজনই মাত্র স্কুলের মেট্রিক পরীক্ষা শেষ করেছে।
স্কুল জীবনের স্মৃতি তখনো তাদের মাথায় ঘুরছে।

অন্যদিকে সাদ—চৌধুরী পরিবারের ছোট ছেলে—
সে এখন কলেজের থার্ড ইয়ার।আর রাশিক—তাদের বড় ভাই—আজ তার ইউনিভার্সিটির শেষ দিন।কিন্তু এসব যুক্তি
ঐশী আর তার দুই বান্ধবীর কাছে কোনো ব্যাপারই না।

ঐশী হাত কোমরে দিয়ে বলল—
“আমরা তাহলে যাচ্ছি।”
লাইবা মাথা নাড়ল—
“হ্যাঁ, এটা ফাইনাল।”
লাইবা শুধু একটু হেসে বলল—
“আমাদের নিয়ে যেতেই হবে।”
ঐশী—
চলো অনেক টা টাইম ওয়েস্ট হয়েছে। রেডি হয়েনি। 
সাদ—
আমার কি আর চেঞ্জ করতে হবে, ঠিক আছি তো। 

রাশিক বুঝে গেল—
এই চারজন যদি একবার জেদ ধরে,তাহলে আর রক্ষা নেই।
সামনে দাঁড়িয়ে আছে চারটা ঝড়।আর সেই ঝড়ের নাম—
ঐশী, সাদ, লাইবা আর রাইশা। 

সরাশি একটু বিরক্ত হয়ে গম্ভীর গলায় বলল—
“এই! তোমরা কি করছো? ছাড়ো আমাকে!”

কিন্তু কেউ ছাড়ল না।বরং সবাই আরও শক্ত করে ধরল।
রাশিক আবার বলল—
“আমি শেষবারের মতো বলছি—ছাড়ো! আমি কোথাও নিয়ে যাচ্ছি না তোমাদের!”

কিন্তু তার কথায় যেন কারও কানে একটুও গেল না।ঐশী মুখটা একটু কাত করে এমন একটা দুঃখী চেহারা বানাল, যেন পৃথিবীর সব দুঃখ তার কাঁধে এসে পড়েছে।
তারপর নরম গলায় বলল—
“ভাইয়া… প্লিজ! আমরা তো কোনো দিনও আপনার ইউনিভার্সিটিতে যাইনি। একবার নিয়ে চলেন না?”
সে এমনভাবে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে—যেন রাশিক এখনই রাজি না হলে সে কান্না করে ফেলবে।

রাশিক ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
“না মানে না। ইউনিভার্সিটি কি পিকনিক স্পট নাকি?”
লাইবা সাথে সাথে মুখ বাঁকিয়ে বলল—
“আহা ভাইয়া! আপনি না খুব ভালো। আমরা বাসায় বসে বসে একেবারে বোর হয়ে যাচ্ছি।”

বলেই সে রাশিকের পা একটু ঝাঁকিয়ে দিল।
রাশিক সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে উঠল—
“এই! পা ছাড়ো আগে!”
লাইবা নির্বিকার মুখে বলল—
“না ছাড়ব না।”

রাশিক হতবাক হয়ে তার দিকে তাকাল।এমন সময় সাদ মুচকি হাসল।তার চোখে স্পষ্ট দুষ্টুমি।সে একটু ঝুঁকে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল—
“ভাইয়া, আমাদের নিয়ে চলেন। আমরা কিন্তু আপনাকে আর রাইশাকে একা ছেড়ে দেব… একটুও ডিস্টার্ব করবো না।”

কথাটা বলা মাত্রই ঘরের ভেতর কয়েক সেকেন্ডের জন্য নিস্তব্ধতা নেমে এল।তারপর—রাশিকের মুখের ভাব মুহূর্তেই বদলে গেল।তার ভ্রু কুঁচকে গেল।চোখ ছোট হয়ে এল।

সে দাঁত চেপে বলল—
“সাদ… বেশি কথা বলিস না।”

তার মাথার ভেতর তখন যেন আগুন জ্বলছে।মনে মনে ভাবছে—এই চারটাকে যদি এখনই ছুড়ে বাইরে ফেলে দিতে পারতাম!

ঐশী আর লাইবা তখন মুখ চেপে হাসছে।ঐশী ফিসফিস করে বলল—
“দেখলি? ভাইয়ার মেজাজ চড়ে গেছে।”

লাইবা দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল—
“তাই তো বলছি… এখন শেষ অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে।”

তারপর দুজনেই ধীরে ধীরে রাইশার দিকে ঝুঁকে পড়ল।রাইশা তখনও নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।তার হাত এখনো রাশিকের পায়ে।

ঐশী ফিসফিস করে বলল—
“রাইশা… তুই বল।”

লাইবা মাথা নাড়ল—
“হ্যাঁ, তুই বললে ভাইয়া রাজি হয়ে যাবে।”

রাইশা অবাক হয়ে তাদের দিকে তাকাল।
“আমি? আমি কেন?”

ঐশী হেসে বলল—
“কারণ তোর কথায় ভাইয়া না বলতে পারবে না।”
এই কথা শুনে রাইশার মুখ আবার লাল হয়ে উঠল।সে তাড়াতাড়ি চোখ নামিয়ে ফেলল।মনে মনে সে বলতে চাইল—
ও গো… নিয়ে চলো তোমার শালী আর শালাদের! না হলে এরা আমাকে বাঁচতে দেবে না!

কিন্তু কথাগুলো মুখ পর্যন্ত এসে থেমে গেল।গলা যেন শুকিয়ে গেছে।একটা শব্দও বের হলো না।সে শুধু মাথা নিচু করে বসে রইল।তার গাল দুটো লাল হয়ে উঠেছে।

আবার রাশিকের ফোনটা বেজে উঠল।রুমের ভেতরের হৈচৈয়ের মাঝেও ফোনের রিংটা পরিষ্কার শোনা গেল।
রাশিক পকেট থেকে ফোনটা বের করল।

স্ক্রিনে নামটা দেখতেই তার ঠোঁটের কোণে একটা ছোট্ট, অজান্তে ফুটে ওঠা হাসি দেখা গেল।এমন একটা হাসি—যেটা সে চাইলেও লুকাতে পারে না।

কয়েক সেকেন্ড স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থেকে সে কলটা রিসিভ করল।কিন্তু চারজনের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বললে তো শান্তি নেই।তাই সে একটু সরে গেল—ঘরের কোণার দিকে, যেন ওদের গুলমাল থেকে একটু দূরে গিয়ে কথা বলতে পারে।

ফোনটা কানে নিয়ে সে ধীরে বলল—
“হ্যালো…”

ফোনের ওপাশ থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এল।গভীর… ভারী… অদ্ভুত স্থির একটা কণ্ঠ।এই কণ্ঠে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো বাড়াবাড়ি নেই—কিন্তু একটা অদ্ভুত শক্তি আছে।
যেন মানুষটা কথা না বললেও সবাই বুঝে যায়—এই মানুষটার উপস্থিতিই আলাদা।তার গলার স্বরটা এমন, যেন ধীরে ধীরে বাজতে থাকা বজ্রের মতো—শান্ত কিন্তু ভয়ংকর দৃঢ়।
এই কণ্ঠে একটা অদ্ভুত মাধুর্য আছে, আবার এমন একটা দৃঢ়তা আছে যা শুনলে মনে হয়—এই মানুষটা তার কথা খুব সহজে বদলায় না।তার প্রতিটা শব্দ পরিষ্কার, গভীর এবং ভারী।

ফোনের ওপাশ থেকে সে বলল—
“রাশিক…”

শুধু নামটা উচ্চারণ করল, কিন্তু তাতেই বোঝা গেল—এই কণ্ঠের মালিক সাধারণ কেউ নয়।
রাশিক হালকা হেসে বলল—
“হুম, বল।”

ঠিক তখনই ঐশী আবার দৌড়ে তার কাছে এসে দাঁড়াল।
সে আবার অনুনয় ভরা গলায় বলল—
“প্লিজ ভাইয়া… নিয়ে চলো না!”

তার কণ্ঠে এমন একটা মিষ্টি আবদার—যেটা শুনলে যে কেউ একটু হলেও নরম হয়ে যায়।

ফোনের ওপাশে থাকা মানুষটা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর ধীরে বলল—
“ঐশী আছে তোর কাছে?”

তার কণ্ঠে কৌতূহল।
যেন সে খুব সহজেই বুঝে ফেলেছে—এই মিষ্টি সুর কোনো ছোট বাচ্চার নয়, তারই অষ্টাদশীর।

এটা একটা অষ্টাদশী মেয়ের স্বাভাবিক কোমল কণ্ঠ।
রাশিক একটু হেসে বলল—
“হুম,আমি ওর রুমেই আছি।”

ওপাশ থেকে লোকটা বলল—
“কি হয়েছে?”
রাশিক এবার সব খুলে বলল।
ঐশী, লাইবা, সাদ আর রাইশা—চারজন মিলে তাকে ধরে বসে আছে।তারা সবাই তার সাথে ইউনিভার্সিটিতে যেতে চায়।
কিন্তু সে রাজি হচ্ছে না।

সব শুনে ফোনের ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা নেমে এল।
তারপর লোকটা হালকা হেসে বলল—
“তাই নাকি, তো নিয়ে আই আমার হবু বউ এর, অনেক দিন দেখিনি, তোর ভাবিকে, এই বয়সে আর একা থাকা যায়?”

রাশিক বিরক্ত গলায় বলল—
“হ্যাঁ। চারটা ঝড় একসাথে।”

লোকটা আবার কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
তারপর শান্ত গলায় বলল—
“ঐশী আছে তো?”

রাশিক বলল—
“হ্যাঁ।”
লোকটা ধীরে বলল—
“ঐশীকে নিয়ে আই।”

রাশিক অবাক হয়ে বলল—
“শুধু ঐশী?”

ওপাশ থেকে উত্তর এল—
“না… সবাইকে নিয়ে আই, ওর মধ্যে আবার তোর বউ ও আছে।”

তার কণ্ঠে অদ্ভুত শান্তি।
“দেখি তো… বউ টা কেমন রোগা হয়ে গিয়েছে, নিয়ে আয়।”

রাশিক কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর হালকা হেসে বলল—
“হ্যাঁ রে ভাই আমি থাকতে ওর বিয়ে আর কারোর সাথে দেব না, ঠিক আছে।”

ওপাশ থেকে আবার কন্ঠ টা শোনা গেল—
"তুই বলিস আর না বলিস, ফ্যামেলি রাজি থাকুক বা না থাকুক, আর সব থেকে বড় কথা আমার বউ রাজি থাকুক বা না থাকুক বিয়ে তো আমি ওকেই করবো"

ঐশী ইতিমধ্যেই বুঝে গিয়েছে—ফোনের ওপাশের কণ্ঠটা কার।
সেই কণ্ঠ…গভীর, ভারী, অদ্ভুত শান্ত—কিন্তু ভেতরে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য একটা শক্তি।এই কণ্ঠটা সে হাজার মানুষের ভিড়ের মাঝেও চিনে নিতে পারবে।
কারণ এই কণ্ঠ শুধু তার কানে নয়—তার হৃদয়ের গভীরেও বাসা বেঁধে আছে।

কথাগুলো শুনতে শুনতে হঠাৎ ঐশীর বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল।লোকটার প্রতিটা কথা যেন তার হৃদয়ের ভেতরে গিয়ে আঘাত করছে।
এই কথাটা শোনার পর থেকেই ঐশীর ভেতরে অদ্ভুত একটা অনুভূতি জন্ম নিল।তার চোখের কোণে ধীরে ধীরে কান্না কান্না ভাব জমে উঠল।সে মাথা নিচু করে ফেলল।কেউ যেন তার চোখের ভেতরটা দেখতে না পায়।তার মনে একের পর এক প্রশ্ন জাগতে লাগল।

তার কল্প পুরুষ…
যাকে সে এতদিন নিজের স্বপ্নে এঁকে রেখেছে…
যার কথা ভাবলেই তার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে কেঁপে ওঠে…সে কি অন্য কাউকে ভালোবাসে?তাহলে…

তাকে কেন কিস করেছিল?
কেন তার চোখের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টি তে ভেজার কারন এতো রাগ দেখিয়ে ছিল। 
কেন তার উষ্ণ ঠোটে সেই মায়াভরা চুমুটা এঁকে দিয়েছিল?
ঐশীর বুকের ভেতরটা হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল।তার ছোট্ট অষ্টাদশীর মনটা এমনিতেই খুব নরম।ভালোবাসা কি, বিশ্বাস কি—এইসব অনুভূতি সে এখনও পুরোটা বুঝে উঠতে পারেনি।
তবু সে বিশ্বাস করেছিল।

পুরো মন দিয়ে বিশ্বাস করেছিল।কিন্তু আজ…
আজ তার মনে হচ্ছে যেন সেই বিশ্বাসের আকাশে ধীরে ধীরে কালো মেঘ জমছে।তার চোখের কোণে ছোট ছোট জলের বিন্দু চিকচিক করছে।সে তাড়াতাড়ি চোখ নামিয়ে নিল।
কারণ সে জানে—

যদি এখন কেউ তার চোখের দিকে তাকায়…
তাহলে বুঝে যাবে—তার হৃদয়ের ভেতরে কি ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
ছোট্ট অষ্টাদশীর মনে আজ অদ্ভুত এক মেঘ জমেছে।সেই মেঘটা খুব ভারী…খুব নীরব…আর সেই মেঘটা কখন যে বৃষ্টির রূপ নিয়ে ঝরে পড়বে—ঐশী নিজেও জানে না।

ফোনটা কেটে গেল।রাশিক ধীরে ঘুরে দাঁড়াল। ঐশী কে পিছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রাশিক অবাক হয়ে গেল, ঐশীর চোখের দিকে তাকিয়ে রাশিকের বুক কেঁপে উঠল। 

সাদ অধৈর্য হয়ে বলল—
“কি হল?”

রাশিক কয়েক সেকেন্ড চুপ করে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকল।
তারপর ধীরে বলল—
“চলো… সবাই রেডি হও।”

লাইবা অবাক হয়ে বলল—
“মানে?”

রাশিক ছোট্ট হাসি দিয়ে বলল—
“আজ তোমরা সবাই আমার সাথে ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছ।”
কথাটা শুনতেই রুমের ভেতর আনন্দে চিৎকার পড়ে গেল।

আর রাশিক মনে মনে ভাবল—
আজ ইউনিভার্সিটিতে সত্যিই ঝড় উঠবে।

রাশিক ঐশীর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলো—"কি হয়েছে ঐশু"
ঐশী—"কিছু না ভাইয়া"
রাশিক—"চোখে পানি যে, ঐশু রানির"
ঐশী—"কে কল করেছিল ভাইয়া, আযলান ভাই"
ঐশীর মুখে আযলান নাম শুনবে রাশিক ভাবতেই পাড়েনে, রাশিক হইতো বুঝতে পেড়েছে,ঐশীর চোখে পানি আসার কারণ। 
রাশিক—"হু, তাড়াতাড়ি রেডি হও, বেড় হব সবাই"
ঐশী—"আমি যাবনা ভাইয়া, ভালো লাগছে না"
রাশিক আস্তে করে ঐশীর মাথাটা নিজের বুকের সাথে ঠেকায় "তুমি হয় তো কাউ কে ভুল বুঝছো,না জেনে না শুনে কোনো কিছু ভাববে না,যাও রেডি হও"

Happy Reading☺
To Be Continue😅