তিতাস নদী.

(14)
  • 15
  • 0
  • 5k

ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের গ্লাসটা সবেমাত্র ঠোঁটে ছুঁইয়েছেন মদন কাকা, ঠিক সেই মুহূর্তে কাউন্টারের ওপর সজোরে একটা থাপ্পড় পড়ার শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। "কী কাকা? কালকের কথাটা মনে আছে, নাকি বয়সের দোষে ভুলে মেরে দিয়েছ?" পাড়ার বখাটে ছেলে রতনের কর্কশ গলার আওয়াজে চায়ের দোকানের বাকি দু-তিনজন খদ্দেরও চমকে ওঠে। এমনকি বেঞ্চের নিচে শুয়ে থাকা কুকুরটাও কান খাড়া করে উঠে বসে।

1

তিতাস নদী - পর্ব 1

ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের গ্লাসটা সবেমাত্র ঠোঁটে ছুঁইয়েছেন মদন কাকা, ঠিক সেই মুহূর্তে কাউন্টারের ওপর সজোরে একটা থাপ্পড় পড়ার কেঁপে ওঠে চারপাশ।"কী কাকা? কালকের কথাটা মনে আছে, নাকি বয়সের দোষে ভুলে মেরে দিয়েছ?" পাড়ার বখাটে ছেলে রতনের কর্কশ গলার আওয়াজে চায়ের দোকানের বাকি দু-তিনজন খদ্দেরও চমকে ওঠে। এমনকি বেঞ্চের নিচে শুয়ে থাকা কুকুরটাও কান খাড়া করে উঠে বসে।মদন কাকা ভয়ে ভয়ে হাত জোড় করেন। "বাবা রতন, বিশ্বাস কর, এই ক'দিনে বেচাকেনা একদম নেই। মেয়ের ওষুধের টাকাটা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি। আমাকে আর ক'টা দিন সময় দে বাবা।"রতন দাঁত খিঁচিয়ে ওঠে। "তোর মেয়ের ওষুধ কেনার জন্য আমাদের ক্লাবের কাজ আটকে ...Read More

2

তিতাস নদী - পর্ব 2

বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যা। কালচে মেঘগুলো চারিপাশ ঘিরে রেখেছে। টিপটিপ বৃষ্টি নিরন্তর ঝমঝমে হয়ে মাটিতে পড়ছে। মাঝেমধ্যে বিদ্যুতের চটক আলো চারিদিকে আলোকিত করে পর মুহূর্তে গর্জন করে নিজের উপস্থিতির জানান দেয়। চারপাশে দোকানের ঝাঁপ প্রায় সব নামানো। কোথাও দূরে বাজ পড়ার শব্দ, কোথাও টিনের চালের ওপর বৃষ্টির অবিরাম টুপটাপ। রাস্তায় প্রায় লোক নেই।কলেজ আর টিউশন শেষ করে ফিরতে ফিরতে অনেক দেরি হয়ে যায় তিতাসের। বৃষ্টি বাড়তে থাকায় বাধ্য হয় শর্টকাট ধরতে। গলিটা অন্ধকার। দুপাশে দেয়াল। দূরে কেবল একটা স্ট্রিট ল্যাম্পের মৃদু আলো। কোনোমতে দুজন ব্যক্তি যাবার মতন রাস্তা। তিতাস ছাতাটা এতটাই নিচু করে ধরে আছে যে সামনের পথটুকুও ঠিকমতো দেখা ...Read More

3

তিতাস নদী - পর্ব 3

রুদ্র সবে মাত্র সামনে পা বাড়িয়েছে। তিতাসের কথা শুনে থমকে দাঁড়ায়। পেছন ঘুরে সে সামান্য হাসে।ভ্রু দুটো সামান্য কুঁচকে সুরে বলে, "ওহ! তাহলে কথা বলতে পারো দেখছি! যাক, গলা দিয়ে অন্তত আওয়াজ বেরোয় তাহলে। আমি তো ভাবলাম বোবা-টোবা নাকি! তা এই গলাটা এতক্ষণ কোথায় ছিল? বিকাশ যে টিজ করছিলো আপনাকে সেটা নিশ্চই বুঝতে পেরেছেন! তাহলে টু শব্দ করলে না কেন?"তিতাস ঘাবড়ে এদিক -ওদিক দেখে। 'কী বলবো আমি? পারি না তো! লোকের সামনে গেলে ঠান্ডা হয়ে আসে হাত-পা। কী বলবো বুঝি না। ভয় করে আমার।'তিতাসকে চুপ করে থাকতে দেখে রুদ্র মাথা নাড়ে। সে একপ্রকার ডিসাপয়েন্টেড। অন্তত এখন সে ভেবেছিলো তিতাস ...Read More

4

তিতাস নদী - পর্ব 4

রুদ্র তিতাসকে চোখের ইশারায় অটোতে উঠতে বলে। তিতাস কথা না বাড়িয়ে গুটিগুটি পায়ে অটোতে গিয়ে বসে। ছাতাটা বন্ধ করে রাখে।"শোনো, অটোতে বসে আগে বাড়িতে ফোন করে জানাও যে তুমি অটো পেয়ে গেছ। যাতে ওনারা চিন্তা না করে।"একটু থেমে রুদ্র আবার বলে, "আর রাস্তায় যদি কোনো সমস্যা হয়, বা ভয় লাগে, আমাকে ফোন করে নিও।" বলে রূদ্র ভুরু তুলে কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা করে তিতাসকে। 'আশাকরি মেয়েটা বুঝতে পারছে। দেখে তো মনে হচ্ছে না যদিও।'তিতাস বুঝতে পারে, এটা রুদ্রর একটা চাল। তাকে নিরাপদ রাখতে এই অভিনয়টা করতে বলছে লোকটা। সে শুধু বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।অটোটা স্টার্ট নেয়। ...Read More

5

তিতাস নদী - পর্ব 5

তিতাস একা দাঁড়িয়ে থাকে ঘরের মাঝখানে। আলমারিটা খুলে নীল শাড়িটার দিকে তাকায় সে। শাড়ির ভাঁজে যেন ওর সব ইচ্ছেগুলো পড়ে যাচ্ছে।কাল রাস্তায় সেই অচেনা লোকটা কেমন জোর গলায় আমাকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর কথা বলছিল! আর আমি? নিজের বাড়িতে একটা ছোট্ট 'না' বলার সাহস পাই না। আমার মতো ভীতু মেয়ের কপালে যে কী আছে কে জানে! তিতাস একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শাড়িটা হাতে তুলে নেয়।বসার ঘরের মাঝখানে নীল সিল্কের শাড়িটা পরে আড়ষ্ট হয়ে বসে আছে তিতাস। শাড়ির আঁচলটা আঙুলে পেঁচিয়ে ধরে আছে, যেন ওটাই ওর একমাত্র খড়কুটো। ওর ঠিক উল্টোদিকে সোফায় বসেছে পাত্রপক্ষ।ছেলেটি, যার নাম কৌশিক, একদৃষ্টে মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে আছে। ...Read More

6

তিতাস নদী - পর্ব 6

'লোকটা এখানেও!'মুহূর্তের মধ্যে তিতাসের মনে সন্দেহ জাগে। লোকটা কি তাকে ফলো করছে?সন্দেহটা যত জোরালো হয়, তত নিজের ওপর বিরক্ত তিতাসের। কারণ ভয় পাওয়ার কথা থাকলেও ঠিক সেটা হচ্ছে না। বরং রুদ্রকে সামনে দেখামাত্র বুকের ভেতরটা কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়।ধক ধক! ধক ধক!হৃৎপিণ্ডটা যেন নিজের ইচ্ছেমতো দৌড়াতে শুরু করে। চোখ সরিয়ে নেওয়া উচিত, তবু পারে না তিতাস। অদ্ভুত এক টানে বারবার চোখ চলে যায় রুদ্রর দিকে।কয়েক মুহূর্ত আগে ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় ওর বুকের ওপর গিয়ে পড়েছিল সে। রুদ্রর চওড়া বুকের স্পর্শটা যেন এখনও আঙুলের ডগায় লেগে আছে। মনে পড়তে গাল দুটো আপনাআপনি গরম হয়ে ওঠে। লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলতে ...Read More