মুখার্জী বাড়িতে সারাক্ষণ যেন হৈচৈ চলছে। মেজভাই তপনবাবুর একমাত্র মেয়ে নীরার জন্য পাত্র খোঁজা শুরু হয়েছিল। এম এ পাশ করে বি এড পড়ছে নীরা, বাড়ির সবার আদরের তুলি। যৌথ পরিবারের হাওয়া এখনও ঘোরে এবাড়িতে। বড়সড় সিদ্ধান্ত নিতে বড়ভাই স্বপনবাবুর মতই মানা হয়। তা ওনার মত হল, এখন থেকে খোঁজ খবর হোক না। লাখ কথা না হলে তো আর বিয়ে হচ্ছে না। সেটাও ঠিক। এই যে স্বপনবাবুর বড় ছেলে পুপুলের বিয়ে হল গতবছর, পাক্কা দুটি বছর ধরে পাত্রী দেখা চলেছে। রিটায়ার করেছিলেন বলেই সম্ভব হয়েছিল। প্রায় প্রায় রবিবার গিন্নি আর দুই ভাইয়ের বৌকে নিয়ে মেয়ে দেখতে যাওয়া।
পরাণ বঁধুয়া - 1
পর্ব - ১মুখার্জী বাড়িতে সারাক্ষণ যেন হৈচৈ চলছে। মেজভাই তপনবাবুর একমাত্র মেয়ে নীরার জন্য পাত্র খোঁজা শুরু হয়েছিল। এম পাশ করে বি এড পড়ছে নীরা, বাড়ির সবার আদরের তুলি। যৌথ পরিবারের হাওয়া এখনও ঘোরে এবাড়িতে। বড়সড় সিদ্ধান্ত নিতে বড়ভাই স্বপনবাবুর মতই মানা হয়। তা ওনার মত হল, এখন থেকে খোঁজ খবর হোক না। লাখ কথা না হলে তো আর বিয়ে হচ্ছে না।সেটাও ঠিক। এই যে স্বপনবাবুর বড় ছেলে পুপুলের বিয়ে হল গতবছর, পাক্কা দুটি বছর ধরে পাত্রী দেখা চলেছে। রিটায়ার করেছিলেন বলেই সম্ভব হয়েছিল। প্রায় প্রায় রবিবার গিন্নি আর দুই ভাইয়ের বৌকে নিয়ে মেয়ে দেখতে যাওয়া। এদিকে তিন জায়ের ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 2
পর্ব - ২শর্মিষ্ঠা মাঝদুপুরে হুড়মুড়িয়ে এসে বড়বৌদির ঘরে ঢোকে। জানে খেয়ে উঠে এসময় তিন জা গল্পগুজব, উপন্যাস, ম্যাগাজিন নিয়ে দেয়। কিন্তু শর্মির তো দুপুরে কাজের চাপে খাওয়ার সময় হয় না এক একদিন।নিচে ওর বড়দা স্বপনবাবু দরজা খুলে দিয়েছেন। তিনিও অবাক, "তুই, এখন? মুখচোখ এরকম কেন? কি হয়েছে?"--"অনেক কথা আছে বড়দা। ঠিক যে আমার কিছু হয়েছে তা নয়। তবে আমার মনটাও ভাল নেই। তাই তোমাদের কাছে এলাম। উপরে চলো। সবাইকে একসঙ্গে বলব।"এখন বাড়িতে তিন ভাইয়ের খুবই সদ্ভাব। তবে একদিন অশান্তি হয়েছিল, আর সেটা শর্মির জন্যই। শর্মি তার বান্ধবীর দাদা অরুণেশকে বিয়ে করার জেদ ধরেছিল। নব্বইয়ের দশকে কলকাতার একদম নাকের ডগায় ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 3
পরাণ বঁধুয়াপর্ব - ৩শর্মি বলে, এখন রুমু ফিরে এসেছে বাড়িতে। বাবলি ওষুধ খেয়ে শুয়েছে। তাই ও ছুটে এসেছে এখানে। করে বলতে থাকে, সেই ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত কত কথা। স্বপনবাবু তো বটেই, বৌরাও অনেক গল্প জানে। সকলের দীর্ঘশ্বাসে বাতাস ভারি হয়ে যায়। ছেলে মেয়েরা বাড়ি ছিল না। তাই কথাটা এদের মধ্যেই থেকে গেল।সন্ধ্যায় দাদাবৌদির সঙ্গে রুমুকে নিয়ে বাবলি এল দেখা করতে। বাড়ির বড়দের সমস্ত বাৎসল্য গিয়ে পড়ল ভাগ্যতাড়িত মেয়েটির উপর। আদর যত্নের অবধি রইল না। এত আদর কেন ওর প্রতি, সত্যি না জানলেও রুমুরও অবাক লাগল না। মামা মামীর রাজকন্যা রুমু ধরে নিয়েছে মামীর বাপের বাড়িতে এত বছরে ওর ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 4
পরাণ বঁধুয়াপর্ব - ৪--"এ কি বাবলু? রুমু আমাদের পর? ছোটবেলায় কতদিন আমার কাছে, মেজোর কাছে ওকে রেখে কেনাকাটা করতে ওর বাবলি আর শর্মি। আর আজ এমন সময়ে তুমি হাতজোড় করে বলতে হবে? তোমার দাদা বলে দেওয়ার পরও?" বড়গিন্নি ধমকই দেয়।শর্মি তাড়াতাড়ি কথার হাল ধরে, "বৌদি, ও বলতে চাইছে, তোমরা রুমুকে চিরকালের জন্য তোমাদের ঘরে নিয়ে এসো। যেমন মৌকে এনেছ। আমার রুমুও খুব ভাল মেয়ে, দেখে নিও।"সবাই স্তম্ভিত, বাবলি এবার বলে, "বড়দা, তোমরা যদি রাজি হও, আমি মেয়েটার বিয়ে দেখে যেতে পারি।"--"বিয়ে দেখে মানে?" স্খলিত স্বরে বলে মেজবৌ বিদিশা। মানে বোঝেনি তা নয়, যেন স্পষ্ট করে শুনতে চায়।--"তোমরা কি বুবুনের ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 5
পরাণ বঁধুয়াপর্ব - ৫--"এই ব্যাপারে আমিও শেয়াল। তোমাদের দলের। তপন আর মোহনেরও বোধহয় একই মত। তাও এলে আমি কথা সমস্যা হল, তোমার ঐ এঁড়ে ছেলে, ও তো সিংহগর্জন ছাড়বে।" চিন্তা থাকলেও স্বপনবাবুর ঠোঁটের কোণে হাসি।--"তা তো ছাড়বেই। সিংহীর বাচ্চা তো সিংহই হবে। তবে আমি বলে দিলাম, এই মেয়েই আমার বউ করে চাই।" বড়গিন্নি রায় দিয়ে দেয়।--"শোনো, তোমাদের সবাইকে একটা কথা বলছি, বুবুন যেন কিছু না জানে। আমি আগে সবাইকে জিজ্ঞেস করি। তারপর সময় বুঝে ওর সঙ্গে কথা পাড়ব সবার সামনে। একবার বিয়েতে না বলে যথেষ্ট ঝঞ্ঝাট হয়েছে ওদের বাড়ির সঙ্গে। বাবলুর মা যতদিন বেঁচে ছিলেন, আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেননি। ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 6
পর্ব - ৬একটু পরেই চার ভাইবোন এসে যায়। রাতের জন্য রান্না সেরে তৈরি বৌরা। তুলি, মিলি ঢুকে ধপধপ করে পড়ে, ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত। পুপুলও এলিয়ে বসতে যাচ্ছিল, আরেক রাউন্ড চায়ের আশায়। ওখান থেকে বুবুনের তাড়ায় চলে আসতে হয়েছে। বাবার গলায় সোজা হয়ে বসে।--"বুবুন, একটু এখানে বোস। তোর সঙ্গে একটা কথা আছে।"বুবুন দাঁড়িয়ে পড়েছে, "বলো বাবা, শুনছি। আমি একটু কাজ নিয়ে বসব।"--"তাও এখানে বোস। মিলি, পিছনের চেয়ারে যা। বুবুন, আমার সামনে বোস। দেখ, আজ তোর মামনি, পিসো আর বাবলিপিসি এসেছিল। ওদের সবার ইচ্ছে, তোর সঙ্গে রুমুর বিয়ে দেয়। বাড়ির সবাইকে আমি জিজ্ঞেস করেছি। আমাদের সবারও ইচ্ছে। এখন তুই বল।"--"আমি বলব ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 7
পর্ব - ৭--"তোমরা সবাই আমার উপর রাগ করছ। আমাকে জিজ্ঞেস করেছ, আমি বলেছি। আমি তোমাদের কারো মতকে ছোট করতে বুবুন খুব সংকোচের সঙ্গে বলে। ওর খুব ভয় করছে। বাড়ির সবাই একদিকে, ও আর একদিকে, এমন কখনো হয়নি এতকালে। মা যদি এখন কান্নাকাটি শুরু করে, কি করবে ও? বাবা কি খুব রাগ করেছে?--"নাহ্, আমরা রাগ করিনি বুবুন। আমি অন্ততঃ রাগ করিনি। এই প্রথমবার তোমার সঙ্গে আমার মত মিলল না, তাই ভাবছিলাম। আজ কে ঠিক, কে ভুল বোঝা যাবে না। সময়ে বোঝা যাবে, দুজনেই হয়ত ঠিক ছিলাম। তোমার মা নিজের পছন্দ, ইচ্ছে, এগুলোকে খুব গুরুত্ব দেয় না, তুমি জান। সবাই যাতে ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 8
পর্ব - ৮বাপরে বাপ, সেদিন থেকে, নাক মলেছে, কান মলেছে বুবুন। কান্না কাকে বলে? বুবুন দূরে থাক, বাড়ির কেউ পারে না! বাকিরা আচ্ছাসে ওকে ঝাড়ও দিচ্ছিল, ও কি করেছে না জেনেই।রাঙাদাই বরং জিজ্ঞাসা করেছিল, হয়েছেটা কি? আমতা আমতা করে ও বলতেই এবার হাসির ধুম।মা বলল, "নিজের ভাইবোন যখন না, আমরা চললাম। পরের ভাইবোন নিজেরা মেটাক।"ও কান ধরে বৌমণির সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিল, "আর করব না, সত্যি বলছি। আর কি শাস্তি পাওনা বলো?"এমন বৌমণির সামনে সারাজীবন কান ধরে দাঁড়াতে রাজি আছে। এখনও কাজের চাপে যদি বা বলেও ফেলে, "আমি বাচ্চা ছেলে না। তোমার বসে থাকতে হবে না।" বৌমণি পেটেন্ট ডায়লগ শুরু ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 9
পর্ব - ৯--"থামো তো। আমি জানি। গল্প করতে এসেছ না ছাই। কফির খোঁজেই এসেছিলে। আমি গল্প করছি দেখে আমাকে দিতে চাইছ না।" বৌমণি উঠে পড়ে।রাঙাদা বলে, "হ্যাঁ হ্যাঁ। ওকে কফি আর কি লাগবে দাও। ওকে উঠে আসতে হবে কেন? জানো না, ওর ব্যস্ততা কত? জানো না আমাদের বাড়ির মান সন্মান সব একা ও বোঝে।"বুবুন অবাক হয়ে চেয়ে থাকে। এত রাগ ওর উপর? বাকিরাও একটু লজ্জা পেয়ে যায়। আসলে রাঙাদা এরকম। ও রাগী নয়। তবে রাগ, দুঃখ, আনন্দ যাই হোক, চেপে রাখতে পারে না। বড় দিলখোলা ওর দাদাটা। কিন্তু ছোটবেলা থেকে কখনো ওর উপর এতটুকু রাগ করেনি রাঙাদা। সে আজ ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 10
পর্ব - ১০--"তোমরা সবাই থামলে?" কড়া গলায় বলে ছোটমা। চোখের ইশারায় পুপুলকে সরতে বলে নিজে কাছে এসে দাঁড়ায়। বুবুনের হাত রেখে বলে, "বুবুন, আমাকে বল।"ছোটমা যখন বিয়ে হয়ে আসে, পুপুল সারা বাড়ি দৌড়ে বেড়ায়, আর বুবুন কোলে। ছোটমার কোলে চেপেই ওর ছোটবেলা কেটেছে। ছোটমা ওর একটু স্পেশাল। পুপুলের যেমন মেজমা। তাই ছোটমার মিষ্টি কথায় কাজ হয়।বুবুন বলে, "আমি রুমুর বাবার কথা মোটেই ভাবিনি। সেসব বলতেও চাইনি। আমি বলেছি, রুমু একা একা আদরে যত্নে বড় হয়েছে। মুম্বাইয়ের মত জায়গায় থেকেছে। তার আগেও দিল্লীতে। ও হয়তো স্মার্ট, কিন্তু একটু বেশি স্মার্ট। এটাও ঠিক, বয়সও খুব কম। ওর পক্ষে আমাদের মতো বড় ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 11
পরাণ বঁধুয়াপর্ব - ১১নিজের ঘরে দুহাতের মধ্যে মাথা রেখে পড়ার টেবিলের সামনে বসে ছিল বুবুন। কত রাত কে জানে। খাটের পাশের টেবিলে হলেও সামনের দেওয়ালে ঘড়ি আছে। এই টেবিলে ওর মোবাইল। মুখ তুলে দেখার কথাও মনে নেই। ছোটবেলায় দেখা বাবলিপিসিকে মনে আছে। পরে আরও আলোচনা হত বলে হয়তো বেশি করে মনে আছে।খুব ভালবাসত ওদের। দিল্লি থেকে এলে মামনিরা চারজন ওদের ছোটদের ঘুরতে নিয়ে যেত, যা যা কেনা আর খাওয়া বারণ ছিল, আইসক্রিম, চকলেট, প্যাস্ট্রি, সব কিনে দিত। জামাকাপড় তো নিয়েই আসত। ওরা দুভাই সিনেমা দেখেছে, যতকাল পিসিরা দেখিয়েছে।ছোট রুমুর চেহারাটা মনে নেই। দৌড়োদৌড়ি করত, ছিঁচকাঁদুনে ছিল মনে আছে। সবাই, ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 12
পরাণ বঁধুয়াপর্ব - ১২পড়ার টেবিলের কাছে এসে টেবিলটায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে বুবুন। রাত ভোর হয়ে আসছে। খোলা জানালা ঠান্ডা হাওয়া এসে সরাসরি ওর গায়ে লাগছে। শিরশিরে একটা অনুভূতি, শীত করছে ওর। ঠান্ডা হাওয়া লেগে নাকি মনের কোণায় একটা ভয় আছে বলে?জানালার সামনে এসে দাঁড়ায় বুবুন। বাবলিপিসি বা ওর বাড়ির লোকেরা কেন এই বিয়েটা চায় ও বুঝতে পেরেছে। রুমুকে নিজের স্ত্রী হিসেবে কল্পনা করতে পারেনি বটে, তবে নিজের মনে ও জানে, নিজের কাছেও কখনো নিজের বিয়ে নিয়ে আলাদা করে ভাবেনি। তবুও কি কোনো ছবি আছে ওর মনের গোপনে? কেমন হলে ওর পছন্দ হবে নিজের স্ত্রীকে?কেমন আবার? মায়ের মতো, মেজমা, ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 13
পরাণ বঁধুয়াপর্ব - ১৩ছোটমা এগিয়ে এসে বলে, "হ্যাঁ বড়দা। বুবুনকে আমাদের কারো আগে বলাই হয়নি সব কথা। কাল সব ও। যাকগে, যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন সব ভাল হচ্ছে এটাই ভাল।"--"বুবুন উঠে বোস। তোমরা তার মানে দল বেঁধে ওকে বুঝিয়েছ কাল? খুব অন্যায় করেছ। ওর সিদ্ধান্ত ওকে নিতে দেওয়া উচিত ছিল।" বাবার কথায় বুবুন আরও মুষড়ে পড়ে।--"না বড়দা, এইটে বোলো না। তোমার এই ছেলেকে না বোঝানো যায়, না আমরা কাল বুঝিয়েছি।" ছোটকা এসে ঢুকেছিল, শেষদিকের কথা শুনেছে। এগিয়ে এসে বলে, "বুবুনই আমাদের বোঝাতে এসেছিল, তখন জানাজানি হল সব কথা। তারপর বুবুন কি ঠিক করেছে, আমরা জানিও না।"--"বেশ বুঝলাম। তার ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 14
পরাণ বঁধুয়াপর্ব - ১৪--"ব্যস, ব্যস রুমু মা। এইটাই আমি শুনতে চাইছিলাম। আর আমার কিছু চাই না। আর তোমাকে আমি ফিরতে দেব না। তোমাকে আমার বাড়িতে সবসময়ের জন্য রেখে দেব। ঐ যে আমার ছেলেটা রয়েছে, ওর বৌ করে, আমাদের মেয়ে করে রেখে দেব।" স্বপনবাবুর খুশি মনের একেবারে ভেতর থেকে উঠে আসছে বোঝা যায়।মৌ এতক্ষণ চেপেচুপে ছিল। এবার এসে রুমুকে জড়িয়ে ধরে। দুপাশ থেকে তুলি মিলিও জড়িয়ে ধরেছে। বড়দের সবার মুখে হাসি। বুবুনকে জড়িয়ে ধরেছে পুপুল আর ছোটকা। বাবলির চোখের কোণায় চিকচিক করছে জল।কেউ খেয়াল করে না, রুমু স্তব্ধ, আতঙ্কিত মুখে ফ্যালফেলিয়ে চেয়ে আছে। সবার উচ্ছ্বাসের মাঝখানে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 15
পরাণ বঁধুয়াপর্ব - ১৫জীবনের এই অদ্ভুত সন্ধিক্ষণেও সাহস দেখাল বাবলিই। মেয়ের গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, "মাম্মাম সবসময় তোর কাছে থাকে তুই তো জানিস বেবি। সব মেয়েদের সঙ্গে তাদের মায়েরা থাকে। আমার মা আকাশের তারা হয়ে গেছে কতগুলো বছর। তাও মা আমার কাছে আছে। মা আমাকে যা যা শিখিয়েছে, সব আমার মনে আছে। আর সেগুলোর সঙ্গেই আমার মা আছে। তোর এই মাম্মামের মাথার ভিতরে একটা বল গজিয়েছে, দুষ্টু বল।" রুমু কান্নাভেজা বিস্ফারিত চোখ তুলে তাকিয়ে আছে। বাবলি বলে যাচ্ছে, "সেই দুষ্টু বলটাকে উপড়ে ফেলে দেব আমরা। কিন্তু সেটা বেশ বড়। তাই ডাক্তারবাবুরা একটু, এই অল্প একটু ভয় পাচ্ছেন। আর ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 16
পরাণ বঁধুয়াপর্ব - ১৬--"বুবুন আমাদের সবার সঙ্গে মানিয়ে চলে। শুনিসনি আমাদের কাছে এতকাল? ও ঠিক রুমুকে বুঝবে।" গর্বিত ভাবে মামনি।--"তোরা এভাবে ওকে প্রেশারাইজ করিস না। ইন্ডিপেনডেন্টলি ডিসিশন নিতে দে। বুবুন, তোমাকে এক্ষুণি উত্তর দিতে হবে না। আরেকটু ভাবো।" বাবলি বুবুনের মুখের কথাই শুনতে চায়।এতক্ষণে বুবুনও একটু কথা খুঁজে পেয়েছে, ও বলে, "আমাকে এভাবে বলতে তো বারণ করলাম। আমি রুমুর কথায় কিছু মনে করার আছে তা ই ভাবিনি। তবে আমার একটা কথা আছে। রুমুকে কি খানিকটা প্রেশারাইজ করা হচ্ছে না? ওকে জোর করলে সেটা আরও খারাপ হবে। একেই একটা শক লেগেছে। ওর সঙ্গে কথা বলো তুমি। ওকে একটু সময় দাও।"বাবলি ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 17
পরাণ বঁধুয়াপর্ব - ১৭ছোটকা বলে, "হয়ে গেল। বুবুন, তুইও কিসব কিনেছিলি না, তুলির বিয়ের জন্য? ঐ পরে নিজেও বিয়ে নিস। দুটো বিয়ে এক খরচে চালাচ্ছে, তাও কিপটে বুড়ো একটা পয়সা খসাবে না।"স্বপনবাবু বলে, "কে বুড়ো রে? তোর বাবা ছিল বুড়ো। এ বাড়িতে আর কেউ বুড়ো নেই।"মেজকা বলে, "এই দেখো। এরা আবার রাগারাগি করে। তার চেয়ে স্বীকার করে নাও না, বয়েস হয়েছে। তা বয়েস হলে কি সাজগোজ করব না? আমাদের তুলি, বুবুন, রুমু, এতজনের বিয়ে, আমরা সাজগোজ করব বয়স হলেও।"তীর্থর বাড়িতেও খবর দেওয়া হয়েছিল। ওরা এসে পৌঁছেছে। ঘরে ঢুকতে ঢুকতে তীর্থ বলে, "বাঃ যেই ঘরের বৌ পেয়ে গেল, এরা আমার ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 18
পরাণ বঁধুয়াপর্ব - ১৮ওদিকে ভাড়ার ক্যাবে বুবুন বসেছে ড্রাইভারের পাশে। ছোটকা, ছোটমা আর পুপুল পিছনের সিটে বসলেও মুন্ডুগুলো সামনের ঘাড়ে। তারা বুবুনকে ট্রেনিং দিচ্ছে ছোট্ট, মিষ্টি রুমুকে কিভাবে আদরযত্ন করে বুবুন ওর মন জিতে নেবে। অবশ্য দুজনের একজনকেও আভাস দেওয়া হয়নি, ওদের আজ মুখোমুখি বসিয়ে এরা কেটে পড়বে।কিছুক্ষণের মধ্যেই একটা একটু ফাঁকা ক্যাফের সামনে গাড়ি থামায় তীর্থ। ওর ইশারায় আগেই মৌ পুপুলকে ফোন করে বলে দিয়েছে, এখানে থামতে। গাড়ি থেকে সবাই নামে, হাত পা ছড়ায়। সুন্দর ছোট কোজি একটা ক্যাফে। রবিবার, বেড়ানোর দিন হলেও বিকেলেই ভিড় শুরু হয়নি এখনও। পুপুল বুবুনকে বলে, "যা না, রুমুকে ডেকে নিয়ে ভেতরে যা। ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 19
পরাণ বঁধুয়াপর্ব - ১৯চোখ সরু করে রুমু বলে, "ছোটকার না তোমার, বুদ্ধিটা? আই থিঙ্ক, নো, আই এ্যাম শিয়োর, ইটস সেইজন্য তুমি সবার আগে আমাকে নিয়ে এসে এখানে বসে পড়লে।"--"আমি তোমাকে নিয়ে আসিনি রুমঝুম। রাঙাদা ডেকেছে তোমায়, আমাকেও। তারপর ওদের ডাকতে যাচ্ছি বলে চলে গেল। সবটা তোমার সামনে হল।" বুবুন একটু অস্বস্তিতে।--"ইউ প্ল্যান্টেড হিম। তুমি ওর সঙ্গে কথা বলছিল। ইয়েস, আই রিমেম্বার। তোমরা অনেকক্ষণ কথা বলছিলে। তুমিই ওদের চলে যেতে বলেছ।"--"আমি কেন এটা করব রুমঝুম? আর বেশ তো, তোমার আমাকে অবিশ্বাস হতেই পারে। চল বাড়ি ফিরে যাই। ওরা ফিরে এলে ওদের জিজ্ঞেস করলেই সবটা জানা যাবে।" বুবুন এত অপমানিত কখনো ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 20
পরাণ বঁধুয়াপর্ব - ২০রুমুর দিকে জলের গ্লাসটা এগিয়ে দিয়ে নরম গলায় বুবুন বলে, "জল খাও। ভাল লাগবে।"রুমু মুখ তুলে এত নরম গলা শুনে।আরও গলা নামিয়ে বুবুন বলে, "আচ্ছা, আমি সরি। কিন্তু বিলিভ মি, প্ল্যানটা আমার না।"রুমু এবার জলের গ্লাসটা নেয়, ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, "জানি, তুমি না।" ঢকঢক করে জলটা খেয়ে নেয়। তারপরও বসে আছে।বুবুন একটু ইতস্তত করে বলে, "বসবে এখানে? ওদের আসতে এখনও অনেক দেরি। আমি তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে পারি।"--"তুমি বিয়েতে রাজি হলে কেন?" খুব নরম গলায় থেমে থেমে প্রশ্ন করে রুমু।বুবুন ওর চোখ থেকে চোখ সরিয়ে এদিক ওদিক তাকায়, একটা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে বলে, "তোমার ...Read More
পরাণ বঁধুয়া - 21
পর্ব - ২১দুজনেরই খাওয়া শেষ হয়। বুবুন বলে, "তাহলে কি ঠিক করলে?" নিজের কাছে ধরা পড়ে যায়, ওর বুক করছে উত্তরের অপেক্ষায়।--"বিয়ে করব। কিন্তু মাম্মাম ঠিক হয়ে গেলে আমি মাম্মামের কাছে চলে যাব। আর তোমাদের বাড়িতে থাকব না। মাম্মামের সঙ্গেই গিয়ে থাকব।"বুবুন অবাক, একটু কি চিনচিন করছে বুকের মধ্যে? তবুও ওর ভিতরের সায়েন্টিস্ট ডঃ অনীশ মুখার্জী বলে, "বেশ তো। তাই হবে। তবে নিজের স্বপ্নপূরণ করতে চাইলে তোমাকে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। তুমি মায়ের অপারেশন হয়ে গেলেই এখানে ইউনিভার্সিটিতে এ্যাডমিশন নিয়ে নাও। পড়াশোনার ব্যাপারে যা হেল্প লাগে আমাকে বোলো, আমি করব। এমনভাবে নিজেকে তৈরি করো, যাতে জীবনে কারও হেল্প ...Read More