দাঁতের ডাক্তার শিবনাথ আর তার কনস্পিরেসি-পাগল বন্ধু সুবীর মজা করে খুলে ফেলে “Private Eye Society”। আজগুবি থিওরি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতেই তারা জড়িয়ে পড়ে এক রহস্যময় মৃত্যুর তদন্তে। সমস্যা হল, তাদের বানানো থিওরিগুলো একে একে সত্যি হতে শুরু করে। জড়িয়ে পরে এই দুটো বেকুব লোক একটা অন্তর্জাতিক নিউক্লিয়ার ষড়যন্ত্রে।
প্রাইভেট আই সোসাইটি - 1
দাঁতের ডাক্তার শিবনাথ আর তার কনস্পিরেসি-পাগল বন্ধু সুবীর মজা করে খুলে ফেলে “Private Eye Society”। আজগুবি থিওরি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতেই তারা জড়িয়ে পড়ে এক রহস্যময় মৃত্যুর তদন্তে। সমস্যা হল, তাদের বানানো থিওরিগুলো একে একে সত্যি হতে শুরু করে। জড়িয়ে পরে এই দুটো বেকুব লোক একটা অন্তর্জাতিক নিউক্লিয়ার ষড়যন্ত্রে। ...Read More
প্রাইভেট আই সোসাইটি - 2
পরদিন বিকেলে আমি সুবীরের বাড়ি গেলাম।এখানে সুবীর সম্পর্কে একটু বলা দরকার। সুবীর দত্ত। আমার স্কুল, কলেজ এবং সম্ভবত পূর্বজন্মেরও রিয়ালি, আমাদের সম্পর্কটা ঠিক বলে বোঝানো যাবে না। সুবীরকে প্রথম দেখলে মনে হবে এর মতো রসকসহীন মানুষ পৃথিবীতে আর দুটো নেই। সর্বক্ষণ কপালে তিনটে ভাঁজ, নাকের ডগায় চশমা, আর মুখটা এমন গম্ভীর যেন ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ও আর হাসেনি।আর ওর নার্ভ? বাপরে বাপ! একবার স্কুলের পেছনের জঙ্গলে আমরা সাপের তাড়া খেয়েছিলাম। আমি চিল্লিয়ে পাড়া মাথায় করছি, ভয়ে আধমরা; আর ও দিব্যি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে সাপটার গতিবিধি লক্ষ্য করছিল। পরে স্যারের কাছে গিয়ে অম্লানবদনে এমনভাবে রিপোর্ট দিল ...Read More
প্রাইভেট আই সোসাইটি - 3
আমার থিওরিটা শেষ পর্যন্ত খাটেনি। সত্যি বলতে, খাটেনি বললে ভুল হবে, থিওরিটার এমন শোচনীয় মৃত্যু হয়েছে যে কোনো গোয়েন্দা আর মুখ দেখানোর উপায় নেই।লোনার লেকের ওপর ওগুলো ভিনগ্রহীদের যান ছিল না। জানা গেল, স্থানীয় কয়েকটা ছেলে মজার ছলে কয়েকটা বড় গ্যাস বেলুনের গায়ে বেগুনি রঙের টুনি লাইট বেঁধে উড়িয়ে দিয়েছিল। দূর থেকে সেগুলোকেই মনে হচ্ছিল ইন্টার-গ্যালাকটিক কোনো আকাশযান।কি কান্ড!যাই হোক, খুব দুঃখজনক ব্যাপার! আমার গোয়েন্দাগিরি করার স্কিল কোনোদিনই তেমন আহামরি ছিল না, কিন্তু দাঁত তোলার সময় মানুষের চিৎকার শুনে যতটা আনন্দ পাই, এই হারানো থিওরির জন্য তার চেয়েও বেশি কষ্ট পেলাম।সুবীর অবশ্য দমবার পাত্র নয়। ও গম্ভীর মুখে কফিতে ...Read More
প্রাইভেট আই সোসাইটি - 4
কিছুদিন পর আমার মাথায় একটা আইডিয়া এল। খুব একটা ভালো আইডিয়া নয়।এমন আইডিয়া যেটাতে কাজ করে পরে নিতান্তই হাত হয়।এবং সেটাকেই বলা যায় আমার ভবিষ্যতের দুর্দশার ‘পেশেন্ট জিরো’।এতদিন পর্যন্ত আমি আর সুবীর যা যা থিওরি বানিয়েছি, সেগুলো প্রত্যেকটাই শুধুমাত্র আমাদের চার দেয়ালের মধ্যেই রয়ে গেছে। কোনো থিওরি ভুল হলে বাইরের কেউ হাসেনি ঠিকই, কিন্তু ঠিক হওয়াতে কেউ পিঠও চাপড়ায়নি। ব্যাপারটা আমার গায়ে ঠিক চুলকানি দিচ্ছিল। মানুষের স্বভাবই তো এটা—নিজের কৃতিত্ব জাহির না করতে পারলে পেটের ভাত হজম হয় না।এটা আমার ঠিক হজম হচ্ছিলোনা।কথাটা সুবীরের কানে তোলায় ও সোফার পেছনে অলসভাবে হাতটাকে ঝুলিয়ে সিলিং-এর দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর একটা ...Read More
প্রাইভেট আই সোসাইটি - 5
‘প্রাইভেট আই সোসাইটি’।নামটা আগেই বলে রাখি আমার দেওয়া নয়। সুবীরের দেওয়া। আমার নিজের প্ল্যান ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম—‘মিস্ট্রি হান্টার্স’ বা সিন্ডিকেট’ (সুবীর অবশ্য শুনেই নাক কুঁচকে বলল, “ব্ল্যাক মার্কেট মার্কা নাম হয়ে যাচ্ছে রে শিবু”)। যাই হোক, আমার পছন্দ ছিল ওই টাইপের কিছু। বেশ একটা দমদার, মারকাটারি ব্যাপার!তা বলে ‘প্রাইভেট আই সোসাইটি’?প্রথমত, আমরা আইনত কোনো ‘প্রাইভেট আই’ বা বেসরকারি গোয়েন্দা নই। আমাদের মজ্জায় খাঁটি বাঙালি আলসেমি ঢুকে বসে আছে। রোদ-জল মাথায় নিয়ে, ছদ্মবেশ ধরে কারুর পেছনে চোরের মতো ঘুরঘুর করার কোনো সাধ আমার অন্তত এই পঁচিশ বছর বয়সে নেই। আমাদের সব থিওরি, সব কাটাছেঁড়া হয় ঘরে বসে, আরামকেদারায় পিঠ ঠেকিয়ে। ...Read More
প্রাইভেট আই সোসাইটি - 6
এটা কী রকম ব্যাপার?টিভি স্ক্রিনের দিকে প্রায় এক মিনিট হাঁ করে তাকিয়ে থাকার পর সুবীর প্রথম যে মন্তব্যটা করল, হলো— “হুঁ।”তারপর চশমাটা নাক থেকে খুলে গেঞ্জির খুঁট দিয়ে মুছতে মুছতে আরও কিছুক্ষণ বাদে বলল, “আচ্ছা, এক সপ্তাহে মহারাষ্ট্রের লোনার লেক থেকে ট্রেন বা ফ্লাইটে করে কলকাতা বন্দরে আসাটা তো এমন কিছু অস্বাভাবিক নয় শিবু। দূরত্বটা বেশি হলেও যাতায়াত ব্যবস্থা তো সচল।”আমি প্রায় খ্যাপা ষাঁড়ের মতো ফুঁসে উঠলাম, “আরে দূর মদন! লোনার লেক থেকে কলকাতা আসাটা অস্বাভাবিক নয় বুঝলাম, কিন্তু তাই বলে যেখানেই একটা রহস্যজনক ঘটনা ঘটবে, সেখানেই কি এই একই লোক কালো চশমা পরে ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকবে? এটা কেমন কথা? ...Read More
প্রাইভেট আই সোসাইটি - 7
আমি আর সুবীর থিওরি বানানোর কাজে লেগে গেলাম। এটা পোস্ট করবোই।কিন্তু শুধু যদি লিখে দিই— ‘এই লোকটাকে বারবার দু’টো জায়গায় দেখা গেছে’, তবে তাতে কোনো মজা থাকে না। পাবলিক সেটাকে স্রেফ কোইনসিডেন্স বা কাকতালীয় ঘটনা বলে উড়িয়ে দিতে পারে। আমাদের কাছে অকাট্য কোনো প্রমাণও নেই। তাছাড়া, মস্তিস্ক খাটানোর মতো এর থেকে ভালো রসদ আর কী-ই বা পেতে পারতাম আমরা? যদি আমাদের বানানো কোনো থিওরি একবার সত্যি হয়ে যায়!পরবর্তীকালে এই থিওরিগুলো আমাদের জীবনে কী যে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ডেকে আনবে, সেটা যদি সেদিন বিন্দুমাত্র টের পেতাম, তবে আমি ওই ধ্যাড়ধ্যাড়ে কম্পিউটারটা লাথি মেরে বন্ধ করে সোজা গঙ্গার জলে ফেলে দিয়ে আসতাম, ...Read More
প্রাইভেট আই সোসাইটি - 8
হ্যাঁ, ব্যাপারটা সত্যিই। একদম একশো ভাগ সত্যি।তবে আমাদের দেওয়া তিনটে থিওরির মধ্যে ঠিক কোনটা হুবহু মিলে গেছে, সেটা এক বলা যাবে না। বলা ভালো, সব কটারই একটু-আধটু অদ্ভুত খিচুড়ি তৈরি হয়েছে। ডকের ধারে মৃত ছেলেটা আসলে লি মিং নয়, ও বেঁচে আছে। যে মারা গেছে, সে হলো লি মিং-এর যমজ ভাই! দুজনে দেখতে এতটাই একরকম যে প্রথম নজরে পুলিশও ধোঁকা খেয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ওর ফ্যামিলি এসে পেটের কাছের একটা বিশেষ জন্মদাগ দেখে ডেডবডি শনাক্ত করেছে।শুধু তাই নয়, সিসিটিভি ফুটেজে নাকি দেখা গেছে—মরার আগে ওই ছেলেটি ডকের কয়েকটা কাঠের ক্রেটের আড়ালে লুকিয়ে ওত পেতে কারুর গোপন কথাবার্তা শুনছিল। তারপর ...Read More
প্রাইভেট আই সোসাইটি - 9
নমস্কার। আমি শিবনাথ ব্যানার্জী। আপনারা আমাকে চেনেন, কারণ এতক্ষণ ধরে আপনারা জানলেন কীভাবে আমি আর আমার ওই তারছেঁড়া বন্ধুটা এক মারাত্মক উটকো মরণফাঁদে জড়িয়ে পড়েছি। এখন যা বলছি, তা একদম প্রেজেন্ট টাইমের কথা।আর আমি এখন নিজের ঘরের বিছানায় একটা আধ-মরা আলুর বস্তার মতো আছাড় খেয়ে পড়ে আছি। মুখ দিয়ে একনাগাড়ে একটা ভয়ার্ত ‘গো-গো’ শব্দ বেরোচ্ছে আর মনে হচ্ছে চারপাশের চেনা পৃথিবীটা কেমন যেন তাসের ঘরের মতো চ্যাপ্টা হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে ভাবি, ওই যে ‘ফ্ল্যাট আর্থার্স’ সোসাইটির লোকেরা যারা দাবি করে পৃথিবী নাকি গোল নয়, চ্যাপ্টা—তারাই বোধহয় শেষ পর্যন্ত ঠিক ছিল জানেন তো! পৃথিবীটা সত্যি বোধহয় একটা থালার মতো ...Read More
প্রাইভেট আই সোসাইটি - 10
“ক্রিং ক্রিং ক্রিং!”অ্যালার্মের শব্দে ঘুমটা ভাঙল। চোখের পাতা খুলতেই দেখলাম সকালের একফালি নরম রোদ জানলার পর্দা গলে সোজা এসে আমার মুখের ওপর।বিছানা ছেড়ে আস্তে আস্তে উঠলাম। অদ্ভুত ব্যাপার, ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর আর মনটা কেমন যেন হালকা হালকা লাগছিল। ঠিক যেন ভোরের একটা মুক্ত পাখি, ইচ্ছে করছে এক্ষুনি ডানা মেলে কলকাতার নীল আকাশে উড়ে যাই!...এই রে, কেস খেয়েছে! আমি আবার রাতারাতি কবি হয়ে গেলাম কবে থেকে? নাকি মৃত্যুর কাউন্টডাউন শুরু হলে মানুষের ভেতরের সুপ্ত কবিসত্তা এভাবে চাগাড় দিয়ে ওঠে?না, ওসব ফালতু আবেগ ঝেড়ে ফেলে সোজা বাথরুমে গেলাম। ভালো করে হাত-মুখ ধুয়ে, টুথব্রাশ দিয়ে ঘষে ঘষে মুখটা পরিষ্কার করে ...Read More