পর্ব ১: বৃষ্টির শহরে প্রথম দেখা কলকাতা শহরকে অনেকেই ভালোবাসার শহর বলে। কেউ বলে বইয়ের শহর, কেউ বলে কফির শহর। কিন্তু আরোহী সেনের কাছে কলকাতা মানে ছিল—হাজারো মানুষের ভিড়ের মধ্যে একা হয়ে যাওয়ার শহর। সেদিন সকাল থেকেই আকাশটা কেমন যেন ভারী ছিল। সূর্যের আলো যেন মেঘের চাদরের আড়ালে আটকে পড়েছিল। দুপুরের পর থেকেই শুরু হয় টিপটিপ বৃষ্টি। তারপর ধীরে ধীরে সেই বৃষ্টি পুরো কলেজ স্ট্রিটকে ভিজিয়ে দিল।
যেখানে শুধু তুমি - পর্ব 1
পর্ব ১: বৃষ্টির শহরে প্রথম দেখাকলকাতা শহরকে অনেকেই ভালোবাসার শহর বলে। কেউ বলে বইয়ের শহর, কেউ বলে কফির শহর। আরোহী সেনের কাছে কলকাতা মানে ছিল—হাজারো মানুষের ভিড়ের মধ্যে একা হয়ে যাওয়ার শহর।সেদিন সকাল থেকেই আকাশটা কেমন যেন ভারী ছিল। সূর্যের আলো যেন মেঘের চাদরের আড়ালে আটকে পড়েছিল। দুপুরের পর থেকেই শুরু হয় টিপটিপ বৃষ্টি। তারপর ধীরে ধীরে সেই বৃষ্টি পুরো কলেজ স্ট্রিটকে ভিজিয়ে দিল।ভেজা বইয়ের গন্ধ...চায়ের দোকানের ধোঁয়া...ছাতা হাতে দ্রুত হাঁটা মানুষ...সব মিলিয়ে শহরটা যেন একটা পুরোনো কবিতা।আরোহী সেন ধীরে ধীরে হাঁটছিল।বয়স চব্বিশ।বাংলা সাহিত্য নিয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অবসর পেলেই কবিতা লেখে। ছোটবেলা থেকেই তার অভ্যাস—মনের কথা ...Read More
যেখানে শুধু তুমি - পর্ব 2
পর্ব ২: অচেনা নম্বরের রহস্যরাত তখন প্রায় একটা।ঘরের সব আলো নিভে গেছে। শুধু আরোহীর টেবিল ল্যাম্পটা জ্বলছে।বাইরে এখনও বৃষ্টি স্ক্রিনে সেই অচেনা নম্বর থেকে আসা মেসেজটা এখনও জ্বলজ্বল করছে—"মেঘলার থেকে দূরে থাকুন। ওর কাছে গেলে আপনার জীবনও বদলে যাবে।"আরোহী অনেকক্ষণ ধরে স্ক্রিনটার দিকে তাকিয়ে রইল।মেসেজটা মুছে ফেলবে?নাকি রেখে দেবে?শেষ পর্যন্ত সে মুছল না।কিছু একটা তাকে বারবার বলছিল—এই মেসেজটার সঙ্গে বড় কোনো রহস্য জড়িয়ে আছে।হঠাৎ তার চোখ পড়ল টেবিলের ওপর রাখা ছোট্ট কাগজটার দিকে।মেঘলার নম্বর।সে ফোনটা হাতে তুলে নিল।কল করবে?না করবে না?মিনিটখানেক দ্বিধার পর সে কল বাটনে চাপ দিল।রিং হচ্ছে...একবার...দুবার...তিনবার...তারপর ওপাশ থেকে খুব আস্তে একটা গলা ভেসে এল।— "হ্যালো..."গলাটা শুনেই ...Read More
যেখানে শুধু তুমি - পর্ব 3
পর্ব ৩: রায় ভিলার দরজাআকাশটা আবার কালো হয়ে এসেছে।আরোহীর হাতে এখনও সেই ছোট্ট GPS ট্র্যাকার।স্ক্রিনে একটাই লোকেশন জ্বলছে—"রায় ভিলা"লোকেশনের লাল অক্ষরে লেখা—১২:০০:০০ঘড়িটা ধীরে ধীরে কমছে।১১:৫৯:৫৯...১১:৫৯:৫৮...আরোহী বুঝতে পারছিল না, এটা কীসের কাউন্টডাউন।ঠিক তখনই তার মনে হলো—কেউ যেন তার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে আছে।সে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।কেউ নেই।শুধু ভেজা রাস্তা...হাওয়ায় উড়তে থাকা শুকনো পাতা...আর দূরে কয়েকটা কাকের ডাক।"আমি কি সত্যিই ভয় পেতে শুরু করেছি?"—নিজেকেই প্রশ্ন করল সে।মোবাইলটা আবার কেঁপে উঠল।অচেনা নম্বর।সে সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ করল।— "হ্যালো!"ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।তারপর খুব ধীরে একটি নারীকণ্ঠ—— "ওখানে যেও না..."আরোহীর বুক ধক করে উঠল।— "মেঘলা?"— "যদি আমাকে বিশ্বাস করো... তাহলে রায় ভিলায় যেও না।"— "তুমি ...Read More
যেখানে শুধু তুমি - পর্ব 4
পর্ব ৪: আয়নার ওপাশেমোবাইলটা মেঝেতে পড়তেই টর্চের আলো ঘুরে গিয়ে থামল ঘরের এক কোণে।আরোহী স্থির।তার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে...মেঘলা।কিন্তু...দরজার দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা আর বাইরে তার সঙ্গে কথা বলা মেঘলা—দুজন যেন এক নয়।এই মেঘলার মুখ ফ্যাকাশে।চোখের নিচে কালো দাগ।হাতে ছোট্ট একটা কাটা দাগ থেকে ধীরে ধীরে রক্ত ঝরছে।তবু সে হাসার চেষ্টা করল।— "তুমি এলে কেন?"আরোহী ছুটে গিয়ে তার সামনে দাঁড়াল।— "তোমাকে নিয়ে যেতে।"মেঘলা মাথা নাড়ল।— "এখান থেকে কাউকে নিয়ে যাওয়া এত সহজ নয়।"ঠিক তখনই পেছন থেকে সেই লোকটার গলা ভেসে এল—— "দেখা হয়ে গেছে? এবার চল।"আরোহী ঘুরে দাঁড়াল।— "আপনি আসলে কে?"লোকটা কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বলল,— "আমার নাম অর্ণব ...Read More
যেখানে শুধু তুমি - পর্ব 5
পর্ব ৫: বন্ধ দরজার ওপাশেবৃষ্টির শব্দটা যেন আরও ভারী হয়ে উঠেছে।রায় ভিলার দ্বিতীয় তলার করিডোরে দাঁড়িয়ে আরোহীর মনে হচ্ছিল, যেন ধীরে ধীরে থেমে যাচ্ছে।তার হাতে এখনও সেই পুরোনো ছবিটা।ছবির নিচে লেখা ভবিষ্যতের তারিখটা বারবার তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে।১৭ আগস্ট, ২০২৬।সে ধীরে ধীরে ছবিটা ভাঁজ করে ব্যাগে রাখল।মেঘলা তার দিকে তাকিয়ে বলল,— "আরোহী... আমার সঙ্গে এসো।"— "কোথায়?"— "সব প্রশ্নের উত্তর যেখানে লুকিয়ে আছে।"অর্ণব তৎক্ষণাৎ সামনে এসে দাঁড়াল।— "না।"তার গলায় এবার আদেশের সুর।— "ও ঘরটা খোলা যাবে না।"মেঘলা ঠান্ডা চোখে অর্ণবের দিকে তাকাল।— "চার বছর ধরে তুমিই তো ওটা বন্ধ করে রেখেছ। আর কতদিন?"অর্ণব চোখ নামিয়ে ফেলল।কয়েক মুহূর্ত পরে সে ...Read More
যেখানে শুধু তুমি - পর্ব 6
''অন্ধকারের সিঁড়ি''রায় ভিলার নিচে নেমে যাওয়া সিঁড়িটার দিকে তাকিয়ে তিনজনই নিঃশব্দ।নিচ থেকে ঠান্ডা বাতাস উঠে আসছে।সেই বাতাসে যেন ভেজা গন্ধের সঙ্গে মিশে আছে বহু বছরের লুকিয়ে থাকা স্মৃতি।আরোহী মেঘলার হাত আরও শক্ত করে ধরল।তার বুক ধড়ফড় করছে।তবু সে নিজের চোখ সরাল না।অন্ধকারের ভেতরে যে নীল দুটো চোখ জ্বলছিল...সেগুলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।যেন কেউ ছিলই না।অর্ণব টর্চ জ্বালিয়ে নিচের দিকে তাকাল।— "কেউ নেই..."মেঘলা আস্তে বলল,— "না... কেউ ছিল।"আরোহী প্রশ্ন করল,— "তুমি দেখেছ?"মেঘলা মাথা নাড়ল।— "শুধু দেখিনি... ওর গলাটাও চিনেছি।"অর্ণব সঙ্গে সঙ্গে তাকাল।— "অসম্ভব!"মেঘলার ঠোঁট শুকিয়ে গেছে।— "অসম্ভব হলেও সত্যি..."সে আর কিছু বলল না।ধীরে ধীরে তারা সিঁড়ি দিয়ে নামতে শুরু করল।প্রথম ...Read More
যেখানে শুধু তুমি - পর্ব 7
পর্ব ৭: যে ফিরে এসেছিলধাম!দরজায় আবার আঘাত পড়ল।লাইব্রেরির কাঠের দরজাটা কেঁপে উঠল।আরোহী ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।তার চোখে এখনও ফিরে স্মৃতির ছায়া।মেঘলা তার হাত শক্ত করে ধরে আছে।অর্ণব দরজার কাছে গিয়ে কান পাতল।বাইরে আর কোনো শব্দ নেই।অদ্ভুত নীরবতা।হঠাৎ—টক... টক...এবার দরজায় খুব ভদ্রভাবে কড়া নাড়া হলো।তারপর ভেসে এল শান্ত একটা কণ্ঠ—— "দরজা খুলুন। আমি কাউকে আঘাত করতে আসিনি।"অর্ণব ভ্রু কুঁচকে বলল,— "এই গলাটা..."সৌমেন কাকু মাথা নাড়লেন।— "চিনি না।"মেঘলা ফিসফিস করে বলল,— "ফাঁদও হতে পারে।"কিন্তু আরোহীর মনে অদ্ভুত একটা টান অনুভূত হলো।যেন সে এই কণ্ঠস্বর আগে কোথাও শুনেছে।দরজার নিচ দিয়ে একটি সাদা খাম ভেতরে ঢুকে এল।চারজন একে অপরের দিকে তাকাল।অর্ণব সাবধানে খামটা ...Read More
যেখানে শুধু তুমি - পর্ব 8
পর্ব ৮: গুলির শব্দধাম!গুলির শব্দে পুরো লেকপাড় কেঁপে উঠল।কয়েক সেকেন্ডের জন্য কেউ বুঝতেই পারল না গুলিটা কাকে লক্ষ্য করে হয়েছে।তারপর...মেঘলা হঠাৎ আরোহীকে জোরে ধাক্কা দিল।— "নিচে!"দুজনেই ঘাটের কাঠের মেঝেতে পড়ে গেল।আরেকটা গুলি।ঠাস!এইবার গুলিটা এসে লাগল ঘাটের কাঠের রেলিংয়ে।কাঠের টুকরো উড়ে এসে আরোহীর গালে ছোট্ট একটা কেটে গেল।রক্তের ফোঁটা গড়িয়ে পড়ল।অর্ণব চিৎকার করে উঠল—— "সবাই আড়ালে যাও!"সৌমেন কাকু আরোহীর হাত ধরে তাকে টেনে ঘাটের পাশে বড় পাথরের আড়ালে নিয়ে গেলেন।চারপাশে আতঙ্ক।কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে...গুলির পর আর কোনো শব্দ নেই।শুধু লেকের জল।আর দূরের ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক।পাঁচ মিনিট কেটে গেল।কেউ আর গুলি চালাল না।অর্ণব সাবধানে মাথা তুলে চারদিকে তাকাল।ঘাট ফাঁকা।কুয়াশা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।যে ...Read More
যেখানে শুধু তুমি - পর্ব 9
পর্ব ৯: যে রাত সব বদলে দিয়েছিলরায় ভিলার ড্রইংরুমে এমন নীরবতা নেমে এলো, যেন ঘড়ির কাঁটার শব্দও স্পষ্ট শোনা আবার হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে।জানালার কাঁচ বেয়ে ফোঁটাগুলো ধীরে ধীরে নেমে আসছে।আরোহী এখনও বাবার দিকে তাকিয়ে।তার মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরছে।"সেই রাতে কী হয়েছিল?"সে ধীরে ধীরে বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়াল।— "বাবা... তুমি সত্যিটা জানো?"লোকটি গভীর নিঃশ্বাস ফেললেন।ভেজা শালটা খুলে চেয়ারে রাখলেন।তারপর অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,— "জানি... কিন্তু পুরোটা নয়।"অর্ণব বিস্মিত।— "মানে?"— "আমি যা দেখেছিলাম, তা অসম্পূর্ণ। আর যা শুনেছিলাম, তার অর্ধেক ছিল মিথ্যে।"মেঘলা নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল।তার চোখে ভয় নেই।বরং এক ধরনের ক্লান্তি।সৌমেন কাকু চুপচাপ চা এনে টেবিলে রাখলেন।কেউ কাপ ছুঁল ...Read More
যেখানে শুধু তুমি - পর্ব 10
মাটির নিচে চাপা সত্যরায় ভিলার সামনে একের পর এক তিনটি কালো গাড়ি এসে থামল।নীল-লাল আলো বৃষ্টিভেজা দেয়ালে প্রতিফলিত হতে সাইরেন ধীরে ধীরে থেমে গেল।কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই একসঙ্গে গেটের দিকে তাকাল।অমিতাভ চক্রবর্তী গভীর নিঃশ্বাস ফেললেন।— "এত তাড়াতাড়ি খবর পৌঁছে গেল?"গাড়ির দরজা খুলে কয়েকজন পুলিশ অফিসার নেমে এলেন।সবার সামনে একজন নারী অফিসার।বয়স ত্রিশের কাছাকাছি।চোখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, ভেজা চুল শক্ত করে বাঁধা।তিনি সামনে এসে পরিচয় দিলেন—— "আমি এসিপি ঈশিতা ঘোষ, ক্রাইম ব্রাঞ্চ।"তিনি একবার চারপাশে তাকিয়ে থেমে গেলেন।তার দৃষ্টি গিয়ে থামল খোলা ট্রাঙ্কটার ওপর।— "বাক্সটা কেউ স্পর্শ করবেন না।"অর্ণব বলল,— "আমরা শুধু খুলেছি।"ঈশিতা মাথা নাড়লেন।— "ঠিক করেছেন। এখন থেকে এটা ...Read More
যেখানে শুধু তুমি - পর্ব 11
যে মানুষটাকে মৃত ভাবা হয়েছিলরায় ভিলার বারান্দায় সবাই এসে দাঁড়াল।গেটের সামনে একটি পুরোনো সাইকেল।তার পাশে সত্তরের কাছাকাছি বয়সের এক ভিজে গেছে বৃষ্টিতে।হাতে একটি কাপড়ে মোড়া ছোট্ট প্যাকেট।চোখে মোটা কাচের চশমা।কিন্তু তাঁর দৃষ্টিতে ছিল অদ্ভুত স্থিরতা।এসিপি ঈশিতা এগিয়ে গিয়ে বললেন,— "আপনি বলেছিলেন, ঋত্বিক সেনকে দেখেছেন?"বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন।— "হ্যাঁ, দেখেছি।"— "কোথায়?"— "স্টেশনে।"অর্ণব অবাক হয়ে বলল,— "কোন স্টেশন?"— "শেওড়াফুলি।"বৃদ্ধ একটু থামলেন।— "আজ বিকেল পাঁচটার দিকে।"আরোহীর বুক ধড়ফড় করতে লাগল।— "আপনি নিশ্চিত?"বৃদ্ধ এবার পকেট থেকে একটা পুরোনো ছবি বের করলেন।ছবিটা সময়ে হলদে হয়ে গেছে।তিনি ছবির একজন কিশোরের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন—— "এই ছেলেটাই আজ আমার সামনে দাঁড়িয়েছিল।"ছবিটা দেখে সবাই নিঃশব্দ।এটা সেই একই ছবি...যেখানে ...Read More