নিষিদ্ধ ভালোবাসা

(0)
  • 48
  • 0
  • 9.6k

“প্রথম দেখা, অজানা টান”কলেজের প্রথম দিন।সকালের হালকা ঠান্ডা হাওয়া, আকাশে একটু মেঘলা ভাব—যেন প্রকৃতিও আজ নতুন কিছু শুরু হওয়ার অপেক্ষায়।ঈশা ধীরে ধীরে কলেজের গেটের সামনে এসে দাঁড়াল।নতুন জায়গা… নতুন মানুষ…সবকিছুই তার কাছে একটু অচেনা, একটু ভয়ও লাগছে।সে খুব বেশি কথা বলতে পারে না।নিজের মতো থাকতেই বেশি পছন্দ করে।চোখ নামিয়ে গেট দিয়ে ঢুকতে যাচ্ছিল—ঠিক তখনই হঠাৎ কারও সাথে ধাক্কা লাগল।— “Sorry! আমি খেয়াল করিনি!”ঈশা মাথা তুলে তাকাতেই থমকে গেল।সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা—হাসছে।না, শুধু হাসি না…ওর চোখেও একটা অদ্ভুত আলো আছে।— “It’s okay! আমিও তাড়াহুড়ো করছিলাম,” মেয়েটা বলল।ঈশা কিছু বলল না।শুধু মাথা নেড়ে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইল।

1

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 1

Part 1: “প্রথম দেখা, অজানা টান”কলেজের প্রথম দিন।সকালের হালকা ঠান্ডা হাওয়া, আকাশে একটু মেঘলা ভাব—যেন প্রকৃতিও আজ নতুন কিছু হওয়ার অপেক্ষায়।ঈশা ধীরে ধীরে কলেজের গেটের সামনে এসে দাঁড়াল।নতুন জায়গা… নতুন মানুষ…সবকিছুই তার কাছে একটু অচেনা, একটু ভয়ও লাগছে।সে খুব বেশি কথা বলতে পারে না।নিজের মতো থাকতেই বেশি পছন্দ করে।চোখ নামিয়ে গেট দিয়ে ঢুকতে যাচ্ছিল—ঠিক তখনই হঠাৎ কারও সাথে ধাক্কা লাগল।— “Sorry! আমি খেয়াল করিনি!”ঈশা মাথা তুলে তাকাতেই থমকে গেল।সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা—হাসছে।না, শুধু হাসি না…ওর চোখেও একটা অদ্ভুত আলো আছে।— “It’s okay! আমিও তাড়াহুড়ো করছিলাম,” মেয়েটা বলল।ঈশা কিছু বলল না।শুধু মাথা নেড়ে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইল।— “এই শুনো… ...Read More

2

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 2

“অজানা অনুভূতির শুরু”কলেজের করিডোরটা আজ অন্যদিনের চেয়ে একটু বেশি ব্যস্ত।ঈশা ধীরে ধীরে হাঁটছিল, হাতে একটা বই।তার চোখ বইয়ের পাতায়, মন পুরো অন্য কোথাও।কারণ—আজ সকালে মেঘলার সাথে কথা হয়নি।এতদিনে প্রথমবার।অদ্ভুত একটা খালি খালি লাগছে তার ভিতরে।— “আমি কি ওর জন্য অপেক্ষা করছি?”নিজেকেই প্রশ্ন করল ঈশা।তারপর মাথা নাড়িয়ে নিজেকে বোঝাল—“না… এটা normal।”কিন্তু তার পা নিজের থেকেই ক্যান্টিনের দিকে ঘুরে গেল।ক্যান্টিনে ঢুকতেই সে চারপাশে তাকাল।অনেক ভিড়… অনেক হাসি… অনেক শব্দ…কিন্তু সে খুঁজছে শুধু একজনকে।মেঘলা।হঠাৎই—— “ঈশা!”পেছন থেকে ডাক।ঈশা ঘুরে তাকাতেই দেখল—মেঘলা দৌড়ে আসছে।— “সরি! আজ একটু late হয়ে গেছিল…”ঈশা কিছু বলল না।শুধু তাকিয়ে রইল।— “তুমি রাগ করেছ?”মেঘলা একটু মিষ্টি করে বলল।— “না তো…”— ...Read More

3

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 3

“অজানা টান, অস্বস্তির শুরু”সকালটা আজ একটু অদ্ভুত লাগছিল ঈশার কাছে।কেন যেন মনে হচ্ছিল—আজ কিছু একটা আলাদা হবে।কলেজে ঢুকতেই সে দিয়ে খুঁজতে লাগল…মেঘলাকে।কিন্তু আজ সে কোথাও নেই।ক্লাস শুরু হয়ে গেল, তবুও না।ঈশার মন আর পড়াশোনায় নেই।বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছে…“কোথায় গেল?”হঠাৎ দ্বিতীয় পিরিয়ডের মাঝামাঝি—দরজা খুলে মেঘলা ঢুকল।কিন্তু একা না।তার পাশে একটা ছেলে।ছেলেটা হেসে হেসে কিছু বলছে, আর মেঘলাও হাসছে।ঈশার বুকটা হঠাৎ কেমন চেপে গেল।সে চোখ সরিয়ে নিল।ক্লাস শেষে…মেঘলা দৌড়ে এসে ঈশার পাশে বসে পড়ল।— “Hey! sorry আজ late হয়ে গেল!”ঈশা ঠান্ডা গলায় বলল—— “হুম…”মেঘলা একটু অবাক হলো।— “কি হলো? এত চুপ কেন?”— “কিছু না…”— “সকাল থেকে তোমাকে খুঁজছিলাম,” মেঘলা বলল।ঈশা একটু ...Read More

4

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 4

“যত দূরে যাই, তত কাছে টানে”দিনগুলো যেন এখন খুব ধীরে কাটছে।ঈশার কাছে প্রতিটা দিন একই রকম—চুপচাপ ক্লাসে যাওয়া, একা থাকা, কারও সাথে তেমন কথা না বলা।কিন্তু ভেতরে ভেতরে—সবকিছু এলোমেলো।সে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছে—“আমি ঠিক করেছি… দূরে থাকাই ভালো…”কিন্তু মন মানছে না।আজ লাইব্রেরিতে বসে আছে ঈশা।বই খোলা সামনে…কিন্তু একটাও শব্দ মাথায় ঢুকছে না।কারণ তার চোখ বারবার চলে যাচ্ছে দরজার দিকে।সে জানে না কেন—কিন্তু সে অপেক্ষা করছে।মেঘলার জন্য।কিছুক্ষণ পর…মেঘলা ঢুকল।কিন্তু আজ সে একা না।তার সাথে আবার সেই অয়ন।দুজন একসাথে হাসতে হাসতে ভেতরে ঢুকল।ঈশার বুকটা হঠাৎ করে ভারী হয়ে গেল।সে দ্রুত চোখ নামিয়ে নিল।— “আমি কেন এমন feel করছি?”তার গলায় কাঁটা লাগছে।ওদিকে ...Read More

5

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 5

Part 7: “ভালোবাসা, নাকি ভয়?”কলেজের দিনগুলো আবার একটু বদলাতে শুরু করেছে।ঈশা আর মেঘলা এখন আগের মতো দূরে নেই…আবার খুব না।ওদের মাঝে একটা অদ্ভুত নীরব বোঝাপড়া।চোখে চোখ পড়লেই—সব বলা হয়ে যায়।একদিন…ক্লাস শেষে দুজন লাইব্রেরির পেছনের ছোট্ট গার্ডেনে বসে ছিল।চারপাশে খুব কম লোক।শান্ত… নিঃশব্দ…মেঘলা ধীরে বলল—— “ঈশা… আমরা কি এইভাবে চুপচাপ থাকবো?”ঈশা একটু চমকে তাকাল—— “মানে?”— “মানে… আমরা জানি আমরা একে অপরকে ভালোবাসি…তবুও কিছু বলি না…”ঈশার গলা শুকিয়ে গেল।— “সব কথা বলা যায় না…”— “কেন?”— “কারণ সবাই বুঝবে না…”মেঘলা একটু রেগে গেল—— “সবাইকে নিয়ে তুমি এত ভাবো কেন?”— “কারণ আমি ভয় পাই…”ঈশা আস্তে বলল।— “তুমি কি আমাকে নিয়ে ভয় পাচ্ছো?”মেঘলা চোখে ...Read More

6

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 6

Part 9: “একসাথে… তবুও দূরে”কলেজের cultural fest নিয়ে চারদিকে উৎসাহ।সবাই নিজের নিজের performance নিয়ে ব্যস্ত।কিন্তু ঈশা আর মেঘলার কাছে—এই যেন একটা পরীক্ষা।প্রথম practice-এর দিন…অডিটোরিয়ামে সবাই জড়ো হয়েছে।ঈশা একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে,আর মেঘলা অন্য পাশে।দুজনেই একে অপরকে avoid করছে।শিক্ষক বললেন—— “তোমরা একটা emotional song choose করো… যেটা তোমাদের connect করবে।”এই কথাটা শুনে দুজনেই একটু থেমে গেল।“connect…”এই শব্দটাই যেন আজ সবচেয়ে কঠিন।শেষে মেঘলা একটা গান বেছে নিল।একটা ধীর, কষ্টভরা প্রেমের গান…যেখানে হারানো ভালোবাসার কথা আছে।ঈশা কিছু বলল না।সে জানে—এই গানটা তাদের গল্পের মতো।practice শুরু হলো।দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে…কিন্তু চোখে চোখ নেই।মেঘলা গান শুরু করল—তার গলায় কষ্ট স্পষ্ট।প্রতিটা শব্দ যেন কারও জন্য বলা…ঈশার ...Read More

7

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 7

Part 11: “ভালোবাসা বনাম পৃথিবী”মঞ্চের সেই মুহূর্তটা যেন সবার মনে ছাপ ফেলে গেছে।ঈশা আর মেঘলা হাত ধরে দাঁড়িয়ে—সবকিছু ভুলে পৃথিবী তো থেমে থাকে না…মঞ্চ থেকে নামার পরই…চারপাশে ফিসফাস শুরু হয়ে গেল।— “ওরা সত্যিই…?”— “Public-এ এসব!”— “একদম ভুল জিনিস…”ঈশার হাত কাঁপতে লাগল।সে মেঘলার হাত শক্ত করে ধরল।মেঘলা ধীরে বলল—— “Relax… আমি আছি…”কিন্তু তখনই একজন শিক্ষক এগিয়ে এলেন।গম্ভীর মুখে—— “তোমরা দুজন আমার সাথে আসো।”ঈশার বুক ধড়ফড় করতে লাগল।স্টাফ রুমে…দুজন চুপচাপ দাঁড়িয়ে।শিক্ষক বললেন—— “তোমরা কি বুঝতে পারছো তোমরা কি করেছো?”মেঘলা শান্ত গলায় বলল—— “আমরা শুধু একটা গান perform করেছি…”— “না! তোমরা সবার সামনে inappropriate behaviour করেছো,”শিক্ষকের গলা কঠিন।ঈশা মাথা নিচু করে ফেলল।তার ...Read More

8

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 8

Part 13: “দূরত্ব, কিন্তু সংযোগ আছে”ফোনের ওপাশে সেই গলা…— “ঈশা…”ঈশার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।— “তুমি কোথায়? তুমি ঠিক গলা কাঁপছে।মেঘলা একটু চুপ করে থেকে বলল—— “আমি ঠিক নেই… তোমাকে ছাড়া কিছুই ঠিক লাগছে না…”ঈশার বুকটা ভেঙে গেল।— “তুমি না বলে চলে গেলে কেন?”— “আমাকে যেতে বাধ্য করা হয়েছে…”মেঘলার গলায় কষ্ট।— “আমার ফোন নিয়ে নিয়েছিল… তোমার সাথে contact করার কোনো উপায় ছিল না…”ঈশা চোখ বন্ধ করল।— “আমি ভেবেছিলাম তুমি… আমাকে ছেড়ে দিয়েছো…”মেঘলা তাড়াতাড়ি বলল—— “Never… আমি তোমাকে কখনো ছাড়ব না…”এই কথাটা শুনে ঈশার ভেতরে একটু আলো ফিরে এল।দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ।কিন্তু এই নীরবতা আর কষ্টের না—এটা reconnect হওয়ার।ঈশা ধীরে বলল—— ...Read More

9

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 9

Part 15: “হঠাৎ বদলে যাওয়া খবর”সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল।ঈশা জানালার পাশে বসে ছিল। হাতে ফোন।প্রতিদিনের মতো সে “Good morning” message-এর অপেক্ষা করছিল।কিন্তু আজ…কোনো message নেই।১০ মিনিট…৩০ মিনিট…১ ঘণ্টা…তবুও না।ঈশার বুকের ভেতর অদ্ভুত অস্বস্তি শুরু হলো।সে নিজেই message করল—“উঠেছ?”কোনো reply নেই।আরেকটা—“সব ঠিক আছে?”তাও না।পুরো দিন চলে গেল।ফোন silent।কোনো call না।কোনো message না।ঈশা নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করল—— “হয়তো ব্যস্ত…”— “হয়তো ফোন কাছে নেই…”কিন্তু তার মন বলছে—কিছু একটা হয়েছে।রাত প্রায় ১০টা।হঠাৎ ফোনে message এল।স্ক্রিনে নামটা দেখে ঈশার বুক কেঁপে উঠল—মেঘলাকাঁপা হাতে message খুলল সে।কিন্তু message পড়তেই তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।“বাড়িতে আমার বিয়ের কথা হচ্ছে…”মুহূর্তের জন্য সব থেমে গেল।ঘর…শব্দ…সময়…সব।ঈশার হাত ...Read More

10

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 10

নিষিদ্ধ ভালোবাসাPart 17: “নিজের সত্যের পাশে দাঁড়ানো”সকাল থেকে মেঘলার বাড়িতে ব্যস্ততা।আত্মীয়-স্বজন আসছে, যাচ্ছে।ঘর সাজানো হচ্ছে।কেউ বলছে—— "ছেলেটা খুব ভালো করে।"— "এমন ছেলে বারবার পাওয়া যায় না।"মেঘলা নিজের ঘরে চুপচাপ বসে ছিল।তার সামনে আয়না।কিন্তু সে নিজের মুখ দেখছে না।তার মনে শুধু একটা মুখ।ঈশা।ফোনে একটা message এল।ঈশা:"তুমি ঠিক আছো?"মেঘলার চোখ ভিজে উঠল।সে উত্তর দিল—"জানি না..."কিছুক্ষণ পর নিচ থেকে ডাক এল—— "মেঘলা, নিচে এসো।"তার বুকটা ধক করে উঠল।সময় এসে গেছে।সে ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নামল।ড্রয়িং রুমে অনেক লোক।আর তাদের মাঝখানে বসে আছে সেই ছেলে।ছেলেটা ভদ্র, শান্ত।কিন্তু মেঘলার কাছে সে একজন অপরিচিত মানুষ।কিছু সাধারণ কথা হলো।পড়াশোনা, শখ, ভবিষ্যৎ...তারপর একজন আত্মীয় হেসে বললেন—— "দুজন ...Read More

11

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 11 (Last Part)

নিষিদ্ধ ভালোবাসাPart 19: “অপেক্ষার শেষ প্রান্তে”এক বছর কেটে গেছে।সময় অনেক কিছু বদলে দেয়—এ কথা সবাই বলে।কিন্তু কিছু অনুভূতি আছে, সময় শুধু আরও গভীর করে।ঈশা এখন কলকাতায় একটি প্রকাশনা সংস্থায় কাজ করে। ছোটবেলা থেকে লেখার যে স্বপ্ন ছিল, ধীরে ধীরে সেটাই তার পরিচয় হয়ে উঠছে। তার কবিতা এখন বিভিন্ন ম্যাগাজিনে ছাপা হয়।তবু প্রতিটি নতুন কবিতার প্রথম পাঠক হওয়ার কথা ছিল একজনের।মেঘলার।অন্যদিকে, মেঘলা সত্যিই বিদেশে চলে গিয়েছিল মামার কাছে।নতুন দেশ।নতুন ভাষা।নতুন মানুষ।কিন্তু প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে সে এখনও ফোনের গ্যালারিতে ঈশার একটা পুরোনো ছবি দেখে।ছবিটা কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দিন তোলা।দুজনের মুখে হাসি।কিন্তু চোখে হাজারটা অজানা কথা।এই এক বছরে তারা খুব কম ...Read More