Part 7: “ভালোবাসা, নাকি ভয়?”
কলেজের দিনগুলো আবার একটু বদলাতে শুরু করেছে।
ঈশা আর মেঘলা এখন আগের মতো দূরে নেই…
আবার খুব কাছেও না।
ওদের মাঝে একটা অদ্ভুত নীরব বোঝাপড়া।
চোখে চোখ পড়লেই—সব বলা হয়ে যায়।
একদিন…
ক্লাস শেষে দুজন লাইব্রেরির পেছনের ছোট্ট গার্ডেনে বসে ছিল।
চারপাশে খুব কম লোক।
শান্ত… নিঃশব্দ…
মেঘলা ধীরে বলল—
— “ঈশা… আমরা কি এইভাবে চুপচাপ থাকবো?”
ঈশা একটু চমকে তাকাল—
— “মানে?”
— “মানে… আমরা জানি আমরা একে অপরকে ভালোবাসি…
তবুও কিছু বলি না…”
ঈশার গলা শুকিয়ে গেল।
— “সব কথা বলা যায় না…”
— “কেন?”
— “কারণ সবাই বুঝবে না…”
মেঘলা একটু রেগে গেল—
— “সবাইকে নিয়ে তুমি এত ভাবো কেন?”
— “কারণ আমি ভয় পাই…”
ঈশা আস্তে বলল।
— “তুমি কি আমাকে নিয়ে ভয় পাচ্ছো?”
মেঘলা চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করল।
ঈশা মাথা নাড়ল—
— “না… আমি আমাদের নিয়ে ভয় পাচ্ছি…”
এই কথাটা শুনে মেঘলা চুপ হয়ে গেল।
ঠিক তখনই—
পাশ দিয়ে দুজন সিনিয়র মেয়ে হাঁটছিল।
তারা ঈশা আর মেঘলার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল—
— “ওদের দেখেছিস? একটু weird না?”
— “হ্যাঁ… মেয়েরা মেয়েদের সাথে এত close… কিছু তো আছে…”
এই কথাগুলো স্পষ্ট শুনতে পেল দুজনেই।
ঈশার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
সে সাথে সাথে উঠে দাঁড়াল—
— “আমি যাচ্ছি…”
মেঘলা তার হাত ধরে ফেলল—
— “তুমি পালাচ্ছো কেন?”
— “আমি এসব সহ্য করতে পারব না…”
ঈশার গলা কাঁপছিল।
— “তাহলে তুমি কি আমাদের relationship deny করবে?”
মেঘলার গলায় কষ্ট।
ঈশা চুপ।
তার চোখে জল।
— “আমি জানি না…”
এই “জানি না” কথাটা মেঘলার মনে সোজা আঘাত করল।
— “তুমি আমাকে ভালোবাসো… কিন্তু accept করতে পারো না?”
ঈশা কিছু বলতে পারল না।
কারণ সেটাই সত্যি।
মেঘলা ধীরে হাতটা ছেড়ে দিল।
— “তাহলে হয়তো আমি একাই feel করছি…”
ঈশা তাড়াতাড়ি বলল—
— “না! আমি করি… আমি তোমাকে ভালোবাসি…”
এই প্রথম সে স্পষ্ট করে বলল।
মেঘলার চোখ ভিজে গেল।
— “তাহলে সমস্যা কোথায়?”
ঈশা ধীরে বলল—
— “সমস্যা… আমাদের বাইরে…”
— “না ঈশা,” মেঘলা মাথা নাড়ল—
“সমস্যা তোমার ভেতরে…”
এই কথাটা শুনে ঈশা স্তব্ধ হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ।
হাওয়া বইছে…
পাতা নড়ছে…
কিন্তু তাদের ভেতরে ঝড়।
শেষে মেঘলা বলল—
— “আমি লুকিয়ে ভালোবাসতে পারব না…”
— “আমি পারব না সবাইকে face করতে…”
ঈশা বলল।
দুজনের চোখে চোখ।
দুজনেই ঠিক…
তবুও দুজনেই হারছে।
মেঘলা ধীরে বলল—
— “তাহলে আমরা কি করব?”
ঈশা উত্তর দিতে পারল না।
কারণ এই প্রশ্নের উত্তর তার কাছে নেই।
সেদিন…
দুজন আলাদা আলাদা বাড়ি ফিরল।
একসাথে না।
ঈশা ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে বসে পড়ল।
তার মাথার ভেতর একটা কথাই ঘুরছে—
— “আমি কি ওকে হারাতে যাচ্ছি?”
ওদিকে মেঘলা বিছানায় শুয়ে আছে।
চোখ বন্ধ, কিন্তু ঘুম নেই।
— “ভালোবাসা এত কঠিন কেন?”
ভালোবাসা কি শুধু অনুভূতি?
না কি সাহসও লাগে?
Part 8: “ভুল বোঝাবুঝির দেয়াল”
পরের দিন…
কলেজে ঢুকতেই একটা অদ্ভুত চাপা পরিবেশ।
ঈশা অনুভব করল—
আজ যেন সবাই তাকাচ্ছে।
ফিসফাস করছে।
সে মাথা নিচু করে দ্রুত ক্লাসে ঢুকে গেল।
ক্লাসে বসে থাকতে থাকতে সে শুনতে পেল—
— “কাল গার্ডেনে যা দেখলাম…”
— “ওরা কি সত্যিই…?”
— “উফ! disgusting…”
এই কথাগুলো তার কানে স্পষ্ট ঢুকল।
তার হাত কাঁপতে লাগল।
ঈশা চোখ তুলে দেখল—
মেঘলা ক্লাসের অন্য পাশে বসে আছে।
আজ সে তার পাশে বসেনি।
এই ছোট্ট distance-টাই আজ অনেক বড় লাগছে।
বিরতির সময়…
ঈশা সাহস করে মেঘলার কাছে গেল।
— “আমরা কথা বলতে পারি?”
মেঘলা ঠান্ডা গলায় বলল—
— “কিসের কথা?”
ঈশার বুক কেঁপে উঠল।
— “কাল যা হয়েছিল…”
— “ওটা নিয়ে কথা বলার কিছু নেই,”
মেঘলা বলল।
ঈশা অবাক—
— “মানে?”
— “মানে… তুমি clear করে দিয়েছো তুমি কি চাও…”
ঈশার চোখে জল চলে এল—
— “আমি এমন কিছু বলতে চাইনি…”
— “কিন্তু তুমি বলেছো,”
মেঘলা তাকাল না।
এই সময় অয়ন এসে দাঁড়াল—
— “মেঘলা, চল? আমরা noteটা discuss করছিলাম…”
মেঘলা সাথে সাথে উঠে দাঁড়াল—
— “হ্যাঁ, আসছি…”
ঈশা দাঁড়িয়ে রইল।
একদম একা।
তার মনে হলো—
সবকিছু তার হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।
দিনটা খুব খারাপ কাটল।
কেউ কিছু না বললেও—
সবকিছু বোঝা যাচ্ছে।
সন্ধ্যায়…
ঈশা বাড়ি ফিরে কান্না চেপে রাখতে পারল না।
সে ডায়েরি খুলে লিখতে লাগল—
“আমি তাকে ভালোবাসি…
তবুও তাকে হারিয়ে ফেলছি…”
ওদিকে…
মেঘলা অয়নের সাথে বসে ছিল,
কিন্তু তার মন কোথাও নেই।
অয়ন বলল—
— “তুমি ঠিক আছো?”
— “হ্যাঁ…”
মেঘলা মিথ্যে বলল।
অয়ন একটু থেমে বলল—
— “তুমি কি ঈশার জন্য upset?”
মেঘলা চমকে উঠল—
— “তুমি এসব কেন বলছো?”
অয়ন শান্ত গলায় বলল—
— “আমি সব বুঝি…
তোমরা একে অপরকে যেভাবে দেখো…”
মেঘলা চুপ হয়ে গেল।
— “তুমি কি তাকে ভালোবাসো?”
অয়ন সরাসরি জিজ্ঞেস করল।
মেঘলার চোখে জল চলে এল।
সে ধীরে বলল—
— “হ্যাঁ…”
এই প্রথম সে নিজের feelings অন্য কারও সামনে বলল।
অয়ন হালকা হেসে বলল—
— “তাহলে fight করো…
ছাড়ো না…”
মেঘলা মাথা নাড়ল—
— “কিন্তু সে ভয় পায়…”
— “তুমি কি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেছো?”
— “হ্যাঁ… কিন্তু সে নিজেকেই accept করতে পারছে না…”
অয়ন চুপ করে গেল।
ওদিকে…
ঈশা নিজের বিছানায় শুয়ে আছে।
চোখ লাল, মুখ শুকনো।
— “আমি কি খুব selfish?”
সে ভাবল।
পরের দিন…
কলেজে একটা notice লাগানো হলো—
“Annual Cultural Fest”
সবাই excited।
কিন্তু ঈশা আর মেঘলার কাছে—
এটা শুধু আরেকটা দিন।
হঠাৎ শিক্ষক বললেন—
— “এইবার duet performance-এর জন্য pair বানাতে হবে।”
ক্লাসে হৈচৈ শুরু হয়ে গেল।
ঈশা মাথা নিচু করে বসে ছিল।
ঠিক তখন—
শিক্ষক বললেন—
— “ঈশা আর মেঘলা—তোমরা একসাথে perform করবে।”
দুজনেই একসাথে তাকাল।
চোখে চোখ পড়ল।
এই প্রথম—
দুজনের চোখে একসাথে কষ্ট, অভিমান, আর অজানা টান।
আবার একসাথে…
কিন্তু এবার কি ঠিক হবে?