Forbidden Love - 10 in Bengali Love Stories by MOU DUTTA books and stories PDF | নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 10

Featured Books
Categories
Share

নিষিদ্ধ ভালোবাসা - 10

নিষিদ্ধ ভালোবাসা
Part 17: “নিজের সত্যের পাশে দাঁড়ানো”
সকাল থেকে মেঘলার বাড়িতে ব্যস্ততা।
আত্মীয়-স্বজন আসছে, যাচ্ছে।
ঘর সাজানো হচ্ছে।
কেউ বলছে—
— "ছেলেটা খুব ভালো চাকরি করে।"
— "এমন ছেলে বারবার পাওয়া যায় না।"
মেঘলা নিজের ঘরে চুপচাপ বসে ছিল।
তার সামনে আয়না।
কিন্তু সে নিজের মুখ দেখছে না।
তার মনে শুধু একটা মুখ।
ঈশা।
ফোনে একটা message এল।
ঈশা:
"তুমি ঠিক আছো?"
মেঘলার চোখ ভিজে উঠল।
সে উত্তর দিল—
"জানি না..."
কিছুক্ষণ পর নিচ থেকে ডাক এল—
— "মেঘলা, নিচে এসো।"
তার বুকটা ধক করে উঠল।
সময় এসে গেছে।
সে ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নামল।
ড্রয়িং রুমে অনেক লোক।
আর তাদের মাঝখানে বসে আছে সেই ছেলে।
ছেলেটা ভদ্র, শান্ত।
কিন্তু মেঘলার কাছে সে একজন অপরিচিত মানুষ।
কিছু সাধারণ কথা হলো।
পড়াশোনা, শখ, ভবিষ্যৎ...
তারপর একজন আত্মীয় হেসে বললেন—
— "দুজন একটু আলাদা কথা বলে নাও।"
কিছুক্ষণের মধ্যে মেঘলা আর ছেলেটা বারান্দায় দাঁড়িয়ে।
কিছুক্ষণ নীরবতা।
শেষে ছেলেটাই বলল—
— "আপনি খুব অস্বস্তিতে আছেন, তাই না?"
মেঘলা অবাক হয়ে তাকাল।
ছেলেটা হালকা হেসে বলল—
— "বুঝতে পারছি।"
মেঘলা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—
— "আমি একটা কথা সত্যি করে বলতে চাই।"
— "বলুন।"
মেঘলার গলা কাঁপছিল।
— "আমি কাউকে ভালোবাসি।"
ছেলেটা চুপ করে শুনল।
— "তাহলে তো উত্তর পেয়ে গেলাম।"
মেঘলা অবাক।
— "আপনি রাগ করলেন না?"
ছেলেটা মাথা নাড়ল।
— "ভালোবাসা জোর করে হয় না।"
মেঘলার চোখ ভিজে গেল।
অনেকদিন পরে কেউ তাকে বিচার না করে শুনল।
কিছুক্ষণ পর তারা ভেতরে ফিরে এল।
পরিবারের সবাই অপেক্ষা করছে।
মেঘলার বাবা জিজ্ঞেস করলেন—
— "কী কথা হলো?"
মেঘলা গভীর শ্বাস নিল।
আজ সে ভয় পাচ্ছে।
খুব ভয়।
তবুও বলল—
— "আমি এই বিয়ে করতে চাই না।"
মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘর নিস্তব্ধ।
তার বাবার মুখ শক্ত হয়ে গেল।
— "কী বললে?"
মেঘলা এবার আরও স্পষ্ট করে বলল—
— "আমি এই বিয়ে করব না।"
ঘরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল।
কেউ বুঝানোর চেষ্টা করছে।
কেউ রাগ করছে।
কেউ হতাশ।
কিন্তু আজ মেঘলা প্রথমবার নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে রইল।
সেদিন রাতে...
সে ঈশাকে ফোন করল।
ফোন ধরতেই ঈশা বলল—
— "কী হয়েছে?"
মেঘলার চোখে জল।
কিন্তু ঠোঁটে হাসি।
— "আমি না বলে দিয়েছি।"
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড কোনো শব্দ নেই।
তারপর ঈশার কাঁপা গলা—
— "সত্যি?"
— "হ্যাঁ।"
ঈশা কেঁদে ফেলল।
মেঘলাও।
দুজনের কেউ কিছু বলতে পারছিল না।
কারণ কখনো কখনো কান্নাই সবচেয়ে সত্যি উত্তর।
কিন্তু...
লড়াই এখনও শেষ হয়নি।
কারণ না বলে দেওয়া সহজ ছিল।
এবার সেই সিদ্ধান্তের পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
আর সেই পরিণতি তাদের কল্পনার চেয়েও কঠিন হতে চলেছে...
Part 18: “ঝড়ের পরের অন্ধকার”
মেঘলা বিয়েতে না বলার পর বাড়ির পরিবেশ পুরো বদলে গেল।
আগে যেখানে কথা হতো, এখন সেখানে নীরবতা।
আগে যেখানে হাসি ছিল, এখন সেখানে চাপা রাগ।
মেঘলার বাবা তার সঙ্গে প্রায় কথা বলছেন না।
মা মাঝেমধ্যে বোঝানোর চেষ্টা করেন।
— "জীবন শুধু ভালোবাসা দিয়ে চলে না মা..."
মেঘলা চুপ করে শোনে।
কারণ সে জানে—
মায়ের কথায় যুক্তি আছে।
কিন্তু তার হৃদয়েরও তো একটা সত্যি আছে।
ওদিকে ঈশার জীবনও সহজ নয়।
বাড়িতে এখনও চাপ চলছে।
ফোন ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন।
বাইরে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন।
তবুও একটা জিনিস তাদের বাঁচিয়ে রেখেছে।
প্রতিদিন রাতের সেই কয়েক মিনিটের কথা।
সেদিন রাতেও ফোনে কথা হচ্ছিল।
— "ক্লান্ত?" ঈশা জিজ্ঞেস করল।
মেঘলা একটু হেসে বলল—
— "খুব।"
— "আমিও।"
কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ।
তারপর মেঘলা বলল—
— "জানো, মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা যদি শুধু সাধারণ বন্ধু হতাম..."
ঈশার বুকটা কেঁপে উঠল।
— "তাহলে হয়তো এত কষ্ট হতো না।"
ঈশা ধীরে বলল—
— "হয়তো..."
— "কিন্তু তখন আমি তোমাকে এভাবে ভালোবাসতামও না।"
ওপাশে মেঘলার নরম হাসি শোনা গেল।
— "তুমি মাঝে মাঝে খুব সুন্দর কথা বলো।"
— "কারণ আমি সত্যি কথা বলি।"
সেই রাতে দুজনেই একটু হালকা হয়েছিল।
কিন্তু পরের দিন...
সবকিছু আবার বদলে গেল।
দুপুরে মেঘলা ঈশাকে ফোন করল।
তার গলা কাঁপছে।
— "ঈশা..."
— "কি হয়েছে?"
— "বাবা বলেছে আমাকে বিদেশে মামার কাছে পাঠিয়ে দেবে।"
ঈশার হাত থেকে ফোন প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।
— "কি?"
— "ওরা ভাবছে পরিবেশ বদলালে আমি সব ভুলে যাব..."
নীরবতা।
খুব দীর্ঘ নীরবতা।
ঈশা কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না।
মেঘলা আস্তে বলল—
— "যদি সত্যিই যেতে হয়..."
— "তাহলে?"
— "তুমি অপেক্ষা করবে?"
ঈশার চোখ ভিজে গেল।
সে জানালার বাইরে তাকাল।
আকাশে মেঘ।
ঠিক সেই প্রথম দিনের মতো।
তারপর খুব আস্তে বলল—
— "অপেক্ষা করতে হলে করব।"
— "এক বছর..."
— "দুই বছর..."
— "যতদিন লাগে..."
ওপাশে মেঘলার কান্নার শব্দ।
— "আমি ভাগ্যবতী..."
— "কেন?"
— "কারণ আমি তোমাকে পেয়েছি।"
ঈশা চোখ মুছে হাসল।
কিন্তু তার মন জানে—
সামনে আরও বড় পরীক্ষা আসছে।
কারণ ভালোবাসা শুধু কাছে থাকার পরীক্ষা নেয় না।
দূরে থেকেও পরীক্ষা নেয়।
সেদিন রাতে...
দুজনেই ঘুমাতে পারল না।
একজন ভাবছে—
"আমি কি সত্যিই চলে যাব?"
আরেকজন ভাবছে—
"আমি কি সত্যিই অপেক্ষা করতে পারব?"
কিন্তু দুজনের মনেই একই ইচ্ছা।
একদিন আবার দেখা হবে।
 To be continued…