মায়াডোর

(11)
  • 9
  • 0
  • 17k

কলমে : রায়হানা ইয়াসমিন রায় কলেজের করিডোর দিয়ে দ্রুত পায়ে হেঁটে যাচ্ছে মেহুল। হাতে ফিজিক্সের মোটা বই,পরনে সাধারণ সুতির সালোয়ার কামিজ। মেহুল ধবধবে ফর্সা নয় কিন্তু ওর মুখে আলাদা একটা মায়া আছে, মেহুল যখন হাসে তখন ওর গজদন্তি ও গালের টোল পড়ার দৃশ্যটা অপূর্ব সুন্দর। কিন্তু আজ মেহুলের মুখে হাসি নেই, বরং চোখে একরাশ আতঙ্ক। কারণ আজ ফিজিক্সের ক্লাসে দেরি হয়ে গেছে, আর লেকচার থিয়েটারে স্বয়ং "আদ্রিয়ান চৌধুরী"। মে আই কাম ইন, স্যার ? মেহুলের গলা ভয়ে শুকিয়ে এলো।

Full Novel

1

মায়াডোর - পর্ব 1

কলমে : রায়হানা ইয়াসমিন রায়কলেজের করিডোর দিয়ে দ্রুত পায়ে হেঁটে যাচ্ছে মেহুল।হাতে ফিজিক্সের মোটা বই,পরনে সাধারণ সুতির সালোয়ার কামিজ। ধবধবে ফর্সা নয় কিন্তু ওর মুখে আলাদা একটা মায়া আছে, মেহুল যখন হাসে তখন ওর গজদন্তি ও গালের টোল পড়ার দৃশ্যটা অপূর্ব সুন্দর।কিন্তু আজ মেহুলের মুখে হাসি নেই, বরং চোখে একরাশ আতঙ্ক। কারণ আজ ফিজিক্সের ক্লাসে দেরি হয়ে গেছে, আর লেকচার থিয়েটারে স্বয়ং "আদ্রিয়ান চৌধুরী"।মে আই কাম ইন, স্যার ? মেহুলের গলা ভয়ে শুকিয়ে এলো।আদ্রিয়ান ঘড়ি না দেখেই গম্ভীর গলায় বলল —"টুয়েন্টি মিনিটস লেট, মিস শিকদার। তুমি কি কলেজের নিয়মগুলো তোমার বাড়িতে ফেলে এসেছো ? নাকি শিকদার বাড়ির অভিযাত্য তোমেক ...Read More

2

মায়াডোর - পর্ব 2

কলমে : রায়হানা ইয়াসমিন রায়রাত তখন আড়াইটা কি তিনটে। পুরো বাড়ি নিঃশব্দতাই ডুবে আছে। মেহুল তখন আদ্রিয়নের পড়ার টেবিলে রেখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।আদ্রিয়ান নিজের চেয়ার ছেড়ে ধীর পায়ে মেহুলের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। ল্যাম্পের হলদেটে আলোয় মেহুলের ঘুমন্ত মুখটা আজ বড় বেশিই মায়াবী লাগছে। আদ্রিয়ান কিছুক্ষন একদৃষ্টিতে সেই মুখের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।তারপর খুব সাবধানে, যেন মেহুলের ঘুম না ভাঙে, ওকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিজের বিছানায় শুইয়ে দিল।মেহুলকে নিজের বিছানায় শুইয়ে দেওয়ার পর আদ্রিয়নের মনে হলো, ঘরের বাতাস যেন হঠাৎই ভারী হয়ে গেছে। বুঁকের ভেতর এক অদ্ভুদ অস্তিরতা আর তোলপাড়। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ে সে আর রুমে থাকলো ...Read More

3

মায়াডোর - পর্ব 3

আজ মেহুলের এক্সাম। সারা রাত পড়ার পর ভোরের দিকে যখন ফজরের আজান দিল, মেহুল উঠে নামাজ পড়ে নিল। আজ ঘুমাল না, বরং নিচে নেমে গেল ফুফুকে সাহায্য করতে। আজ আদ্রিয়ানের আব্বু, **আফতাব চৌধুরী**, দীর্ঘ এক বছর পর সৌদি আরব থেকে বাড়ি ফিরছেন। শুধু আব্বু নন, আজ আদ্রিয়ানের একমাত্র ফুফু **রাবেয়া বেগম** উনার ছেলে আরান আর মেয়ে সারাকে নিয়ে আসছেন দাদাকে স্বাগত জানাতে। বাড়িতে আজ এলাহি কাণ্ড, খুশির আমেজ!সকাল সাতটা। মেহুল কিচেনে ফুফুকে আদা কুচিয়ে দিচ্ছিল, এমন সময় আদ্রিয়ান নিচে নামল। পরনে আজ একটা ধূসর রঙের টি-শার্ট আর ব্ল্যাক ট্রাউজার। এই ক্যাজুয়াল লুকেও লোকটাকে বড্ড বেশি সুন্দর লাগে—মেহুল আড়চোখে একবার ...Read More

4

মায়াডোর - পর্ব 4

রাত তখন ১২টা ২৫। পুরো শহর ঘুমিয়ে পড়লেও আজ চৌধুরী বাড়িতে ঘুমের নামগন্ধ নেই। দীর্ঘ এক বছর পর বাড়ির আফতাব চৌধুরী বিদেশ থেকে ফিরেছেন। সাথে একমাত্র আদরের বোন রাবেয়া বেগমও এসেছেন দাদাকে দেখতে। ড্রয়িং রুমে যেন চাঁদের হাট বসেছে। মেজাজটাও বেশ ফুরফুরে সবার। আদ্রিয়ানের মা , আব্বু , ফুফু আর ফুফুর দুই ছেলে-মেয়ে সারা আর আরান মিলে গল্পের খই ফোটাচ্ছে। কিন্তু সেই আড্ডায় মেহুলের থাকা একদম বারণ। আদ্রিয়ানের কড়া শাসন— 'মেহুলের এখন আড্ডা দেওয়ার সময় নয়, এক্সাম চলছে তাই ওকে পড়তে হবে'।এদিকে আরাধ্যা আজ কোনোভাবেই মায়ের কাছে ঘুমাবে না, তার বায়না সে মেহুলের কাছেই ঘুমাবে। ডিনার শেষে যখন বিছানা ...Read More

5

মায়াডোর - পর্ব 5

কলমে : রায়হানা ইয়াসমিন রায়..পর্ব : ০৫আজ মেহুল খুব তাড়াতাড়িই ঘুম থেকে উঠেছে। ভোরের আলো এখনো পরিষ্কার হয়ে ফোটেনি, এক রহস্যময় ধোঁয়াশায় ঢাকা। আজ এই বাড়ির আবহাওয়াটাও যেন একটু থমথমে। কারণ, আজ বহু বছর পর মেহুলের আব্বু সোহিকুল শিকদার, তার সৎ মা তহিদা বেগম এবং তার একমাত্র সৎ বোন এই বাড়িতে আসছেন। আদ্রিয়ানের আব্বু আফতাব চৌধুরী নিজে উদ্যোগ নিয়ে তাদের নিমন্ত্রণ করেছেন। আসলে এই আয়োজনটা অনেক আগেই হতে পারত, কিন্তু আদ্রিয়ানের কড়া নিষেধ ছিল। সে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল— মেহুলের পড়াশোনা আর পরীক্ষার মাঝে যেন কোনো বাইরের ঝামেলা না আসে। আগে মেহুলের এক্সাম শেষ হোক, তারপর অন্য সব।কাল মেহুলের অবশেষে ...Read More

6

মায়াডোর - পর্ব 6

আজ সকাল থেকেই চৌধুরী বাড়িতে একটা সাজ সাজ রব।আজ মেহুলের আব্বু, সৎ মা ও মেহুলের সৎ বোন রেনভী আজই বাড়ি আসার কথা। ঠিক সেই সময় দরজায় কলিং বেলের শব্দ হলো। মেহুল তখন ড্রয়িংরুমেই বসে ছিল, ফুফুর কথায় বাধ্য হয়ে, দরজাটা খুললো।তখনই শুরু হলো আসল নাটক। দরজা খোলার সাথে সাথেই তহিদা বেগম যেন মেহুলকে দেখে আবেগে ফেটে পড়লেন। মেহুল কিছু বুঝে ওঠার আগেই তহিদা দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধড়লেন। মেহুলকে জড়িয়ে ধরে তিনি ডুকরে কেঁদে উঠলেন।মেহুলের সারা মুখে আর কপালে বারবার চুমু খেয়ে বলতে লাগলেন— " কত বছর দেখিনি রে মা তোকে! কত বড়ো হয়ে গেছিস। একবারও কি তোর ...Read More

7

মায়াডোর - পর্ব 7

রাত বাড়লে শহর নিঝুম হয়, কিন্তু মনের ভেতরের কোলাহল কি কমে। মেহুল সারারাত বেলকেনিতে বসে আকাশের দিকে তাকিয়েই কাটিয়ে আকাশের কোনে ম্লান চাঁদ টা ওর একাকিত্বের সাক্ষী হয়ে রইলো।ভোরের হালকা আলো যখন ওর ফ্যাকাসে মুখে পড়লো, তখন ওর চোখের কোনে শুকিয়ে যাওয়া পানির দাগ। ওর মনে বারবার একটা প্রশ্নই বিষাক্ত সাপের মতো ফণাতুলছে— "আদি ভাইয়া যদি অন্য কাউকেই ভালোবাসে, তবে আমার ওপর কেন এতো অধিকার দেখায়? কেন আমাকে নিয়ে সবসময় এতো সিরিয়াস থাকে? কেন এই মিথ্যে মায়ার বাঁধনে আমাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়েছে?কাল রাতে আদ্রিয়ান কতবার দরজায় কড়া নেড়েছিল। ওর সেই গম্ভীর স্বর— " মাইরা দরজা খোল। খাবার নিয়ে এসেছি।" মেহুল ...Read More

8

মায়াডোর - পর্ব 8

কাল সারারাত মেহুল দু চোখের পাতা এক করতে পারেনি। যখনি ও চোখ বন্ধ করছে ওর মনে হচ্ছে আদ্রিয়ান ওর কাছে ওর নিঃশ্বাসের তপ্ত হাওয়া মেহুলের ঠোঁটে এসে লাগছে। সেই নেশাক্ত স্পর্শে স্মৃতি মেহুলকে যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। সারা আর আরাধ্যা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকলেও মেহুল বারবার উঠে পড়ছে। অস্থিরতা কাটাতে ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো। রাতের নিস্তব্ধতায় আদ্রিয়ানের সেই কথাটা বারবার কানে বাজছে— "আমি তো নূপুরটা তোকে নিজে হাতে পরাবো বলে কিনে ছিলাম!" কথাটা মনে পড়তেই মেহুল লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে। এমনকি রাতে যখন সবাই একসাথে খেতে বসেছিল মেহুল লজ্জায় আদ্রিয়ানের দিকে তাকাতেই পারছিলো না।সকালেই ঠিক করা হয়েছে আজ বিকালে সবাই ...Read More

9

মায়াডোর - পর্ব 9

রায়হানা ইয়াসমিন রায়কৃষ্ণসায়র পার্কের মায়াবী বিকেলটা কেটেছে মাত্র দু দিন আগে। কাল সন্ধ্যায় ওরা বাড়ি ফিরেছে। টানা পাঁচদিন পর চিরচেনা ঘরে ফিরে মেহুলের এক অদ্ভুদ শূন্যতা অনুভব করছে। পরশু ২১শে অক্টোবর মেহুলের বিশতম জন্মদিন। বাড়ির বড়োরা মেহুলকে সারপ্রাইস দেওয়ার জন্য মনে মকনে অনেক পরিকল্পনা করে রেখেছেন, যার বিন্দু মাত্র আভাস মেহুলের কাছে নেই। মেহুলের নিজেরও এসব নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই।আজ শুক্রবার। অনেকদিন পর মেহুল কলেজ যাওয়ার জন্য তৈরী হলো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হিজাবটা ঠিক করে যখন সে নিচে নামছিল, ঠিক তখনি সিঁড়িতে আদ্রিয়ানের সাথে দেখা। আদ্রিয়ান ওপরের দিকে যাচ্ছিলো। মেহুলের খুব পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় সে মেহুলের দিকে ...Read More

10

মায়াডোর - পর্ব 10

কলমে: রায়হানা ইয়াসমিন রায়রাত বাড়লে শহরের কোলাহল কমে আসে, কিন্তু মনের ভেতরের হাহাকারগুলো যেন তখন দ্বিগুণ শব্দে গর্জে ওঠে। আজ সারা রাত দুচোখের পাতা এক করতে পারেনি। অন্ধকার ঘরে জানলার পর্দাটা সরিয়ে সে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট, যার ধোঁয়াগুলো রাতের নিস্তব্ধতায় কুণ্ডলী পাকিয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে। ওর কানে এখনো বাজছে মেহুলের বলা সেই কথাগুলো— প্রতিটা শব্দ যেন একেকটা তপ্ত সিসার মতো ওর বুকে বিঁধছে। মাথার ভেতর স্মৃতির চাকতি অবিরাম ঘুরপাক খাচ্ছে।সিগারেটের শেষ অংশটা ফেলে দিয়ে আদ্রিয়ান আকাশের দিকে তাকালো। আজ রাতের আকাশে একটাও তারা নেই; এক বিশাল কালো শূন্যতা যেন গ্রাস করে নিতে চাইছে পুরো পৃথিবীকে। এই নিঃশব্দ ...Read More

11

মায়াডোর - পর্ব 11

“মায়াডোর”‘রায়হানা ইয়াসমিন রায়’মেহুলের একুশতম জন্মদিন আজ। তবে কাল রাতের সেই হাড়কাঁপানো অ্যাডভেঞ্চারের পর আজ ওর কলেজ যাওয়া শিকেয় উঠেছে। চৌধুরী সকাল থেকেই রান্নাঘরে এলাহি তোড়জোড় শুরু করেছেন। ঘড়িতে এখন বেলা ১১টা পার হতে চলল, অথচ মেহুলের ঘরের দরজা এখনো ভেতর থেকে খিল দেওয়া। হবেই বা না কেন? কাল রাত ৪টেয় যখন ওরা বাড়ি ফিরেছিল, তখন চারপাশ নিঝুম। আদ্রিয়ান অতি সন্তর্পণে মেহুলকে ওর ঘরে পাঠিয়ে নিজে একটা লম্বা শাওয়ার নিয়ে ফজরের নামাজ পড়তে বেরিয়ে গিয়েছিল। এরপর মেহুলও ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়ে সেই যে এক ঘুম দিয়েছে, এখনও ওঠার নামগন্ধ নেই। দুনিয়ার কোনো আওয়াজই যেন আজ তার কানে পৌঁছাচ্ছে না।সকাল থেকে ...Read More