কলমে: রায়হানা ইয়াসমিন রায়
রাত বাড়লে শহরের কোলাহল কমে আসে, কিন্তু মনের ভেতরের হাহাকারগুলো যেন তখন দ্বিগুণ শব্দে গর্জে ওঠে। আদ্রিয়ান আজ সারা রাত দুচোখের পাতা এক করতে পারেনি। অন্ধকার ঘরে জানলার পর্দাটা সরিয়ে সে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট, যার ধোঁয়াগুলো রাতের নিস্তব্ধতায় কুণ্ডলী পাকিয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে। ওর কানে এখনো বাজছে মেহুলের বলা সেই কথাগুলো— প্রতিটা শব্দ যেন একেকটা তপ্ত সিসার মতো ওর বুকে বিঁধছে। মাথার ভেতর স্মৃতির চাকতি অবিরাম ঘুরপাক খাচ্ছে।
সিগারেটের শেষ অংশটা ফেলে দিয়ে আদ্রিয়ান আকাশের দিকে তাকালো। আজ রাতের আকাশে একটাও তারা নেই; এক বিশাল কালো শূন্যতা যেন গ্রাস করে নিতে চাইছে পুরো পৃথিবীকে। এই নিঃশব্দ প্রহরে আদ্রিয়ানের অজান্তেই ওর চোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়লো। আদ্রিয়ান চৌধুরী, যে কি না সবসময় পাহাড়ের মতো অটল থাকে, সে আজ মেহুলকে হারিয়ে ফেলার একরাশ ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে। ওর বুকের বাম পাশটা বারবার মোচড় দিয়ে উঠছে। অন্ধকার রাতে নিজেকে বড়ই নিঃস্ব আর একা মনে হতে লাগলো তার। মেহুলের বিয়ে আটকানোই এখন ওর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য, কিন্তু সেই পথটা যে বড্ড কুয়াশাচ্ছন্ন।
---
পরদিন সকালটা এল একরাশ বিষণ্ণতা নিয়ে। ভোরের আলো ফুটলেও আকাশের মুখ ভার। এই বিষাদ কি শুধুই আদ্রিয়ানের মনে, নাকি মেহুলের হৃদয়েও এর ভাগ আছে? মেহুলের আজ বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছিল না, কিন্তু নিয়মের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কলেজের জন্য তৈরি হলো। মেহুল যখন সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলো, তার কিছুক্ষণ পরেই আদ্রিয়ান নামলো। দুজনেই একই ছাদের নিচে, অথচ দুজনের মাঝে যেন যোজন যোজন দূরত্ব। আজ কলেজে ট্যুর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, আদ্রিয়ানকে সেখানে থাকতেই হবে। আদ্রিয়ান দ্রুত ব্রেকফাস্ট শেষ করে কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলো। মেহুল আজ যেন এক যন্ত্রমানবী। আদ্রিয়ান কখন ঘরে এলো বা কখন বেরিয়ে গেলো, সেদিকে ওর বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই। ওর শরীরের রক্ত যেন আজ হিম হয়ে গেছে, নেই কোনো চঞ্চলতা।
নিশিতা চৌধুরীর ডাকে মেহুল সংবিৎ ফিরে পেল।
"কি রে মেহুল, তুই কলেজ যাবি না?"
মেহুল অত্যন্ত ধীর আর ফ্যাকাশে স্বরে উত্তর দিল— "হুম ফুফু, যাবো তো।"
বলেই মেহুল চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়তে চাইলে নিশিতা চৌধুরী ব্যস্ত হয়ে বললেন— "আরে খাবারটা তো শেষ করে ওঠ!"
মেহুল নিজের সামনের প্লেটটার দিকে তাকিয়ে এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সে শুধু বললো— "সময় নেই ফুফু, কলেজে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাবে।"
কাঁধে ব্যাগ নিয়ে মেহুল বেরিয়ে গেলো। নিশিতা চৌধুরী তার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন। টেবিল থেকে এঁটো প্লেটগুলো তুলতে গিয়ে তিনি হঠাৎ থমকে গেলেন। উথালপাথাল করে উঠল ওনার স্মৃতি। মনের আয়নায় ভেসে উঠলো আজ থেকে প্রায় তেরো বছর আগের এক দৃশ্য।
সেদিন ছিল এক ভয়ঙ্কর ঝড়-বৃষ্টির রাত। পুরো এলাকায় লোডশেডিং। অন্ধকারে চৌধুরী বাড়িতে মোমবাতি আর হ্যারিকেনের আলোয় উৎসবের আমেজ। বড়দের হাসি-ঠাট্টায় পুরো বাড়ি গমগম করছে। আদ্রিয়ানের দাদি তখন আদর করে আদ্রিয়ানকে কাছে টেনে বলেছিলেন— "আমার আদি সোনার বিয়ে আমি সারার সাথেই দেবো।"
তখনি সবাইকে চমকে দিয়ে ছোট্ট আদ্রিয়ান চট করে মেহুলের হাত শক্ত করে ধরে উঠে দাঁড়িয়েছিল। সবার সামনে গলা উঁচিয়ে সে ঘোষণা করেছিল—
"না, আমি মাইরাকেই বিয়ে করব। আমি আদ্রিয়ান চৌধুরী কথা দিচ্ছি আমি বড় হয়ে মাইরাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করব না।"
সেই রাতে সবাই কথাটা হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল, কিন্তু নিশিতা চৌধুরীর মনে সেদিনই ভয়ের বীজ রপন হয়েছিল। সত্যি কি আদ্রিয়ান তার কথা রাখবে? কিন্তু আদ্রিয়ান যখন বড় হতে শুরু করলো, মেহুলের প্রতি তার বড় ভাইয়ের মতো কড়া শাসন দেখে নিশিতা চৌধুরীর সেই সংশয় কেটে গিয়েছিল। তবে গত কয়েকদিনের ঘটনা সেই পুরনো সন্দেহকে আবারও চাঙ্গা করে তুলেছে।
"কি হয়েছে নিশি তোমার? সেই কখন থেকে ডাকছি!"
আফতাব চৌধুরীর ডাকে কল্পনার জগত থেকে ফিরে এলেন নিশিতা চৌধুরী । তড়িঘড়ি করে প্লেটগুলো তুলতে তুলতে তিনি বললেন—
"কই না তো, কিছু হয়নি আমার। আমি ঠিক আছি।" বলেই তিনি রান্নাঘরের দিকে দ্রুতপায়ে চলে গেলেন।
---
কলেজের গেটে পা রাখতেই আরশি মেহুলকে কার্যত ছেঁকে ধরলো। আরশির চোখেমুখে একরাশ বিরক্তি আর উদ্বেগ।
"কি রে মেহুল, এতদিন কলেজে আসিস নি কেন? কতবার ফোন করেছি তোকে, তুই ফোন তুলিসনি কেন?"
মেহুল কোনো ভাবান্তর ছাড়াই খুব স্বাভাবিক গলায় পালটা প্রশ্ন করলো— "ফোন করেছিলি?"
আরশির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল। সে মেহুলের কাঁধ ধরে একটু ঝাঁকিয়ে অস্থির গলায় জিজ্ঞেস করল—
"এই তুই ঠিক আছিস? তোকে ভূতে ধরলো নাকি? এইভাবে কেন কথা বলছিস তুই?"
মেহুল কোনো উত্তর দিল না। নিজের ওড়না দিয়ে মুখের ঘামটুকু মুছে নিয়ে খুব নিস্পৃহভাবে বলল— "আচ্ছা ক্লাসে চল, খুব রোদ এখানে।"
এই বলেই সে গটগট করে ভেতরে চলে গেল।
মেহুল যখন গেটে আরশির সাথে কথা বলছিল, তখন ওপরের করিডোর থেকে আদ্রিয়ান একদৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে ছিল। ওর দৃষ্টিতে ছিল হারানোর আতঙ্ক আর এক অদ্ভুত গভীরতা। আদ্রিয়ানের আজ প্রথম ক্লাস। সে ক্লাসে ঢুকতেই মেহুলের সাথে তার দৃষ্টি বিনিময় হলো। আদ্রিয়ানের সেই চাহনি ছিল গভীর অথচ শান্ত হওয়া সমুদ্রের মতো। অন্যদিন হলে এই দৃষ্টিতে মেহুলের মনে ঝড় উঠত, কিন্তু আজ তার বুকটা এক অজানা আশঙ্কায় বারবার কেঁপে উঠছে।
ক্লাসে মেহুলের আজ মন নেই । সে একবার জানলার বাইরে তাকিয়ে থাকা সেই বিশাল বড় কাঠগোলাপ গাছটাকে দেখছে, তো একবার আদ্রিয়ানের দিকে তাকাচ্ছে। ক্লাসে মেহুল আজ অমনোযোগী হওয়া সত্ত্বেও আদ্রিয়ান সবকিছু দেখেও চুপ। সে জানে মেহুলের ভেতরের রক্তক্ষরণ কতখানি। ক্লাস শেষে আদ্রিয়ান বেরিয়ে গেলে আরশি আবারও মেহুলকে ধরল।
"এই মেহুল, কাল কিন্তু তোর জন্মদিন আর আমার ট্রিট লাগবেই!"
মেহুল স্তব্ধ। তার চোখের সামনে জন্মদিনের আনন্দ নয়, বরং ভবিষ্যতের এক ধূসর ছবি ভাসছে। তাকে চুপ থাকতে দেখে আরশি তেজ দেখিয়ে বলল—
"তোর হয়েছেটা কি? সকাল থেকে দেখছি কোনো কথা বলছিস না। কেন এমন উদাস হয়ে আছিস তুই?"
মেহুল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাঙা গলায় শুধু বলল— "আমার শরীর ভালো না আরশি, কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।"
ঠিক তখনই ক্লাসে আবারও প্রবেশ করল আদ্রিয়ান আর তার সাথে কলেজের অধ্যক্ষ অনির্বাণ চ্যাটার্জি। লেকচার থিয়েটারের সামনে দাঁড়িয়ে অধ্যক্ষ গম্ভীর গলায় ভাষণ শুরু করলেন।
"স্টুডেন্টস, তোমরা সবাই জানো আগামী ২৫ তারিখে কলেজ থেকে দার্জিলিং ট্যুরে যাওয়া হচ্ছে। ধরে নাও এটা তোমাদের ফেয়ারওয়েল ট্যুর। কারণ তোমাদের এটা ফাইনাল ইয়ার চলছে।সায়ন, তুমি তোমাদের ক্লাসের দায়িত্বটা নিও। আর রাকিব, তুমি ফার্স্ট ইয়ারের দিকটা সামলাও।"
হঠাৎ সবাইকে অবাক করে দিয়ে আদ্রিয়ান মাঝপথে বলে উঠল— "বলছি স্যার, সায়ন বরং ফার্স্ট ইয়ারের দায়িত্ব নিক। ও পারবে ওদের চঞ্চলতা সামলাতে। আর রাকিব না হয় এই ক্লাসের দায়িত্ব নিক।"
অনির্বাণ চ্যাটার্জি কিছুক্ষণ আদ্রিয়ানের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে হেসে মাথা নাড়লেন— "ঠিক বলেছ আদ্রিয়ান। সায়ন, তুমিই ফার্স্ট ইয়ারের দায়িত্ব নাও।"
মুহূর্তে সায়নের মুখটা চুপসে গেল। সে ভেবেছিল এই ট্যুরে প্রতিটা মুহূর্ত সে মেহুলের পাশে থাকবে। কিন্তু আদ্রিয়ান খুব সুচারুভাবে সেই আশায় জল ঢেলে দিল। অধ্যক্ষ আবারও বললেন— "সায়ন আর রাকিব, তোমরা ব্রেক টাইমে কনফারেন্স রুমে দেখা করো। ওখানে সবাই থাকবে, কিছু বিষয় বুঝিয়ে দেওয়া হবে।"
সায়ন ম্লান মুখে শুধু বলল— "ওকে স্যার।"
আদ্রিয়ান আর অধ্যক্ষ ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলেন। মেহুল তখনো জানলার দিকে তাকিয়ে আছে।
⁻⁻⁻⁻
আদ্রিয়ান বাড়ি ফেরার আগেই মেহুল ঘরে ফিরেছে। বাইরের রোদে তপ্ত হয়ে আসা শরীরটা নিয়ে আদ্রিয়ান যখন দোতলায় উঠল, দেখল মেহুলের ঘরের দরজাটা হাট করে খোলা। অথচ ভেতরে মেহুল নেই। আদ্রিয়ান এক মুহূর্ত থমকে দাঁড়াল—মেয়েটা কি তবে এখনো কলেজ থেকে ফেরেনি? বুকের ভেতরটা অকারণে একটু মোচড় দিয়ে উঠল ওর।
আদ্রিয়ান যখন নিজের ঘরের দিকে ঘুরতে যাবে, ঠিক তখনি পেছন থেকে ঝড়ের বেগে ছুটে আসছিল মেহুল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেহুল প্রায় ওর ওপর আছড়ে পড়ল। ধাক্কা সামলাতে না পেরে মেহুল যখন পড়ে যেতে নিচ্ছিল, আদ্রিয়ান বিদ্যুৎবেগে ওর দুই বাহু শক্ত করে চেপে ধরল। পতন থেমে গেল, কিন্তু সময়ের কাঁটা যেন স্থির হয়ে গেল এক মুহূর্তের জন্য।
আদ্রিয়ান ভ্রু কুঁচকে মেহুলকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে শাসনের সুরে বলে উঠল—
"এইভাবে ছুটছিস কেন? পড়ে গেলে কী হতো?"
মেহুল হাঁপাতে হাঁপাতে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনি পেছন থেকে আরাধ্যা একটা নরম বল লক্ষ্য করে ছুঁড়ল মেহুলের দিকে। কিন্তু মেহুলকে আঘাত করার আগেই আদ্রিয়ান এক ঝটকায় মেহুলকে নিজের পেছনের দিকে ঘুরিয়ে সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ালো। বলটা সজোরে এসে লাগল আদ্রিয়ানের পিঠে।
আরাধ্যা খুশিতে চিৎকার করে উঠল— "ইয়ে! ভাইয়া আউট, ভাইয়া আউট! এবার ভাইয়া চোর দেবে, আমরা খেলব!"
আদ্রিয়ানের চওড়া পিঠের আড়ালে দাঁড়িয়ে মেহুল তখন মুখ টিপে হাসছে। বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওর চোখেমুখে এক চিলতে দুষ্টুমি উঁকি দিল। আদ্রিয়ান মেহুলকে হাসতে দেখে,ভ্রু উঁচিয়ে ইশারায় জিজ্ঞেস করল— "কী?"
মেহুল তো হেসেই খুন । সে আদ্রিয়ানের হাতের বাঁধন থেকে নিজেকে মুক্ত করে আরাধ্যার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। দুজনে কোমরে হাত দিয়ে একদম এক সুরে বলে উঠল—
"যাও যাও, গিয়ে তাড়াতাড়ি ড্রেস চেঞ্জ করে আসো। এবার তুমি চোর হবে!"
আদ্রিয়ান ধীরপায়ে এগিয়ে আসতে আসতে নিস্পৃহ গলায় বলল— "আমি এইসব খেলব না।"
মেহুলের একদম কোল ঘেঁষে যাওয়ার সময় সে হঠাৎ থমকে দাঁড়ালো। মেহুলের কানের খুব কাছে নিজের মুখটা নামিয়ে আনল আদ্রিয়ান। একদম নিচু আর হাস্কি স্বরে ফিসফিস করে বলল—
"আমি না হয় রাতে খেলব...!"
কথাটা বলেই আদ্রিয়ান মেহুলের পাশ কাটিয়ে গটগট করে নিজের রুমের ভেতর চলে গেল। মেহুল যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক জায়গায় জমে পাথর হয়ে গেল। ওর সারা শরীরের লোমকূপ খাড়া হয়ে উঠল এক অজানা শিহরণে। বুকের ভেতরটা যেন কেউ ভারি হাতুড়ি দিয়ে পিটাচ্ছে! মেহুল স্থির চোখে সামনের দেয়ালের দিকে তাকিয়ে রইল, নড়ার ক্ষমতাটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছে।
"ইরা দিদি, তোমার কী হলো?"
আরাধ্যার ডাকে মেহুলের ঘোর কাটল। সে যেন এক ঘোরের জগত থেকে বাস্তবে আছড়ে পড়ল। হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে কপালের ঘামটুকু মুছে নিয়ে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল মেহুল। ধীর গলায় শুধু বলল— "আমি আর এখন খেলব না রে আরাধ্যা, পরে খেলব ওকে?"
বলেই সে প্রায় দৌড়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। আরাধ্যা কিছুই বুঝে উঠতে পারল না। সে শুধু বড় বড় চোখে বিষ্ময় নিয়ে মেহুলের যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইল। আদ্রিয়ানের সেই কয়েকটা শব্দ মেহুলের মনের শান্ত হ্রদে যে কী তীব্র ঢেউ তুলেছে, তা কেবল মেহুলই জানে।
⁻⁻⁻⁻
রাত তখন গভীর। ঘড়ির কাঁটা ১১টা বেজে ১০ মিনিটের ঘর ছুঁয়েছে। পুরো চৌধুরী বাড়ি এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় ডুবে আছে, সবাই যার যার ঘরে ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন। কিন্তু আদ্রিয়ানের চোখে আজ ঘুমের লেশমাত্র নেই। সে অস্থির পায়ে পায়চারি করছে নিজের ঘরে—একবার ব্যালকনিতে যাচ্ছে, আবার ফিরে এসে ঘড়ি দেখছে। তার প্রতিটি রক্তবিন্দুতে এখন এক তীব্র উত্তেজনা। সে অপেক্ষা করছে রাত ১২টা বাজার; মেহুলের জীবনের বিশেষ এক মুহূর্তের সাক্ষী হতে।
রাত যখন ১১:৫০, আদ্রিয়ান আর দেরি করল না। সে নিঃশব্দে নিজের ব্যালকনি থেকে মই বেয়ে নিচে নামল। দীর্ঘ সেই মইটা নিয়ে অতি সন্তর্পণে সে মেহুলের ব্যালকনির নিচে গিয়ে দাঁড়াল। মইটা ব্যালকনির রেলিংয়ের সাথে ঠেকিয়ে সে বিড়ালের মতো নিঃশব্দে উঠে গেল ওপরে। আজ হয়তো আদ্রিয়ানের সময় এসেছে, কারণ মেহুল ভুল করে ব্যালকনির দরজাটা লক করেনি।
আদ্রিয়ান যখন মেহুলের ঘরে পা রাখল, দেখল ঘরজুড়ে লালচে একটা ড্রিম লাইট জ্বলছে। সেই মায়াবী আলোয় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন মেহুলকে কোনো এক রূপকথার রাজকন্যার মতো লাগছে। আদ্রিয়ান ওর শিয়রের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। ওর তপ্ত নিঃশ্বাস মেহুলের মুখের ওপর পড়তেই মেয়েটা একটু নড়েচড়ে উঠল, পরক্ষণেই আবার ঘুমে তলিয়ে গেল। ব্যালকনি থেকে আসা এক চিলতে হাওয়ায় মেহুলের অবাধ্য চুলগুলো ওর মুখের ওপর এসে অবিন্যস্ত হয়ে পড়ল। আদ্রিয়ান অতি যত্নে, আঙুলের ডগা দিয়ে সেই অবাধ্য চুলগুলো সরিয়ে দিতেই মেহুলের ঘুম ভেঙে গেল।
মেহুল ভয় পেয়ে চিৎকার দিতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই আদ্রিয়ানের শক্ত আঙুল ওর ঠোঁটের ওপর চেপে বসল। সময় তখন ঠিক ১১:৫৯। আদ্রিয়ান মেহুলের একদম চোখের ওপর চোখ রেখে অতি ধীর, অথচ নেশালো গলায় ফিসফিস করে বলল—
"Happy Birthday Sweetheart...
মেহুল যেন মুহূর্তেই পাথরের মূর্তি হয়ে গেল। আদ্রিয়ানকে এতো কাছে, এই গভীর রাতে নিজের বিছানায় দেখে সে শ্বাস নিতেও ভুলে গেল। মেহুলের এই হিরণ্ময় নৈকট্য আদ্রিয়ানের ভেতরেও এক আলোড়ন তৈরি করল, ওর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করল। আদ্রিয়ান এবার মেহুলের ঠোঁট থেকে আঙুল সরিয়ে আরও একটু ঝুঁকে এসে হাস্কি স্বরে বলল—
"এইভাবেই শুয়ে থাকতে চাইছিস নাকি মাইরা? তাহলে শুয়েই থাক।"
আদ্রিয়ানের চোখে আজ এক আদিম নেশা, যা মেহুলের শরীরের প্রতিটি কোষে এক তীব্র কম্পন ধরিয়ে দিল। ওর শিরদাঁড়া বেয়ে এক শীতল স্রোত বয়ে গেল। মেহুল ভড়কে গিয়ে তড়িঘড়ি করে উঠতে যেতেই ঘটে গেল সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। মেহুলের ঠোঁট আদ্রিয়ানের ঠোঁটে আলতো করে ছোঁয়া লেগে গেল। মেহুল ভারসাম্য হারিয়ে আবার বিছানায় পড়ে যেতে নিলে, আদ্রিয়ান ওর কোমর জড়িয়ে ধরে ওকে আরও নিবিড়ভাবে নিজের কাছে টেনে আনল। আদ্রিয়ানের সেই অমোঘ তৃষ্ণা মেহুলের নরম ওষ্ঠকে যেন পিষ্ট করে দিতে চাইল।
দীর্ঘক্ষণ পর যখন আদ্রিয়ান মেহুলকে ছাড়ল, মেহুল তখন ধপাস করে বিছানায় এলিয়ে পড়ল। ওর বুকটা তখন কামারের হাঁপরের মতো ওঠানামা করছে। আদ্রিয়ান আবারও মেহুলের ওপর কিছুটা ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল—
"সামান্য কিস করেছি তাতেই এই অবস্থা? তাহলে তোকে যদি আমার মধ্যে মিশিয়ে নিই তখন কী হবে?"
মেহুলের উত্তরের অপেক্ষা না করেই সে ওর হাত ধরে এক হেঁচকা টানে বসিয়ে দিল। টেবিল থেকে একটা প্যাকেট মেহুলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে হুকুমের সুরে বলল— "ঝটপট রেডি হয়ে আয়, আমি ব্যালকনিতে আছি।"
মেহুল একটা শুকনো ঢোক গিলে নিচু স্বরে প্রশ্ন করল— "কেন? এই রাতে কোথায় যাবো?"
আদ্রিয়ান ঘুরে না তাকিয়েই বলল— "বেশি কথা না বলে, যেটা বলছি সেটা কর।"
আদ্রিয়ান ব্যালকনিতে চলে যাওয়ার পর মেহুল প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল, এত রাতে কোথায় নিয়ে যাবে ও তাকে? ঠিক তখনই ওপাশ থেকে গম্ভীর আওয়াজ এল— "তোকে আমি রেডি হতে বলেছি মাইরা। এইভাবে মূর্তির মতো বসে থাকতে নয়।"
মেহুল ভাবনার জগত থেকে ছিটকে এল। আদ্রিয়ান প্যাকেটের ভেতর থেকে একটা গাঢ় মেরুন রঙের শাড়ি বের করে ওর হাতে দিয়ে বলল—"Get ready now."
মেহুল অবাক চোখে শাড়িটার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল— "আমি তো শাড়ি পরতে পারি না।"
আদ্রিয়ান ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল— "সত্যি?"
মেহুল শুধু অসহায়ভাবে মাথা নাড়ল। আদ্রিয়ান এবার ওর হাত ধরে টেনে তুলে বলল— "ওকে, প্যারা নেই, ওঠ।"
"কেন"
আদ্রিয়ান এবার একটু ধমকের সুরে ডাকল— "মাইরা! সব কথায় এতো কেন কেন করবি না।"
এরপর আর কথা বাড়ানোর সাহস পেল না মেহুল। আদ্রিয়ান যখন শাড়ি পরানোর জন্য হাত বাড়াল, মেহুল খানিকটা চেঁচিয়ে উঠল— "কী করছো?"
"চুপ করে থাক! মেয়ে হয়ে শাড়ি পরতে পারিস না, আবার বেশি কথা। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবি।"
আদ্রিয়ান যখন মেহুলের শাড়ির কুচিটা নাভির নিচে গুঁজে দিচ্ছিল, ঠিক তখন মেহুলের শরীর যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেঁকে উঠল। সে ভয়ে আর লজ্জায় চোখ দুটো খিঁচে বন্ধ করে নিল। আদ্রিয়ান মেহুলের এই অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে একটা বাঁকা হাসি দিল।মেহুলের কাঁধে যখন আঁচল ঠিক করে দিচ্ছিলো, তখন আদ্রিয়ানের তপ্ত নিঃশাস মেহুলের ঘাড়ের ওপর আছড়ে পড়ছে আর মেহুল বারবার কেঁপে উঠছে।কাজ শেষ করে আদ্রিয়ান ছোট ছোট চোখে মেহুলকে পরখ করে বলল— "ডান! এবার ঝটপট হিজাবটা করে নে ।"
মেহুল আয়নায় নিজেকে দেখে বিশ্বাসই করতে পারছিল না। ও আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়েই মুগ্ধ হয়ে বলল—
"তুমি শাড়িও পরাতে পারো?"
আদ্রিয়ান মেহুলের কাছে গিয়ে ওর ঘাড়ের কাছে মুখ গুঁজে সেই চেনা হাস্কি স্বরে ফিসফিস করে বলল— "খুলতেও পারি।"
বলেই সে মেহুলের কাঁধে একটা আলতো চুমু এঁকে দিয়ে ধীরপায়ে ব্যালকনিতে চলে গেল।
---
মেহুল যখন পুরোপুরি তৈরি হয়ে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল, আদ্রিয়ান কিছু মুহূর্তের জন্য নিস্পন্দ হয়ে গেল। ল্যাম্পপোস্টের হলদেটে আলোয় সেই মেরুন শাড়িতে মেহুলকে কোনো এক মায়াবিনী অপ্সরা বলে মনে হচ্ছে। আদ্রিয়ানকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেহুল একটু এগিয়ে গিয়ে বলল—
"স্যার... আপনি ঠিক আছেন?"
আদ্রিয়ান ঘোরের মধ্যেই উত্তর দিল— "না...!"
মেহুল আদ্রিয়ানের অবস্থা দেখে সশব্দে হেসে উঠল। রাতের স্নিগ্ধ আলোয় ওর সেই গজদাঁতের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসা হাসি যেন আদ্রিয়ানের বুকের ভেতর কালবৈশাখী ঝড় তুলে দিল। সে নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে বলল— "নাম নিচে।"
মেহুল চোখ বড় বড় করে বলল— "এখান থেকে?"
আদ্রিয়ান ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করল—
"ইয়েস ম্যাম, এখান থেকেই।"
"আমি পারবো না, আমি পড়ে যাবো।"
"কুল ডাউন সুইটহার্ট, আমি আছি না? তোমায় পড়তে দেবো না।"
আদ্রিয়ানের মুখে প্রথমবার তুমি সম্বোধন শুনে মেহুলের হৃদয়ে এক পশলা নতুনের মতো ঝড় বয়ে গেল। এরপর আদ্রিয়ান মেহুলকে খুব সাবধানতার সাথে নিচে নামিয়ে,
ও নিজেও নেমে গেলো।
নিচে নামার পর আদ্রিয়ান মেহুলের নরম হাতটা নিজের হাতের মুঠোর মধ্যে পুরে নিয়ে মেইন গেটের দিকে হাঁটতে শুরু করল। ওরা বাড়ির গেট পেরিয়ে সামনের মোড়ের কাছে আসতেই আদ্রিয়ান বাইক থেকে একটা হেলমেট নিয়ে অতি যত্নে মেহুলকে পরিয়ে দিল। মেহুল অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল—
"এইখানে বাইক রেখেছো কেন?"
আদ্রিয়ান আজ মেহুলের কোনো প্রশ্নেই বিরক্ত হচ্ছে না।আদ্রিয়ান নিজের হেলমেট পরতে পরতে ধীর গলায় উত্তর দিল— "বাইকটা যদি এখন বাড়ি থেকে বার করে আনতাম, তাহলে বাইকের আওয়াজে তো সবাই জেগে যেত, তাই না?"
মেহুল শুধু মাথা নাড়ল। আদ্রিয়ান বাইকে উঠে বসে মেহুলের উদ্দেশে বলল— "ওঠো!"
মেহুল এবার সাহস সঞ্চয় করে বলেই ফেলল— "প্লিজ তুমি করে বলো না, তুই করে বলো...!"
আদ্রিয়ান বাইক থেকে নেমে বাইকের ওপর হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ চোখে জিজ্ঞাসা করল— "কেন?"
মেহুল আমতা আমতা করে বলল— "না মানে....."
আদ্রিয়ান ওর চোখের ওপর চোখ রেখে হুট করে বলে বসল— "সামলাতে পারছো না বুঝি নিজেকে?"
মেহুল আদ্রিয়ানের এমন সরাসরি কথায় ভীষণ অস্বস্তিতে পড়ে গেল। ও শুকনো ঢোক গিলে কিছু বলতে যাবে, তার আগেই আদ্রিয়ান ঝড়ের বেগে এসে ওকে পাঁজাকোলা করে তুলে বাইকের ওপর বসিয়ে দিল। মেহুলের একদম চোখের ওপর চোখ রেখে ধমকের সুরে বলল—
"আর একটা কথাও না, চুপ..!"
এরপর গর্জন করে উঠল বাইকের ইঞ্জিন। নিউ টাউনের ফাঁকা রাস্তা দিয়ে ঝড়ের বেগে ছুটে চলল সেই বাইক...
---
আদ্রিয়ানের বাইকটা এসে থামল নিউ টাউনের এক জনমানবহীন ধূ ধূ ফাঁকা রাস্তায়। চারপাশটা নিঝুম, শুধু ল্যাম্পপোস্টের আলোগুলো পাহারাদারের মতো দাঁড়িয়ে আছে। বাইক থেকে নামতেই মেহুল আমতা আমতা করে প্রশ্ন করে বসল— "এই ফাঁকা রাস্তায় কী করব আমরা?"
আদ্রিয়ান বাইক থেকে নেমে মেহুলের হেলমেটের লকটা খুলতে খুলতে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসল। তারপর খুব নিচু স্বরে বলল— "তোমায় আদর করব।"
মেহুল চমকে উঠল। আদ্রিয়ানের মুখে এমন সরাসরি কথা শুনে ও কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে পিছিয়ে গিয়ে বলল—
"মা... মানে?"
আদ্রিয়ান এবার কিছুটা গম্ভীর হয়ে গেল। ওর সেই রাশভারী গলায় বলল— "কিছু না, চুপ করে এখানে দাঁড়া।"
বলেই আদ্রিয়ান মেহুলের থেকে কয়েক পা দূরে গিয়ে ফোনের স্ক্রিনে কিছু একটা করল। মেহুল কিছুই বুঝতে পারল না। ঠিক তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গগনবিদারী আওয়াজ তুলে ১২টি বাইক ঝড়ের বেগে ধেয়ে এসে ওদের দুজনকে গোল করে ঘিরে ফেলল। সবার পরনে কুচকুচে কালো ব্ল্যাক রাইডিং স্যুট। হেলমেটের কাঁচ নামানো থাকায় কারোরই মুখ দেখা যাচ্ছে না। মেহুল ভয়ে সিটিয়ে গেল, ও শক্ত করে আদ্রিয়ানের হাত খামচে ধরল।
আদ্রিয়ান মেহুলের এই ভয় পাওয়া দেখে মনে মনে মুচকি হাসল। মেহুল কাঁপা কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলল— "এরা কারা?"
আদ্রিয়ান সামান্য হেসে মেহুলকে নিজের সামনে টেনে এনে আগলে দাঁড়াল। শান্ত স্বরে বলল— "রিলাক্স মাইরা, ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। এরা আমার ফ্রেন্ডস।"
মেহুল অবাক হয়ে পেছন ঘুরে সবাইকে দেখছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে আদ্রিয়ান নিজের পকেট থেকে একটা মখমলের ছোট্ট বক্স বের করে এক হাঁটু মুড়ে মেহুলের সামনে বসে পড়ল। মেহুল যখন পেছনের বাইকারদের দেখছিল, তখনই রাজ বাইকের হর্ন দিয়ে মেহুলকে সজাগ করল। হর্নের শব্দে মেহুল ঝট করে পেছনে ঘুরতেই ওর চোখ চড়কগাছ!
আদ্রিয়ান চৌধুরী হাঁটু গেড়ে বসে আছে ওর সামনে। বক্স থেকে একটা ঝকঝকে হীরের আংটি বের করে আদ্রিয়ান মেহুলের চোখের ওপর চোখ রেখে বলে উঠল—
> "No storm shall take you from me, No other man shall possess your soul; Every drop in your blood is only Adrian Chowdhury's. This is your destiny, and you must agree to accept this destiny."
মেহুল যেন কোনো জাদুমন্ত্রে আবিষ্ট হয়ে গেল। ও পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর কোনো এক অজান টানে নিঃশব্দে নিজের হাতটা আদ্রিয়ানের দিকে বাড়িয়ে দিল। আদ্রিয়ান আংটিটা মেহুলের আঙুলে পরিয়ে দিতেই ড্রোন দিয়ে ওপর থেকে শুরু হলো থোকা থোকা কাঠগোলাপের বৃষ্টি। সুগন্ধে ভরে উঠল পুরো রাস্তা। বাইকে থাকা আদ্রিয়ানের বন্ধুরা সবাই একযোগে চেঁচিয়ে উঠল— "কংগ্রাচুলেশনস!" আর হাততালিতে ফেটে পড়ল চারপাশ।
মেহুল যখন ড্রোনের দিকে তাকাল, ঠিক তখনই আকাশের বুক চিরে নীল-লাল আতশবাজির রোশনাই খেলে গেল। আর সেই আতশবাজির আলোয় ফুটে উঠল তিনটি শব্দ— "I Love You Sweetheart"।
মেহুল স্তব্ধ হয়ে আকাশের সেই লেখাটার দিকে তাকিয়ে রইল। আনন্দে আর আদ্রিয়ানের এই চরম অধিকারবোধের তীব্রতায় ওর চোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ল। ও বুঝল, আজ থেকে ও আর নিজের নেই; ও চিরকালের জন্য আদ্রিয়ান চৌধুরীর মায়াডোরে বন্দি হয়ে গেছে।
চলবে.......