বার তিনেক কলিংবেল বাজানোর পরও যখন সোফিয়ার মা দরজা খুলল না তখন সোফিয়া নিজেই ওর কাঁধে থাকা ব্যাগের ভিতর থেকে ঘরের ডুপ্লিকেট চাবিটা বার করে দরজাটা খুললো ।
ঘরের ভিতরে ঢুকে সোফিয়া ওর মাকে বেশ কয়েকবার ডাকলো কিন্তু সোফিয়া মায়ের কোনও সাড়া শব্দ পেলো না , সব চুপচাপ …… ।
সোফিয়া নিজের মনে বলল , মা হয়তো ঘুমাচ্ছে । এখন বিরক্ত করা ঠিক হবে না ।
এই বলে সোফিয়া যখন সিঁড়ি দিয়ে উপরের বারান্দায় উঠতে যাবে তখনই সোফিয়ার পা দুটো যেনো থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল । সোফিয়া দেখলো উপর থেকে সিঁড়ি বেয়ে রক্ত নেমে আসছে । সোফিয়ার বেশ ভয় লাগছিল । ভয়ের চোটে সোফিয়ার হৃদপিণ্ডের ধুকপুকুনি শব্দটা স্পষ্ট শুনতে পাওয়া যাচ্ছিলো ।
প্রথমে সোফিয়া নিজের মনটাকে একটু শান্ত করল তারপর ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে উপরের বারান্দায়ে উঠতে লাগলো ।
সোফিয়া সামনে যা দেখল তাতে ওর হাত পা যেনও ঠান্ডা হয়ে গেল । সোফিয়ার চোখের সামনে পড়ে রয়েছে ওর মায়ের মুণ্ড-বিহীন নিথর শরীর টা।
বারান্দার মেঝেতে এবং দেওয়ালে রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে আর ওর মায়ের মুণ্ড-বিহীন লাশটার থেকে একটু দূরে পড়ে রয়েছে ওর মায়ের কাটা মুণ্ডুটা ! ওর মায়ের স্থির – মৃত চোখ দুটো যেনও সোফিয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছে । যেনও সোফিয়াকে কিছু বলতে চায় ।
সোফিয়া ধড়াম করে মেঝেতে বসে পড়ল । সোফিয়া এখন ঠিক কি করবে বুঝে উঠতে পারছিলো না । এমন সময়ে সোফিয়ার বাড়িতে লোডশেডিং হয়ে যায় । সোফিয়ার সারা বাড়ি কালো ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢেকে যায় । সোফিয়া পকেট থেকে ফোনটা বার করে টর্চ টা জ্বালালো ।
সোফিয়া হঠাৎ চমকে উঠল যখন সেই অন্ধকারের মধ্যে একটা শিসের মতো শব্দ শুনতে পেলো । শিসের শব্দ টা খুব কাছ থেকে আসছিলো । সোফিয়ার মনে হলো যেন ঠিক ওর কাছেই কেউ শিস বাজাচ্ছে । পকেট থেকে ফোনটা বার করে ফোনের টর্চের আলোর সাহায্যে সোফিয়া আস্তে আস্তে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে লাগলো । এমন সময় কারেন্ট চলে এলো , সোফিয়া ফোনের টর্চের আলোটা নিভিয়ে যখন সামনের দিকে তাকালও তখন সোফিয়া আঁতকে উঠলো । সোফার উপর একজন মুখোশ পড়া লোক সোফিয়ার দিকে তাকিয়ে বসে রয়েছে , তার হাতে একটা কুড়ুল আর সেই কুড়ুলটাতে রক্ত লেগে রয়েছে ।
সোফিয়া ভয়ে কাঁপা কাঁপা স্বরে লোকটা কে জিজ্ঞাসা করলো , কে আপনি ? আপনি আমার বাড়িতে কি করছেন ?
লোকটা সোফিয়ার কোনও প্রশ্নের উত্তর দিলো না শুধু লোকটা এক দৃষ্টে সোফিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল ।
লোকটাকে দেখে সোফিয়ার এবার বেশ ভয় লাগতে শুরু করলো । সোফিয়া পালানোর চেষ্টা করলো কিন্তু মেঝের উপর পড়ে থাকা রক্তে পা পিছলে মেঝের উপর ধড়াম করে পড়লো । তখন সোফিয়া ঠিক ওর কানের কাছে আবার সেই শিসের শব্দটা শুনতে পেলো ।
সোফিয়া দেখতে পেলো সেই মুখোস পড়া লোকটা এখন ওর একদম ঠিক সামনে দাড়িয়ে আছে ।
সোফিয়া হাত জোড় করে মুখোশ পড়া লোকটাকে বলল , দয়া করে আমাকে ছেড়ে দিন , আমাকে মারবেন না ।
লোকটার মুখে তখন একটা পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠলো । লোকটা সজোরে একটা কুড়ুলের কোপ সোফিয়ার গলাতে বসালও । সোফিয়ার মুণ্ডুটা খানিকটা দূরে ছিটকে গিয়ে পড়লো । সোফিয়ার মুণ্ড-বিহীন শরীরটা থর থর করে কাঁপতে কাঁপতে একটা সময়ে শান্ত হয়ে গেলো আর সোফিয়ার শরীর থেকে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসা রক্ত ঘরের মেঝে পুরো লাল করে দিলো ।
আর ঠিক তখনই সোফিয়ার ঘুমটা ভেঙে যায় ।
সোফিয়া ধড়-মড়িয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে বসে । ওর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম ফুটে উঠেছে । হাত যেন থর থর করে কাঁপছে । সোফিয়া বুঝতে পারল , এতক্ষণ ও দু:স্বপ্ন দেখছিলো …
সমাপ্ত