ভুল পথে পেলাম তোমাকে

(0)
  • 69
  • 0
  • 43.1k

ভুল পথের শুরু, নতুন কারো আগমনের গন্ধ সারা দিনটা অদ্ভুত রকমের ভারী গিয়েছিল ইরার। ক্লাসগুলো শেষ হয়েছিল বিকেল চারটায়, কিন্তু মনটা যেন কোনোকিছুতে ঠিকমতো লাগছিল না। সহপাঠীরা সবাই ক্যাম্পাসে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছিল, কেউ ক্যান্টিনে, কেউ গাছতলায় দাঁড়িয়ে, কেউ সিগারেট হাতে হাসাহাসি করছিল—কিন্তু ইরা সবসময়ই এদের ভিড়ে নিজেকে বেমানান মনে করে। তার চোখে ভিড় মানে শব্দ, চাপ, আর নিজের ভেতরের অস্থিরতা বেড়ে যাওয়া। তাই অনেকটা নিঃশব্দে, আর কারো দৃষ্টি এড়িয়ে কলেজের ফটক দিয়ে বেরিয়ে এল সে। আকাশ তখনো হালকা নীল। নভেম্

1

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 1

ভুল পথের শুরু, নতুন কারো আগমনের গন্ধসারা দিনটা অদ্ভুত রকমের ভারী গিয়েছিল ইরার। ক্লাসগুলো শেষ হয়েছিল বিকেল চারটায়, কিন্তু যেন কোনোকিছুতে ঠিকমতো লাগছিল না। সহপাঠীরা সবাই ক্যাম্পাসে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছিল, কেউ ক্যান্টিনে, কেউ গাছতলায় দাঁড়িয়ে, কেউ সিগারেট হাতে হাসাহাসি করছিল—কিন্তু ইরা সবসময়ই এদের ভিড়ে নিজেকে বেমানান মনে করে।তার চোখে ভিড় মানে শব্দ, চাপ, আর নিজের ভেতরের অস্থিরতা বেড়ে যাওয়া। তাই অনেকটা নিঃশব্দে, আর কারো দৃষ্টি এড়িয়ে কলেজের ফটক দিয়ে বেরিয়ে এল সে।আকাশ তখনো হালকা নীল। নভেম্বরের বিকেল। হাওয়ার মধ্যে শীতের খুব অল্প গন্ধ।ইরা হাঁটছিল ধীরে—যেন কোথাও পৌঁছানোর তাড়া নেই, আবার ঠিক পৌঁছানোর জায়গাটাও নেই।আজ অদ্ভুত এক ক্লান্তি ছিল তার ...Read More

2

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 2

“যে দিনটা বদলে দিল সব”—ইরার সারা রাত ঘুম না হওয়াগলির সামনে দাঁড়ানো, নার্ভাসনেসমায়ার দেরি করে আসামায়ার প্রথম স্পর্শ (উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলেও অনুভূতি জাগাবে)মায়ার জীবনের লুকানো দিকইরা বুঝতে পারবে, মায়া শুধু হাসিখুশি মেয়ে নয়—তার অতীত ভয়ংকরদু’জনের মধ্যে প্রথম ছোট্ট আবেগের ঝলক“ভুল পথে পেলাম তোমাকে” — এই নামের আসল মানে ফুটে উঠবেআমি এখনই Part 2 শুরু করে দিচ্ছি।তোমাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করছি না—সোজা গল্প লিখছি, কারণ তোমার থেকে “Hm” মানেই “হ্যাঁ, লেখো”।---ভুল পথে পেলাম তোমাকে – Part 2(প্রায় ২৫০০ শব্দ – এখনই লিখছি)---Part 2: “যে দিনটা বদলে দিল সব”সারা রাত ঠিকঠাক ঘুম হলো না ইরার।ঘুমাতে গেলেই সেই গলির দৃশ্য এসে ভেসে উঠছিল—জ্বলে ...Read More

3

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 3

Part 3: “অন্ধকারের দরজা প্রথমবার খুলল”ইরা ছাদ থেকে নামার সময় বুঝতে পারছিল—তার ভেতরে কিছু একটা গভীরভাবে বদলে গেছে।এটা ভয় উত্তেজনা না,এটা এমন এক অনুভূতিযেমন রাত্রির অন্ধকারে কোনো আলো না থাকলেওতুমি জানো—কেউ আছে পাশে।মায়ার সঙ্গে আজকের সময়গুলোঅস্বাভাবিক শান্ত করেছিল তাকে।অস্বাভাবিকই, কারণমায়ার হাসির আড়ালে এমন একটা ব্যথা আছেযা কথায় ব্যাখ্যা হয় না।ইরা দু’হাত চোখে চেপে ধরল।মায়া চলে যাওয়ার পরে সে ঠিক যেন শ্বাস নিতে ভুলে গেল।এত দ্রুত, এত গভীরেকীভাবে একজন মানুষ কারও মনে জায়গা করে নিতে পারে?কলেজের লাইব্রেরিতে বসেমোবাইলে মায়ার নাম টাইপ করতে গিয়েওহাতে থেমে গেল।ফেসবুকে খুঁজবে?ইনস্টাগ্রাম?কিছুই তো জানে না তার সম্পর্কে।শুধু একটা কথা মনে আছে—“আমার জীবন সহজ নয়, ইরা।”এটা যে ...Read More

4

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 4

Part 4: “মায়ার রাতের প্রথম মুখোমুখি”রাতটা ছিল অদ্ভুত শান্ত।যেন আকাশও থেমে গেছে,শুধু বাতাসের মধ্যে এক অদ্ভুত উত্তাপ—যে উত্তাপ ভয় আকর্ষণের মাঝামাঝি কোথাও।ইরা বিছানায় শুয়ে ভাবছিল শুধু একটাই নাম—মায়া।তার কথা…তার ছোঁয়া…তার ভয়…আর সেই কানের কাছে ফিসফিস—“রাত নামলে আমার ওপর বিশ্বাস ভেঙে যায়।”ইরার মাথা যেন ছটফট করছিল।এটা কোনো সাধারণ রহস্য নয়।এটা এমন কিছু যামায়াকে ভেঙে দিচ্ছে—কিন্তু সে কাউকে জানাতেও ভয় পাচ্ছে।ঠিক তখনই ফোনের ভেতর ছোট্ট একটা শব্দ হলো—টিং।মায়া: "বাইরে এসো। একদম এখনই।"ইরার বুক ধাক্কা খেল।রাত সাড়ে দশটা। মায়া কি ঠিক আছে?জানালার পাশে গিয়ে নিচে তাকাতেইসে দেখল—রাস্তায় একা দাঁড়িয়ে আছে মায়া।চুল সম্পূর্ণ ভেজা।কোনো ছাতা নেই।রাস্তার লাইটে তার ছায়া লম্বা হয়ে গেছে।কিন্তু…আজ মায়াকে ...Read More

5

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 5

“অন্ধকারের অধিকার”রাতের বাগানে যে ছায়াটা নড়েছিল—সেই মুহূর্ত থেকেই সবকিছু বদলে গেল।ইরা নিঃশ্বাস আটকে তাকিয়ে আছে,আর মায়া—যে এখন তার রাতের দাঁড়িয়ে—শিকারী চোখে অন্ধকারের দিকে তাকিয়েছে।এটা স্রেফ ভয় নয়।এটা অধিকার।এটা রাগ।এটা সুরক্ষা।আর অজানা এক নিষিদ্ধ আকর্ষণ।ইরা বুঝে গেল…রাতের মায়া ভয়ঙ্কর, কিন্তু সে হিংস্র রাগে ইরাকে রক্ষা করে।---১. ছায়াটির প্রকাশবাগানের ঝোপের ভেতর থেকে কেউ বেরিয়ে এলো।একজন ছেলে।বয়স ২২–২৩ এর মতো।চেহারা শান্ত, কিন্তু চোখে অদ্ভুত চাহনি।হাতে একটা কালো ব্যাগ।ইরা তাকে চিনতে পারল না।কিন্তু মায়া— চিনল।মায়ার ঠোঁট থেকে হালকা গর্জন বেরোল—— “তুই আবার এদিকে?”ছেলেটা শান্ত কণ্ঠে বলল—— “মায়া, আমাকে তোমার সঙ্গে কথা বলতে হবে।”ইরা লক্ষ্য করল,রাতের-মায়ার চোখ আরও জ্বলে উঠল।— “তুই আর আমার কাছে ...Read More

6

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 6

“ছায়ার চোখ, রাতের দাবি”রাতটা অদ্ভুত নিস্তব্ধ।মানুষ ঘুমিয়েছে—কিন্তু ছায়াগুলো জেগে আছে।মায়া ইরাকে ধরে বাড়ির ভেতর ঢুকিয়ে দিল।দরজার কপাট লাগিয়েইসে পেছনে দাঁড়াল—মুখে এমন দুঃশ্চিন্তা,যেন ভেতরে ঝড় চলছে।ইরা সামনের টেবিলের আলো জ্বালিয়ে বলল—— “মায়া, বসো।”মায়া বসল না।দেয়ালে হাত রেখে মাথা নিচু করে রইল।তার নিশ্বাস অদ্ভুত তীব্র—একদম রাতের-মায়ার মতো নয়,কিন্তু দিনের-মায়ার মতোও না।মধ্যবর্তী এক রূপ।অধিকার আর ভয়ের মাঝামাঝি।ইরা কাছে গিয়ে বলল—— “তুমি ভয় পেয়েছ?”মায়া মাথা নাড়ল—— “ভয় পাইনি।তোর জন্য রেগে আছি।”ইরা অবাক—— “আমার জন্য রেগে আছো?”মায়া চোখ তুলে তাকাল।চোখে যেন প্রচণ্ড ঝড় জমে আছে।— “ও যেই ছায়াটা…ও তোকে দেখছিল, ইরা।”তার গলা কেঁপে উঠল।“আমি সহ্য করতে পারি না।”ইরা চেষ্টা করল হালকা হাসতে—— “এতে রাগ ...Read More

7

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 7

“ছায়ার নাম, রাতের রক্ত”রাত গভীর।কিন্তু সেই অন্ধকারে আজ নতুন কিছু আছে—একটা অস্বস্তিকর ভারী নীরবতা,যেন পুরো পৃথিবী নিঃশ্বাস আটকে অপেক্ষা আর মায়া দু’জনে বসে আছে টেবিলের আলোয়।দুজনে কোনো কথা বলছে না—তারা দু’জনেই জানে,বাইরে যেই ছায়া দাঁড়িয়েছিল,সে আবার ফিরে আসবে।মায়া মোমবাতি জ্বালাল।হাওয়ায় আলোটা দুলল—আর তার মুখের ছায়াগুলো আরো তীক্ষ্ণ, আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল।ইরা তাকিয়ে রইল।— “তুমি জানো ও কে?”মায়া গভীর নিঃশ্বাস নিল।— “না… কিন্তু আমি ওর গন্ধ চিনি।”ইরা কেঁপে উঠল।— “গন্ধ?”মায়া মাথা নেড়ে বলল—— “হ্যাঁ।একটা বিশেষ গন্ধ থাকে…যে মানুষ আমাকে শিকার করেছিল…তার মতোই।”ইরার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।— “মানে… এই ছায়া-মানুষটা তোমার অতীতের সেই লোক?”মায়া মাথা নেড়ে না বলল।কিন্তু তার চোখে অজানা ...Read More

8

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 8

ভুল পথে পেলাম তোমাকে – Part 8“পূর্ণ ছায়ার আক্রমণ – ইরার প্রথম পরীক্ষা”রাত নেমেছে।কিন্তু এই রাতটা আগের সব রাতের আলাদা—আজ অন্ধকারের ভেতরে কেউ লুকিয়ে নেই,বরং অন্ধকার নিজে আজ দরজা খুলে ঢুকতে চায়।মায়া জানালার পাশে দাঁড়িয়ে।তার চোখে সেই কালো আগুন—যা মানুষকে ভয় দেখায়,আর ছায়াদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়।ইরা পিছন থেকে দেখছে…মায়ার পিঠের পিছু লম্বা ছায়া পড়ছে—যেন মায়ার শরীরের সাথে আরেকটা দানব দাঁড়িয়ে আছে।ইরার বুক ধড়ফড় করে উঠল।সে জানে… আজ কিছু একটা হবে।মায়া বলে উঠল—— “ইরা… আজকের রাতটা একটু শক্ত করে সহ্য করবি।এটা তোর প্রথম পরীক্ষা।”ইরা কাঁপা গলায় বলল—— “পরীক্ষা? কোন পরীক্ষা?”মায়ার চোখ তার দিকে ফিরে এলো—— “পূর্ণ ছায়ার পরীক্ষা।ও তোকে নিজের ...Read More

9

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 9

ভুল পথে পেলাম তোমাকে – Part 9“ছায়াদের ইতিহাস – মায়ার জন্মরহস্য”রাত নেমেছে।ইরা মায়ার পাশে শুয়ে আছে, কিন্তু তার চোখে নেই।মায়ার শরীর এখনো উত্তপ্ত-ঠান্ডা—যেন আগুন আর বরফ একইসাথে বয়ে যাচ্ছে তার শিরায়।পূর্ণ ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে,কিন্তু এর পরের অস্থিরতা মাত্র শুরু।ইরা নিঃশব্দে মায়ার গালে হাত রাখল।মায়া চোখ খুলল।ধীরে হাসল—সেই অল্প-দেখা দুঃখমাখা হাসি।— “ঘুমাসনি?”— “তুমি ঘুমাচ্ছো না আমি কীভাবে ঘুমাই, মায়া?”মায়া কিছুক্ষণ চুপ।তারপর ধীরে বলল—— “ইরা…তুই সত্য জানতে চাস?”ইরা তাকিয়ে রইল তার চোখে।— “হ্যাঁ।তোমার সব সত্য।”মায়ার চোখের কালো গভীরতা যেন আরও অন্ধকার হয়ে উঠল।— “তাহলে শুন…”সে ফিসফিস করল।“আজ আমি তোকে আমার জন্মরহস্য বলব।যা কেউ জানে না…এমনকি ছায়ারাও না।”ইরার শ্বাস ...Read More

10

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 10

ভুল পথে পেলাম তোমাকে – Part 10“অন্ধকারের তৃতীয় নিয়ম — যার ভয় সবচেয়ে গভীর, তাকে রক্ষা করতে গেলে আত্মা যায়”ঘরটা নিস্তব্ধ।ইরা মায়ার কাঁধে মাথা রেখে বসে আছে—দু’জনেই হাঁপাচ্ছে, কিন্তু কেউ আলাদা হতে চাইছে না।মায়ার আঙুল ইরার পিঠে থরথর করছে।যেন এই মুহূর্তে সে কাউকে হারানোর ভয় পাচ্ছে।ইরা ফিসফিস করল—“মায়া… তুমি ভয় পাচ্ছ?”মায়া চোখ বন্ধ করে বলল—“তোকে হারানোর ভয়… ভয় নয় ইরা— সেটা আমার অভিশাপ।”ইরা তার গালে হাত রাখতেইমায়া ইরাকে আরও কাছে টেনে নিল।মায়া ধীরে বলল—“আজ থেকে তুই শুধু আলো নোস…তুই আমার কেন্দ্র।”ইরা অবাক—“কেন্দ্র?”মায়া মাথা নেড়ে বলল—“হ্যাঁ… ছায়াদের জগতে যার জন্য অন্ধকার বদলায়… তাকে কেন্দ্র বলে।আর তোকে নিয়ে আজ অন্ধকার বদলে ...Read More

11

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 11

“অন্ধকারের রাজা — যে ভালোবাসাকে পাপ বলে”রাত অদ্ভুত শান্ত।ইরা মায়ার বুকের ওপর মাথা রেখে ঘুমোচ্ছে।কিন্তু মায়া ঘুমোতে পারছে না।তার কাছে অদ্ভুত এক কম্পন—যেন অন্ধকারের হাড় ভাঙার শব্দ।মায়া ফিসফিস করল,“শুরু হয়ে গেছে…”ইরা নড়েচড়ে উঠতেইমায়া তার চুলে হাত বুলিয়ে বলল—“ঘুমো… তোর চোখে ভয় দেখতে চাই না।”কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে—জানলা নিজে নিজে ফেটে গেল।ইরা জেগে উঠে চিৎকার করে বলল—“মায়া!”মায়া এক ঝলকে ইরার সামনে দাঁড়াল।চোখ সম্পূর্ণ কালো।হাতের আঙুলে আগুনের মতো ছায়া ঘুরছে।ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গেএকটা ভারী হাঁটার শব্দ—ধপ… ধপ… ধপ…একজন মানুষ নয়,কিন্তু মানুষের মতো ছায়া।অন্ধকার ঠিক যেন পথ সরিয়ে তাকে জায়গা দিচ্ছে।মায়া দাঁত চেপে বলল—“ইরা, চোখ নামিয়ে রাখ।”ইরা কাঁপা কণ্ঠে বলল—“ও… কে?”মায়া উত্তর দিল ...Read More

12

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 12

“ইরার পরীক্ষা — মায়াকে পাওয়ার যুদ্ধ”অন্ধকার।এমন অন্ধকারযেখানে নিজের নিঃশ্বাসও শোনা যায় না।ইরা দাঁড়িয়ে আছে—কিন্তু মাটি নেই, আকাশ নেই, দিক একটা ভারী উপস্থিতি।অন্ধকারের রাজা।তার কণ্ঠ চারপাশ থেকে ভেসে আসছে—“চোখ খুলে তাকাও, মানুষ।”ইরা চোখ খুলল।আর যা দেখল— তার বুক কেঁপে উঠল।সে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল শূন্যতার মাঝে।আর চারদিকে—হাজার হাজার ছায়া।সব ছায়ার চোখ এক।শুধু ক্ষুধা।একটা ছায়া ফিসফিস করে বলল—“ওই তো আলো…”আরেকটা—“ওকে নাও…”আরেকটা—“ওকে ভাঙলে মায়া ভাঙবে…”ইরার হাঁটু কেঁপে উঠল। কিন্তু সে পড়ে গেল না।রাজা আবার বললেন—“এরা সবাই তোমাকে চাইছে।ভয় পেলে এক সেকেন্ডও টিকবে না।”ইরা ধীরে শ্বাস নিল। মনে পড়ল—মায়ার চোখ,মায়ার কণ্ঠ,মায়ার বলা শেষ কথা—“তোকে রক্ষা করাই আমার জন্মগত অধিকার।”ইরা ফিসফিস করে বলল—“আর তোমাকে ...Read More

13

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 13

“ভালোবাসার বিনিময় — যা চাইলে রক্ত দিতে হয়”(ডার্ক রোমান্স | সাইকোলজিকাল থ্রিলার | ২৫০০+ শব্দ)রাতটা আর নীরব নেই।নীরবতা ভেঙে শব্দে না,রক্তে।ইরা জানত না কখন তার হাত কাঁপতে শুরু করেছে।সে শুধু অনুভব করছিল—মায়ার বুকের ভেতরে হৃদস্পন্দনটা অস্বাভাবিক দ্রুত।মায়া তাকে জড়িয়ে ধরে আছে।এত শক্ত করে—যেন ছেড়ে দিলে পৃথিবী ভেঙে যাবে।— “মায়া…”ইরা ধীরে বলল।“শ্বাস নাও।”মায়া চোখ বন্ধ করল।কিন্তু শ্বাস স্বাভাবিক হলো না।— “ও চলে যায়নি,”মায়া ফিসফিস করল।“আরভ কখনো চলে যায় না।ও শুধু অপেক্ষা করে।”ইরা তার কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল।— “তাহলে আমরাও অপেক্ষা করব না।”মায়া তাকাল।চোখে প্রশ্ন।— “মানে?”ইরা গভীর শ্বাস নিল।— “আমি আর শুধু আলো হয়ে থাকব না।আমি জানব…আমি কী, কেন, কতটা।”মায়ার মুখ শক্ত ...Read More

14

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 14

ভুল পথে পেলাম তোমাকে –“এক রাত অন্ধকারে — আলো টিকে থাকলে বাঁচবে”অন্ধকার মানেই শূন্যতা নয়।কখনো কখনো অন্ধকার মানে—সবচেয়ে সত্য চোখ খুলতেই বুঝল—সে আর সেই ঘরে নেই।কোনো দেয়াল নেই।কোনো ছাদ নেই।চারপাশে শুধু ঘন কালো—যেন রাত নিজেই একটা জীবন্ত শরীর।সে একা।— “মায়া…?”ডাকটা শব্দ হয়ে ফেরত এলো না।ইরার বুকের ভেতর একটা মুহূর্তের জন্য কাঁপন উঠল।কিন্তু সে নিজেকে থামাল।— “না,”সে নিজেকে বলল।“এটাই পরীক্ষা।”হঠাৎ অন্ধকারের ভেতর দিয়েহালকা হাসির শব্দ।— “ভয় পাচ্ছ?”আরভের কণ্ঠ।ইরা ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।— “না।আমি প্রস্তুত।”আরভ ধীরে ধীরে সামনে এলো।তার শরীর যেন ছায়া দিয়ে গড়া।— “তাহলে শুরু করি,”সে বলল।“এক রাত।তোর সব আলো আমি কেড়ে নেব।দেখি তুই কী থাকিস।”◆ ১. প্রথম ঘণ্টা — একাকীত্বহঠাৎ ...Read More

15

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 15

ভুল পথে পেলাম তোমাকে –“ভালোবাসার পর — যুদ্ধ শুরু”ভালোবাসা কখনো যুদ্ধ থামায় না।ভালোবাসা শুধু বলে দেয়—কিসের জন্য যুদ্ধ করতে আলো ঘরে ঢুকেছে।কিন্তু সেই আলো উষ্ণ নয়—বরং সতর্ক।ইরা এখনো মায়ার বুকে মুখ গুঁজে আছে।মায়ার হাত শক্ত করে ধরা—যেন ছেড়ে দিলেই আবার অন্ধকার টেনে নেবে।মায়া ফিসফিস করে বলল—— “তুই জানিস…আজকের পর আর কিছু আগের মতো থাকবে না?”ইরা চোখ বন্ধ রেখেই বলল—— “আমি জানি।আর আমি ভয় পাচ্ছি না।”মায়া হালকা হাসল।কিন্তু সেই হাসির ভেতর ক্লান্তি।— “আমি পাচ্ছি।”ইরা মাথা তুলল।— “তুমি তো ছায়া।ভয় কিসের?”মায়া চোখ নামিয়ে নিল।— “ছায়ার ভয় সবচেয়ে গভীর হয়, ইরা।কারণ আমরা জানি—অন্ধকার কতটা নির্মম হতে পারে।”◆ ১. ভাঙা সকাল — অশান্তির ...Read More

16

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 16

ভুল পথে পেলাম তোমাকে –“পূর্ণ ছায়ার প্রত্যাবর্তন — ভালোবাসার মূল্য”ভালোবাসার একটা মূল্য থাকে।কিন্তু কিছু ভালোবাসা আছে—যার মূল্য শুধু কষ্ট হারানোর ভয়।রাত নামছে আবার।এই রাত আগের রাতগুলোর মতো নয়।এই রাত জানে—রক্ত ঝরবে।ইরা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে।বাইরে আকাশ অস্বাভাবিক কালো—তারারাও যেন লুকিয়ে পড়েছে।মায়া পিছনে দাঁড়িয়ে আছে।তার নিঃশ্বাস ভারী।ছায়া আজ তার শরীরের ভেতরে অস্থির।— “তুই কি টের পাচ্ছিস?”মায়া ফিসফিস করে বলল।ইরা মাথা নাড়ল।— “হ্যাঁ।আজ অন্ধকার আসছে শুধু নিতে না…ভেঙে দিতে।”মায়া ইরার কাঁধে হাত রাখল।— “আজ থেকে আর কোনো নিয়ম কাজ করবে না।”ইরা ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।— “কারণ পূর্ণ ছায়া আসছে, তাই না?”মায়া চোখ বন্ধ করল।— “হ্যাঁ।আর ও এলে…আমাকে বেছে নিতে হবে।”ইরা কেঁপে উঠল।— “কী ...Read More

17

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 17

পথে পেলাম তোমাকে –“ভুলে যাওয়া ভালোবাসা — যখন আলো নিজেকে মনে করতে শুরু করে”রাত আবার নেমেছে।কিন্তু এই রাত অদ্ভুত—কারণ ভেতর আজকিছু একটা কাঁদছে।ইরা জানে না সে কোথায়।চারপাশ সাদা, অথচ ঠান্ডা।কোনো দেয়াল নেই,কোনো আকাশও না।শুধু একটাই অনুভূতি—বুকে অসম্ভব ব্যথা।— “আমি কাঁদছি কেন?”সে নিজের গলা শুনে অবাক হয়।তার চোখ ভিজে যাচ্ছে,কিন্তু সে জানে না কার জন্য।হঠাৎ সাদা শূন্যতার ভেতরএকটা ছায়া নড়ে উঠল।ছায়া নয়—একটা অনুভূতি।— “ভালোবাসা ভুলে যাওয়া যায় না…”ইরা চমকে উঠল।— “কে?”উত্তর আসে না।কিন্তু তার বুকের ভেতরএকটা নাম কাঁপে।মা—না।নামটা থেমে যায়।◆ ১. স্মৃতির ফাটলহঠাৎ সাদা আলো ফেটে যায়।ইরা পড়ে যায় মাটিতে—এবার মাটি আছে।চারপাশ বদলে গেছে।সে একটা শহরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে।চেনা লাগে না।কিন্তু ...Read More

18

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 18

ভুল পথে পেলাম তোমাকে –“আলোয় ফেরা ছায়া”যুদ্ধ শেষ মানেই শান্তি নয়।কখনো কখনো যুদ্ধের পরেইআসল গল্পটা শুরু হয়।ভোরের আলো ধীরে শহরের ওপর নামছে।রাতের সেই ভয়ংকর অন্ধকার নেই—কিন্তু বাতাসে এখনো একটা অচেনা ভার।ইরা জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আছে।তার চোখে আলো আছে,কিন্তু সেই আলো এখন ক্লান্ত।মায়া পিছনে দাঁড়িয়ে।আজ সে আর ছায়া নয়—মানুষ।এই নতুন পরিচয়টাইসবচেয়ে বেশি ভয় লাগাচ্ছে তাকে।— “ইরা…”ইরা ঘুরে তাকাল।— “তুমি ডাকলে আগের মতো শোনায় না।”মায়া হালকা হাসল।— “কারণ এখন আরআমার ভেতরে অন্ধকার কথা বলে না।”ইরা কাছে এগিয়ে এল।— “এটাই কি মুক্তি?”মায়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।— “না।এটা নতুন যুদ্ধের শুরু।”◆ ১. মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার ভয়মায়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে।তার চোখে আর লাল ...Read More

19

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 19

ভাঙা আলো, শক্ত হাতরাতটা অস্বাভাবিক নীরব ছিল।যেন শহরের প্রতিটা শব্দ ইচ্ছা করে চুপ করে গেছে।ইরা জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল বাইরে আলো জ্বলছে, মানুষ চলছে—তবু তার ভেতরে অদ্ভুত একটা শূন্যতা।আজ প্রথমবার সে বুঝতে পারছিল, একা থাকা মানে শুধু পাশে কেউ না থাকা নয়—একাই নিজের ভেতরের সঙ্গে আটকে পড়া।পিছন থেকে মায়া এসে দাঁড়াল।কোনো শব্দ না করে।কোনো প্রশ্ন না করে।এই নীরবতাটুকু তারা দু’জনেই চেনে।“তুমি ভেঙে যাচ্ছ,” মায়া ধীরে বলল।কণ্ঠে অভিযোগ নেই—আছে শুধু সত্য।ইরা হেসে ফেলল।কিন্তু সেই হাসিতে কোনো উষ্ণতা ছিল না।“আমি ভাঙিনি,” সে বলল,“আমি বুঝে গেছি… আমি একা।”মায়া এগিয়ে এসে তার সামনে দাঁড়াল।দু’হাত দিয়ে ইরার মুখটা ধরল, জোর করে নয়—ভরসা দিয়ে।“একটা কথা ...Read More

20

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 20

আগুন ছুঁলে পুড়ে যায়বৃষ্টি নামল হঠাৎ।যেন আকাশটা আর চুপ করে থাকতে পারল না।ইরা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। কাচে বৃষ্টির গড়িয়ে পড়ছে—ঠিক যেমন তার ভেতরের অস্থিরতা।গত রাতের বাজের শব্দটা এখনো কানে বাজে।মায়ার কথাগুলোও।“আমি কতটা দূর যেতে পারি—ওরা জানে না।”এই বাক্যটা ভালোবাসার মতো শোনায়নি।এটা ছিল সতর্কবার্তা।দরজার দিকে তাকাতেই মায়াকে দেখা গেল।সে ভিজে এসেছে—চুল থেকে পানি পড়ছে, চোখে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা।“তুমি বেরিয়েছিলে?” ইরা জিজ্ঞেস করল।মায়া মাথা নাড়ল।“হ্যাঁ। কিছু নিশ্চিত করতে।”ইরার বুক কেঁপে উঠল।“কি?”মায়া কোটটা খুলে চেয়ারে রাখল।একটু থেমে বলল,“ও মেয়েটা শুধু তোমার অতীত না।ও এখনো তোমাকে নিজের ভাবছে।”এই কথায় ঘরটা ভারী হয়ে গেল।ইরা চুপ করে রইল।তার ভেতরে রাগ উঠল, কিন্তু তার চেয়েও ...Read More

21

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 21

“যে ভালোবাসা বিষ হয়ে ওঠে”রাত নামল নীরবে।কিন্তু সেই নীরবতায় শান্তি নেই—আছে চাপা আতঙ্ক।ইরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে।শহরের আলো ঝাপসা লাগছে।রিয়ার কথাগুলো ভেতর ঘুরছে বারবার।“কে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে…”পিছন থেকে মায়া এল।কিছু না বলেই নিজের শালটা ইরার কাঁধে জড়িয়ে দিল।— “ঠান্ডা লাগবে।”ইরা হালকা মাথা নাড়ল।— “মায়া… যদি এই সবকিছু আমার জন্যই হয়?”মায়া সঙ্গে সঙ্গে বলল—— “না।” একটু থেমে, — “সব যুদ্ধ নিজের নাম নিয়ে আসে না।”ইরা ঘুরে তাকাল।— “রিয়া আমাকে এমনভাবে দেখছিল…যেন আমি কিছু ছিনিয়ে নিয়েছি।”মায়ার চোখ শক্ত হয়ে গেল।— “কারও ভালোবাসা যদি অধিকার চায়,তাহলে সেটা আগেই ভেঙে গেছে।”ইরা ধীরে বলল—— “তবু ভয় লাগে।মানুষের অন্ধকার ছায়ার থেকেও বেশি ভয়ংকর।”মায়া তার কপালে কপাল ...Read More

22

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 22

দূরত্বের ভাষা”দূরত্ব কখনো মাইল দিয়ে মাপা হয় না।দূরত্ব তৈরি হয়—যখন কেউ কথা বলতে চায়,আর কেউ নীরব থাকতে শেখে।ইরা অনেকক্ষণ হাঁটছে।পা দুটো ব্যথা করছে, তবু থামছে না।মাথার ভেতর শুধু একটাই প্রশ্ন—“ভালোবাসলে কি ভয় পাওয়া স্বাভাবিক?”সে বেঞ্চে বসে পড়ে।ফোনের স্ক্রিন জ্বলে ওঠে—মায়ার নাম।একবার বাজে।দু’বার।তিনবার।ইরা কল কাটে না।ধরেও না।এই প্রথম সে বুঝতে পারে—নীরবতা কখনো কখনোপ্রতিরোধ।অন্যদিকে,মায়া ঘরের ভেতর পায়চারি করছে।ঘড়ির কাঁটা এগোচ্ছে,কিন্তু সময় নয়।— “আমি কি ভুল করছি?”সে নিজেকে জিজ্ঞেস করে।তার মাথায় রিয়ার কণ্ঠ ফিরে আসে—“তুমি মানুষকে ভালোবাসো না, তুমি পাহারা দাও।”মায়া চোখ বন্ধ করে।— “না… আমি বদলাচ্ছি,”সে ফিসফিস করে।— “ইরার জন্য বদলাচ্ছি।”ঠিক তখন দরজায় নক।মায়া চমকে উঠে দরজা খুলে।রিয়া।চুল খোলা, চোখে সেই ...Read More

23

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 23

“পূর্ণ ছায়ার শেষ চাল”শেষ চাল কখনো হঠাৎ আসে না।ওটা আসে তখনই—যখন তুমি ভাবোসবচেয়ে কঠিন সময়টা পেরিয়ে এসেছ।রাত গভীর।বৃষ্টির শব্দে ঢেকে গেছে।ইরা আর মায়া পাশাপাশি বসে আছে,কথা নেই—কিন্তু অস্বস্তি আছে।মায়া হঠাৎ উঠে দাঁড়াল।— “কিছু ঠিক নেই,”সে বলল।— “ছায়ারা খুব চুপ।”ইরা তাকাল।— “চুপ মানেই তো বিপদ, তাই না?”মায়া মাথা নাড়ল।— “হ্যাঁ।পূর্ণ ছায়া কখনো সরাসরি আক্রমণ করে না।ও অপেক্ষা করে—মানুষ ভাঙার জন্য।”ঠিক তখনইঘরের আলো একবার ঝাঁপসা হয়ে নিভে গেল।ইরা দাঁড়িয়ে পড়ল।— “মায়া—”ঘরের এক কোণেঅন্ধকার ঘন হয়ে উঠল।ছায়া নয়—কণ্ঠ।— “খুব সুন্দর সিদ্ধান্ত নিয়েছ তোমরা।”পূর্ণ ছায়ার গলা।ইরার বুক ঠান্ডা হয়ে গেল।— “তুমি আবার—”— “এসেছি শেষ করতে,”ছায়া বলল।— “কারণ আলো আর ছায়াএকসাথে থাকলেনিয়ম ভেঙে যায়।”মায়া ...Read More

24

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 24

“দূরে থেকেও কাছে”দূরত্ব সবসময় দেয়াল হয় না।কখনও কখনওদূরত্ব আয়না হয়ে দাঁড়ায়—যেখানে মানুষ নিজের মুখটাসবচেয়ে স্পষ্ট দেখে।ইরা ছাদের ঘরে একা ছিল।রাত অনেক গভীর।বাইরে বৃষ্টি থেমে গেছে,কিন্তু ভেজা গন্ধটা এখনো বাতাসে।হাতের তালুতে হালকা কাঁপুনি।আজ প্রথম দিন—মায়া ছাড়া।সে চোখ বন্ধ করল।মায়ার মুখ ভেসে উঠল।শেষবারের মতো নয়,কিন্তু সবচেয়ে কঠিনভাবে।— “এটা শাস্তি না… এটা বাঁচার চেষ্টা।”নিজের কথাগুলোইবারবার ফিরে এসেতার বুক চেপে ধরছে।ইরা জানে—ভালোবাসা মানেসবসময় পাশে থাকা না।কখনও কখনওনিজেকে বাঁচাতেএক পা পিছোতে হয়।হঠাৎ ঘরের বাতি হালকা কেঁপে উঠল।ইরা চোখ খুলল।আলোটা যেনতার মুড বুঝেধীরে ধীরে ম্লান হচ্ছে।— “না… এখন না,”সে ফিসফিস করল।শ্বাসের সাথে তাল মিলিয়েআলোটা স্থির করল সে।এই প্রথমসে বুঝল—আলো শুধু আশ্রয় না,এটা নিয়ন্ত্রণও চায়।অন্যদিকে—মায়া দাঁড়িয়ে ...Read More

25

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 25

“যেখানে ক্ষমা শুরু হয়”ক্ষমাকখনও হঠাৎ আসে না।ও আসেযখন মানুষ নিজের চোখেনিজেকে দেখে।ইরা সকালে ঘুম ভাঙতেই বুঝল—আজ সে আর আগের নেই।মাঠের সেই অন্ধকার,নিজের ভয়ের মুখোমুখি হওয়া—কিছু একটা ভিতরে নড়েচড়ে বসেছে।সে আয়নার সামনে দাঁড়াল।চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ।কিন্তু চোখ দুটোঅদ্ভুত শান্ত।— “আমি ভাঙতে পারি,”সে নিজেকে বলল,— “কিন্তু হারাতে চাই না।”এই কথাটাইক্ষমার প্রথম ধাপ।অন্যদিকে—মায়া বসে আছে পুরনো ঘরে।দেয়ালে ফাটল।ছায়া আজ অস্বাভাবিক চুপ।— “আজ কথা বলবি না?”মায়া জিজ্ঞেস করল।ছায়া হাসল না।শুধু বলল—— “তুই বদলাচ্ছিস।”মায়া চোখ বন্ধ করল।— “আমি শিখছি,”সে বলল।— “সবকিছু ধরে রাখাভালোবাসা না।”এই কথাটাছায়ার গায়ে লাগল।একটু জ্বালা।বিকেলেইরা এল।দরজায় দাঁড়িয়ে।ভিতরে ঢুকল না।— “ভেতরে আসবি?”মায়া জিজ্ঞেস করল।ইরা মাথা নাড়ল।— “আজ না।আজ আমি শুধু কথা বলতে ...Read More

26

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 26

“যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়”কিছু সিদ্ধান্তচিৎকার করে আসে না।তারা আসেচুপচাপ,ভেতরের সবচেয়ে নরম জায়গায় আঘাত করে।ইরা আজ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে।নিজেকে দেখছে—কিন্তু মুখ না।ভয়টা দেখছে।শক্তিটাও।আজ আলো ডাকছে না।আজ আলো অপেক্ষা করছে।ইরা বুঝল—এটাই সেই মুহূর্তযেখানে আর কেউ ঠেলে দেয় না।নিজেকেই হাঁটতে হয়।অন্যদিকেমায়া বসে আছে মাটিতে।ছায়া তার চারপাশে—কিন্তু ছুঁতে পারছে না।— “তুই একা,”ছায়া বলল।মায়া চোখ খুলল।— “না।আমি নিজের সঙ্গে আছি।”এই কথাটায়ছায়া প্রথমবার থমকে গেল।কারণযে মানুষ নিজের সঙ্গে থাকে,তাকে দখল করা যায় না।হঠাৎইরা আর মায়াএকই জায়গায় এসে দাঁড়াল।কেউ ডাকেনি।কেউ টানেনি।নিজেদের সিদ্ধান্তে।নীরবতা ভারী।কিন্তু অস্বস্তিকর না।— “আমি ভয় পেয়েছিলাম,”ইরা বলল।— “তোমাকে না…নিজেকে হারানোর।”মায়া মাথা নোয়াল।— “আমি ভয় পেয়েছিলামতোর সামনে নিজেকে দেখাতে।”একটু থেমে—— “কারণ আমি সবসময় শক্ত ছিলাম।একা।”ইরা ...Read More

27

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 27

“শেষ নয়, শুরু”শেষ বলে কিছু হয় না।শুধু রূপ বদলায়।ইরা নতুন শহরে।নামটা গুরুত্বপূর্ণ না—কারণ এখানে কেউ তাকে চেনে না।এটাই শান্তি।ছোট ঘর।একটা জানালা।সকালের আলো সরাসরি পড়ে মেঝেতে।ইরা মেঝেতে বসে চোখ বন্ধ করে।হাতের তালু দুটো ওপরে তুলে রাখে।আলো আসে।কিন্তু এবারআলো দখল নেয় না।শুধু থাকে।— “এইটাই তো চাইছিলাম,”ইরা নিজেকে বলে।— “নিজের মতো থাকা।”কিন্তু বুকের ভেতরএকটা জায়গা ফাঁকা।খালি না—ফাঁকা।অন্যদিকেমায়া পুরনো শহরেই আছে।সবকিছু আগের মতো,কিন্তু সে আগের মতো না।সে আর ছায়া থেকে পালায় না।ছায়াকে ব্যবহারও করে না।সে কথা বলে।— “তুই যদি আমাকে গ্রাস করিস,”মায়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলে,— “আমি তোকে ছেড়ে দেব।”ছায়া প্রথমবারচুপ থাকে।কারণএটা হুমকি না।এটা সত্য।রিয়া দূরে দাঁড়িয়ে দেখে।এইবার আর হস্তক্ষেপ করে না।— “ভালোবাসা,”সে ...Read More

28

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 28

ভুল পথে পেলাম তোমাকে –“শেষ রাতের প্রস্তুতি”রাতটা অস্বাভাবিক শান্ত।আকাশে চাঁদ আছে… কিন্তু আলো যেন ফ্যাকাশে।চারপাশে এমন নিস্তব্ধতা—যেন পৃথিবী শ্বাস আছে।মায়া বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।দূরের অন্ধকারে তাকিয়ে।ইরা পিছন থেকে এসে ধীরে বলল—— “ঘুমাসনি এখনো?”মায়া মাথা নাড়ল।— “আজ ঘুম আসবে না।”ইরা তার পাশে এসে দাঁড়াল।কিছুক্ষণ কেউ কিছু বলল না।হঠাৎ মায়া বলল—— “ইরা… যদি শেষ লড়াইয়ে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি?”ইরার বুক ধক করে উঠল।সে একটু থেমে বলল—— “আমি তোকে ফিরিয়ে আনব।”মায়া হালকা হাসল।— “যদি না পারিস?”ইরা এবার সরাসরি তার দিকে তাকাল।— “আমি চেষ্টা বন্ধ করব না।”বাতাসটা হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল।ঠিক তখনইমায়ার বুকের ভেতর হালকা জ্বালা অনুভব হলো।সে চোখ বন্ধ করল।মুহূর্তের মধ্যেইচারপাশ বদলে গেল।সে ...Read More

29

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 29

“ভাঙনের সীমা”ঝড়টা যেন ঘরের ভেতরেই আটকে গেছে।জানালার কাঁচ ভাঙা…মোমবাতির আলো নিভে গেছে…চারদিকে শুধু কালো ধোঁয়ার মতো অন্ধকার ঘুরছে।মায়ার শরীর দাঁড়িয়ে কাঁপছে।তার চোখে আলো আর অন্ধকার একসাথে লড়ছে।ইরা তার হাত শক্ত করে ধরে আছে।কিন্তু সে বুঝতে পারছে—এই লড়াই শুধু বাইরে না…মায়ার ভেতরেও চলছে।পূর্ণ ছায়ার গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল—— “সময় শেষ হয়ে আসছে…”ঘরের বাতাস ভারী হয়ে উঠল।— “ভালোবাসা আর ভয়—একসাথে টিকে না।”মায়া হাঁপাচ্ছিল।তার মাথার ভেতর অসংখ্য স্মৃতি ঘুরছে।শৈশবের একাকিত্ব…নিজেকে হারানোর ভয়…আর ইরাকে হারানোর আতঙ্ক।পূর্ণ ছায়া ফিসফিস করল—— “তুমি জানো… তুমি ওকে বাঁচাতে পারবে না।”মায়ার বুক ভেঙে যেতে লাগল।ঠিক তখনইতার চোখের সামনে দৃশ্য বদলে গেল।সে দেখল—ইরা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।— “না…”মায়া ...Read More

30

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 30

“শেষ যুদ্ধের আহ্বান”ভোরের আলো ধীরে ধীরে শহরের উপর ছড়িয়ে পড়ছে।ঝড় থেমে গেছে…কিন্তু বাতাসে এখনো অদ্ভুত একটা ভার।ইরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে চোখে ক্লান্তি… তবুও শান্ত একটা দৃঢ়তা।পেছন থেকে মায়া এসে দাঁড়াল।— “ঘুমাসনি?”ইরা হালকা হাসল।— “আজ ঘুম আসেনি… মনে হচ্ছিল কিছু আসছে।”মায়া চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।সে জানে—ইরার অনুভূতি খুব কম ভুল হয়।ঠিক তখনইআকাশ হঠাৎ অদ্ভুতভাবে অন্ধকার হয়ে উঠল।সূর্যের আলো যেন কেউ গিলে ফেলল।চারদিকে ঠান্ডা বাতাস বইতে লাগল।মায়ার শরীর শক্ত হয়ে গেল।— “ও এসে গেছে…”ইরার বুক ধড়ফড় করতে লাগল।— “পূর্ণ ছায়া?”মায়া ধীরে মাথা নাড়ল।শহরের মাঝখানের পুরনো ভাঙা কারখানা।চারদিকে ধুলো…জং ধরা লোহা…নিস্তব্ধতা।মায়া আর ইরা ভিতরে ঢুকল।মাটিতে অদ্ভুত কালো চিহ্ন আঁকা।হঠাৎ চারপাশের দেয়াল কাঁপতে শুরু ...Read More

31

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 31

“শেষ সীমানা”কখনও কখনও যুদ্ধ শেষ হয় নাশত্রু হারালে।যুদ্ধ শেষ হয়যখন নিজের ভেতরের ভয় শেষ হয়।রাতটা অদ্ভুতভাবে নীরব ছিল।শহরের আলো হাঁটছে…সবকিছু স্বাভাবিক।কিন্তু আকাশের উপরেধীরে ধীরে জমছিল কালো ছায়া।ইরা ছাদের ধারে দাঁড়িয়ে ছিল।তার মনে অদ্ভুত অস্থিরতা।পেছন থেকে মায়া এসে দাঁড়াল।— “আবার অনুভব করছিস?”ইরা মাথা নাড়ল।— “ও খুব কাছে…”মায়ার চোখ অন্ধকার হয়ে উঠল।— “হ্যাঁ… আজ শেষ হবে।”হঠাৎ বাতাস জমে গেল।চারপাশের শব্দ থেমে গেল।সময় যেন থেমে গেল এক মুহূর্তের জন্য।তারপরআকাশ ফেটে গেল।কালো আলো নেমে এলো পুরো শহরের উপর।পূর্ণ ছায়া ফিরে এসেছে।কিন্তু এবার সে আগের চেয়ে আলাদা।তার শরীর নেই।সে পুরো আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে আছে।তার কণ্ঠ চারদিকে প্রতিধ্বনি হলো—— “তোমরা আমাকে দুর্বল করেছ…তাই এবার আমি ...Read More

32

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 32

“ত্যাগ না মিল”শেষ যুদ্ধের আগেসবকিছু অদ্ভুত শান্ত হয়ে যায়।যেন ঝড়ের আগেপৃথিবী একবার শ্বাস নেয়।সকাল।আকাশ পরিষ্কার।কিন্তু ইরা জানে —এই শান্তি না।সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।হঠাৎ পিছন থেকে মায়া বলল—— “আজই।”ইরা ঘুরে তাকাল।— “তুইও অনুভব করছিস?”মায়া মাথা নাড়ল।— “পূর্ণ ছায়া শেষবারের মতো ফিরে আসবে।আজ ও শেষ চেষ্টা করবে।”হঠাৎ চারপাশের আলো নিভে গেল।দিনের মাঝখানেঅন্ধকার নেমে এল।বাতাস ভারী হয়ে গেল।পূর্ণ ছায়ার কণ্ঠ—— “শেষ সিদ্ধান্তের সময়।”আকাশে কালো ঘূর্ণি তৈরি হলো।তার মাঝখানেঅন্ধকারের কেন্দ্র।মায়া ফিসফিস করল—— “ওর আসল শক্তি এখন ওখানে।”ইরা জিজ্ঞেস করল—— “ওকে শেষ করার উপায়?”মায়া কিছুক্ষণ চুপ রইল।তারপর ধীরে বলল—— “একজনকে নিজের শক্তি পুরোটা ছেড়ে দিতে হবে।”নীরবতা।ইরার বুক কেঁপে উঠল।— “মানে?”— “যে নিজের আলো বা ...Read More

33

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 33 (Last Part)

“নতুন শপথ”জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ জেতার পরমানুষ বুঝতে পারে—শান্তিই আসল শক্তি।শরতের বিকেল।হালকা রোদ।ইরা আর মায়া নদীর ধারে হাঁটছিল।বাতাসে ঠান্ডা স্পর্শ।মায়া হঠাৎ বলল—— “তুই কি কখনো ভাবিস…যদি আমরা সেইদিন আলাদা হয়ে যেতাম?”ইরা একটু থামল।— “ভাবি।”মায়া তাকাল।— “তাহলে?”ইরা হালকা হাসল।— “তাহলে হয়তো আমরা দু’জনেই বেঁচে থাকতাম…কিন্তু বাঁচতাম না।”কিছুক্ষণ দু’জনেই চুপ।শুধু নদীর জল বইছে।মায়া ধীরে বলল—— “আমি আগে সবসময় ভয় পেতাম…কাউকে হারানোর।”ইরা তার হাত ধরল।— “এখন?”মায়া একটু ভেবে বলল—— “এখনও ভয় পাই…কিন্তু পালাই না।”ইরা বলল—— “এইটাই তো সাহস।”নদীর ধারে একটা ছোট মন্দির ছিল।ওরা সিঁড়িতে বসে পড়ল।সূর্য ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে।মায়া হঠাৎ বলল—— “ইরা…”— “হুম?”— “আমরা কি একটা শপথ করব?”ইরা অবাক হয়ে তাকাল।— ...Read More