I found you on the wrong path. in Bengali Love Stories by MOU DUTTA books and stories PDF | ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 25

Featured Books
  • Muhabbat Ek Sabaq - 16

    "अम्मी आप फ्री हैं" ?? आज रूटीन के मुताबिक़ शहरयार वॉक करने...

  • Raaz - Part 9

    सुबह के पाँच बजे थे।चंदनगढ़ की सुबह बाकी जगहों जैसी नहीं थी।...

  • आख़िरी चिट्ठी का रहस्य

    आख़िरी चिट्ठी का रहस्यबारिश की हल्की बूंदें गाँव की कच्ची गल...

  • क्या दीक्षा आवश्यक है ?

    जयगुरु क्या दीक्षा आवश्यक है? — शास्त्र, संत और मानवता की दृ...

  • मंदिर में तुम - 9

    ठंडी हवा चल रही थी…कोरिया की सड़कों पर हल्की रोशनी थी…और सुन...

Categories
Share

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 25

“যেখানে ক্ষমা শুরু হয়”
ক্ষমা
কখনও হঠাৎ আসে না।
ও আসে
যখন মানুষ নিজের চোখে
নিজেকে দেখে।
ইরা সকালে ঘুম ভাঙতেই বুঝল—
আজ সে আর আগের মতো নেই।
মাঠের সেই অন্ধকার,
নিজের ভয়ের মুখোমুখি হওয়া—
কিছু একটা ভিতরে নড়েচড়ে বসেছে।
সে আয়নার সামনে দাঁড়াল।
চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ।
কিন্তু চোখ দুটো
অদ্ভুত শান্ত।
— “আমি ভাঙতে পারি,”
সে নিজেকে বলল,
— “কিন্তু হারাতে চাই না।”
এই কথাটাই
ক্ষমার প্রথম ধাপ।
অন্যদিকে—
মায়া বসে আছে পুরনো ঘরে।
দেয়ালে ফাটল।
ছায়া আজ অস্বাভাবিক চুপ।
— “আজ কথা বলবি না?”
মায়া জিজ্ঞেস করল।
ছায়া হাসল না।
শুধু বলল—
— “তুই বদলাচ্ছিস।”
মায়া চোখ বন্ধ করল।
— “আমি শিখছি,”
সে বলল।
— “সবকিছু ধরে রাখা
ভালোবাসা না।”
এই কথাটা
ছায়ার গায়ে লাগল।
একটু জ্বালা।
বিকেলে
ইরা এল।
দরজায় দাঁড়িয়ে।
ভিতরে ঢুকল না।
— “ভেতরে আসবি?”
মায়া জিজ্ঞেস করল।
ইরা মাথা নাড়ল।
— “আজ না।
আজ আমি শুধু কথা বলতে এসেছি।”
এই দূরত্বে
কোনো রাগ নেই।
আছে বোঝাপড়া।
— “আমি কাল ভয় পেয়েছিলাম,”
ইরা বলল।
— “তোর জন্য না।
নিজের জন্য।”
মায়া চুপ করে শুনল।
— “আর আমি বুঝেছি,”
ইরা এগোল,
— “আমি যদি নিজেকে ক্ষমা না করি,
আমি কাউকে বিশ্বাস করতে পারব না।”
মায়ার গলা ভারী হলো।
— “আমি তোকে কষ্ট দিয়েছি,”
সে বলল।
— “জানতাম না
কীভাবে থামতে হয়।”
— “জানলেই যথেষ্ট না,”
ইরা শান্ত গলায় বলল।
— “চর্চা করতে হয়।”
এই কথাটা
মায়ার বুকে বসে গেল।
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর—
— “আমি তোকে ক্ষমা করেছি,”
ইরা বলল।
মায়া তাকাল।
— “এত সহজ?”
ইরা হালকা হাসল।
— “না।
কিন্তু আমি সহজটা বেছে নিচ্ছি।
কারণ কঠিনটা
আমাদের শেষ করে দেবে।”
মায়ার চোখে
জল জমল।
— “আমি নিজেকেও ক্ষমা করার চেষ্টা করছি,”
সে বলল।
এই প্রথম
ছায়াটা পিছিয়ে গেল।
এক পা।
ইরা চলে যাওয়ার সময় বলল—
— “আমরা এখনো আলাদা।
কিন্তু বিচ্ছিন্ন না।”
দরজা বন্ধ হলো।
ঘরে
একটা হালকা আলো।
মায়া ধীরে বসে পড়ল।
— “শুনছিস?”
সে ছায়াকে বলল।
— “এইটাই শুরু।”
ছায়া আর কথা বলল না।

“যা ধীরে গড়ে ওঠে”
কিছু সম্পর্ক
ঝড় থামলে তৈরি হয় না।
ঝড়ের পর
যে নীরবতা থাকে—
সেখানেই
ওরা ধীরে গড়ে ওঠে।
ইরা এখন একা থাকে।
কিন্তু একাকী না।
প্রতিদিন সকালে
নিজের আলোটা সে ছুঁয়ে দেখে—
জ্বলে কি না,
শোনে কি না।
আজ আলো শান্ত।
আগের মতো হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে না।
ভয় দেখায় না।
ইরা বুঝল—
নিয়ন্ত্রণ মানে চেপে ধরা নয়,
নিয়ন্ত্রণ মানে শোনা।
মায়া দূরে।
কিন্তু হারিয়ে যায়নি।
সে শিখছে
ছায়ার সঙ্গে লড়াই না করে
তার সীমা টানতে।
— “আজ তুই চুপ,”
মায়া বলল।
ছায়া ধীরে উত্তর দিল—
— “কারণ তুই ভয় পাচ্ছিস না।”
এই কথাটা
মায়ার ভেতরে
একটা ছোট জয়।
কয়েকদিন পর
ওরা দেখা করল।
কোনো নাটক নেই।
কোনো জড়িয়ে ধরা নেই।
দুজনেই
নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে।
— “আমার মনে হয়,”
ইরা বলল,
— “আমরা ঠিক পথে নেই।
কিন্তু ভুল পথেও না।”
মায়া মাথা নোয়াল।
— “আমিও তাই ভাবি।
আমরা হাঁটছি—
একই দিকে,
কিন্তু নিজের নিজের পায়ে।”
এই কথাটার ভেতরে
অদ্ভুত স্বস্তি।
হঠাৎ বাতাস কেঁপে উঠল।
দূরে
ছায়া নড়ল।
ইরা থামল।
— “এটা কি আবার শুরু?”
মায়া তাকাল।
চোখে ভয় নেই।
— “না,”
সে বলল।
— “এটা পরীক্ষা।”
ইরা গভীর শ্বাস নিল।
আলো জ্বালাল—
কিন্তু পুরো না।
শুধু
যতটা দরকার।
ছায়া পিছিয়ে গেল।
মায়া ফিসফিস করে বলল—
— “দেখেছিস?
ধীরে চললেও
আমরা এগোচ্ছি।”
ইরা হালকা হাসল।
— “হ্যাঁ।
আর এইবার
পিছনে ফিরে তাকাচ্ছি না।”
দূরে
রিয়ার ছায়া
চুপচাপ সব দেখল।
সে জানে—
এই গল্প
এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গায়।
কারণ
যা ধীরে গড়ে ওঠে,
তা ভাঙতে
সবচেয়ে বেশি শক্তি লাগে।
“পরীক্ষার নাম বিশ্বাস”
বিশ্বাস
একসাথে থাকলে তৈরি হয় না।
বিশ্বাস তৈরি হয়
যখন পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে—
কিন্তু দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক নয়।
রাত গভীর।
শহর নিঃশব্দ।
ইরা একা বসে আছে জানালার ধারে।
আজ আলো জ্বালায়নি।
ইচ্ছা করে।
কারণ আজ
সে জানতে চায়—
আলো না থাকলে
সে নিজে কেমন।
দূরে হঠাৎ
একটা কণ্ঠ ভেসে আসে।
— “তুমি পালাচ্ছো।”
রিয়া।
ইরা চোখ না তুলেই বলল—
— “না।
আমি দাঁড়িয়ে আছি।”
রিয়া ধীরে কাছে আসে।
— “একাই?”
— “নিজের সঙ্গে।”
এই উত্তরটা
রিয়াকে চুপ করায়।
অন্যদিকে
মায়া দাঁড়িয়ে একা
পুরনো ছায়ার ঘরে।
ছায়া আজ শান্ত।
অস্বাভাবিকভাবে শান্ত।
— “ও তো নেই,”
ছায়া ফিসফিস করে।
— “তুই দুর্বল।”
মায়া চোখ বন্ধ করে।
— “না।
আমি অসম্পূর্ণ।
আর সেটাই সত্য।”
ছায়া নড়েচড়ে বসে।
এই উত্তর
তার জানা ছিল না।
রিয়া এবার শেষ চাল দেয়।
একসাথে
ইরা আর মায়ার সামনে
একটা দৃশ্য ভেসে ওঠে।
এক ভবিষ্যৎ।
ইরা একা।
আলো জ্বলে উঠেছে—
কিন্তু কাউকে ছুঁয়ে নেই।
মায়া পুরো ছায়া।
নিয়ন্ত্রণহীন।
ধ্বংস।
রিয়ার কণ্ঠ—
— “এটাই হবে।
যদি আলাদা থাকো।”
ইরার বুক কেঁপে উঠল।
কিন্তু সে পালাল না।
— “এটা সম্ভাবনা,”
ইরা বলল।
— “নিয়তি না।”
মায়া দূর থেকে
একই সময়ে বলল—
— “আর আমরা
সম্ভাবনা বেছে নিই।”
দু’জনের কণ্ঠ
একসাথে মিলল।
দৃশ্য ভেঙে গেল।
রিয়া পিছিয়ে গেল
এক পা।
এই প্রথম
তার চোখে ভয়।
ইরা গভীর শ্বাস নিল।
— “বিশ্বাস মানে
একসাথে আটকে থাকা না।”
মায়া যোগ করল—
— “বিশ্বাস মানে
একই দিকে ফিরে তাকানো।”
রিয়া হাসল।
কিন্তু সেই হাসি ফাঁকা।
— “তাহলে শেষ লড়াই আসছে।”
ইরা শান্ত কণ্ঠে বলল—
— “আমরা জানি।”
রিয়া মিলিয়ে গেল
রাতের ভেতর।
দূরে
আলো আর ছায়া
একই লাইনে দাঁড়িয়ে।
একসাথে না।
কিন্তু বিপরীতও না।
এই প্রথম
বিশ্বাসটা
নিজের পায়ে দাঁড়াল।