I found you on the wrong path. in Bengali Love Stories by MOU DUTTA books and stories PDF | ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 28

Featured Books
Categories
Share

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 28

ভুল পথে পেলাম তোমাকে – 
“শেষ রাতের প্রস্তুতি”
রাতটা অস্বাভাবিক শান্ত।
আকাশে চাঁদ আছে… কিন্তু আলো যেন ফ্যাকাশে।
চারপাশে এমন নিস্তব্ধতা—যেন পৃথিবী শ্বাস আটকে আছে।
মায়া বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।
দূরের অন্ধকারে তাকিয়ে।
ইরা পিছন থেকে এসে ধীরে বলল—
— “ঘুমাসনি এখনো?”
মায়া মাথা নাড়ল।
— “আজ ঘুম আসবে না।”
ইরা তার পাশে এসে দাঁড়াল।
কিছুক্ষণ কেউ কিছু বলল না।
হঠাৎ মায়া বলল—
— “ইরা… যদি শেষ লড়াইয়ে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি?”
ইরার বুক ধক করে উঠল।
সে একটু থেমে বলল—
— “আমি তোকে ফিরিয়ে আনব।”
মায়া হালকা হাসল।
— “যদি না পারিস?”
ইরা এবার সরাসরি তার দিকে তাকাল।
— “আমি চেষ্টা বন্ধ করব না।”
বাতাসটা হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল।
ঠিক তখনই
মায়ার বুকের ভেতর হালকা জ্বালা অনুভব হলো।
সে চোখ বন্ধ করল।
মুহূর্তের মধ্যেই
চারপাশ বদলে গেল।
সে দেখল—
একটা বিশাল অন্ধকার জায়গা।
মাটিতে ফাটল।
আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢাকা।
আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে—
পূর্ণ ছায়া।
তার আকার স্পষ্ট নয়।
কিন্তু উপস্থিতি ভয়ংকর ভারী।
— “তুমি আবার এসেছ,”
মায়া ফিসফিস করল।
অন্ধকারের ভেতর থেকে গম্ভীর শব্দ এল—
— “আমি কখনো যাইনি।”
মায়ার শরীর শক্ত হয়ে গেল।
— “তুমি কী চাও?”
পূর্ণ ছায়া ধীরে বলল—
— “তোমাকে।”
— “কেন?”
— “কারণ তুমি আলো আর অন্ধকারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছো।
তুমি যদি ভেঙে পড়ো—
সব আলো নিভে যাবে।”
মায়া দাঁতে দাঁত চেপে বলল—
— “আমি ভাঙব না।”
পূর্ণ ছায়া হেসে উঠল।
শব্দটা ঠান্ডা আর ফাঁকা।
— “তোমার ভয় এখনো বেঁচে আছে।”
মায়া চুপ করে গেল।
তার সামনে হঠাৎ দৃশ্য বদলে গেল।
সে দেখল—
ইরা মাটিতে পড়ে আছে।
রক্ত… নিস্তব্ধতা…
মায়ার বুক ফেটে গেল।
— “না!”
সে চিৎকার করল।
পূর্ণ ছায়া বলল—
— “এই ভয়টাই তোমাকে শেষ করবে।”
ঠিক তখনই
মায়া অনুভব করল কেউ তার হাত ধরে আছে।
দৃশ্যটা ভেঙে গেল।
সে চোখ খুলে দেখল—
ইরা তার সামনে দাঁড়িয়ে।
— “মায়া! তুই ঠিক আছিস?”
মায়া হাঁপাচ্ছিল।
তার হাত ঠান্ডা হয়ে গেছে।
— “ও ফিরে এসেছে,”
সে ফিসফিস করল।
ইরা ধীরে বলল—
— “আমি জানি।”
মায়া অবাক হয়ে তাকাল।
— “তুই জানিস?”
ইরা মাথা নাড়ল।
— “আমি স্বপ্নে দেখেছি।”
নীরবতা নেমে এল।
মায়া ধীরে বসে পড়ল।
— “ও আমাদের ভয় দেখাবে… আমাদের আলাদা করার চেষ্টা করবে।”
ইরা বলল—
— “তাহলে আমরা ভয়কে অস্ত্র বানাব।”
মায়া তাকাল তার দিকে।
— “মানে?”
ইরা বলল—
— “আমরা পালাব না।
আমরা ওর সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভয় স্বীকার করব।”
মায়ার চোখে বিস্ময়।
— “ওটা কি কাজ করবে?”
ইরা বলল—
— “পূর্ণ ছায়া ভয় থেকে শক্তি পায়।
যদি ভয় লুকিয়ে রাখি—ও জিতবে।
যদি ভয় মেনে নিই—ও দুর্বল হবে।”
মায়া ধীরে বলল—
— “তাহলে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।”
রাত গভীর হলো।
ওরা দুজন একটা পুরনো ঘরে বসে।
মোমবাতির আলো কাঁপছে।
মাঝখানে একটা বৃত্ত আঁকা।
চারদিকে লবণ ছড়ানো।
মায়া বলল—
— “এটা শেষ রিচুয়াল হতে পারে।”
ইরা হালকা হাসল।
— “শেষ না… নতুন শুরু।”
মায়া তাকাল তার দিকে।
তার চোখে অদ্ভুত শান্তি।
— “ইরা… যদি আমাকে বেছে নিতে হয়—
তুই আমাকে থামাবি?”
ইরা এক সেকেন্ড চুপ থাকল।
তারপর বলল—
— “আমি তোকে হারাতে দেব না…
কিন্তু যদি তোর ভেতরের আলো বাঁচাতে তোর অন্ধকারকে থামাতে হয়—
আমি করব।”
মায়ার চোখ ভিজে উঠল।
— “এই জন্যই আমি তোকে ভালোবাসি।”
ইরা তার হাত ধরল।
মোমবাতির আলো হঠাৎ জ্বলে উঠল।
ঘরের ভেতর ভারী চাপ অনুভব হলো।
বাতাস ঘুরতে শুরু করল।
মায়া চোখ বন্ধ করে মন্ত্র পড়তে লাগল।
হঠাৎ মাটির বৃত্তের মাঝখানে
অন্ধকার জমতে শুরু করল।
পূর্ণ ছায়া ধীরে ধীরে আকার নিল।
এইবার তার উপস্থিতি আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।
ঘরের দেয়াল কেঁপে উঠল।
পূর্ণ ছায়া বলল—
— “প্রস্তুত?”
মায়া দাঁড়িয়ে গেল।
— “হ্যাঁ।”
ইরা তার পাশে দাঁড়াল।
— “আমরাও।”
পূর্ণ ছায়া বলল—
— “শেষ পরীক্ষা শুরু হলো।”
হঠাৎ
ঘরের আলো নিভে গেল।
চারপাশ অন্ধকার।
মায়া অনুভব করল—
তার শরীরের ভেতর কিছু ঢুকছে।
তার চোখ কালো হয়ে উঠল।
ইরা ভয় পেলেও পিছিয়ে গেল না।
— “মায়া! আমার দিকে তাকাস!”
মায়া কাঁপতে লাগল।
পূর্ণ ছায়ার কণ্ঠ শোনা গেল—
— “ওকে বাঁচাতে হলে… তুই ওকে ছেড়ে দে।”
ইরার বুক কেঁপে উঠল।
— “না।”
— “ভালোবাসা ত্যাগ ছাড়া টেকে না।”
ইরা ধীরে বলল—
— “ভালোবাসা ভয়কে জিততে দেয় না।”
মায়া চিৎকার করে উঠল।
তার ভেতরে আলো আর অন্ধকার লড়াই করছে।
ঘরের কাঁচ ভেঙে গেল।
মোমবাতি নিভে গেল।
পূর্ণ ছায়া গর্জে উঠল—
— “শেষ সুযোগ!”
ইরা মায়ার হাত শক্ত করে ধরল।
— “শোন… তুই একা না।
তুই যদি পড়ে যাস—আমি তোকে ধরে তুলব।”
মায়ার চোখে হঠাৎ জল এসে গেল।
তার ভেতরের আলো জ্বলে উঠল।
অন্ধকার কাঁপতে শুরু করল।
পূর্ণ ছায়া চিৎকার করল।
ঘরের বাতাস ঝড়ের মতো ঘুরতে লাগল।
কিন্তু যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি।
কারণ
শেষ সিদ্ধান্ত এখনো বাকি।
মায়াকে ঠিক করতে হবে—
সে নিজের ভয়কে হারাবে…
না নিজের ভালোবাসাকে ত্যাগ করবে।
বাইরে আকাশে বজ্রপাত হলো।
আর সেই আলোয়
ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা দুই মানুষের ছায়া
এক হয়ে গেল।