I found you on the wrong path. in Bengali Love Stories by MOU DUTTA books and stories PDF | ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 31

Featured Books
Categories
Share

ভুল পথে পেলাম তোমাকে - Part 31

“শেষ সীমানা”
কখনও কখনও যুদ্ধ শেষ হয় না
শত্রু হারালে।
যুদ্ধ শেষ হয়
যখন নিজের ভেতরের ভয় শেষ হয়।
রাতটা অদ্ভুতভাবে নীরব ছিল।
শহরের আলো জ্বলছে…
মানুষজন হাঁটছে…
সবকিছু স্বাভাবিক।
কিন্তু আকাশের উপরে
ধীরে ধীরে জমছিল কালো ছায়া।
ইরা ছাদের ধারে দাঁড়িয়ে ছিল।
তার মনে অদ্ভুত অস্থিরতা।
পেছন থেকে মায়া এসে দাঁড়াল।
— “আবার অনুভব করছিস?”
ইরা মাথা নাড়ল।
— “ও খুব কাছে…”
মায়ার চোখ অন্ধকার হয়ে উঠল।
— “হ্যাঁ… আজ শেষ হবে।”
হঠাৎ বাতাস জমে গেল।
চারপাশের শব্দ থেমে গেল।
সময় যেন থেমে গেল এক মুহূর্তের জন্য।
তারপর
আকাশ ফেটে গেল।
কালো আলো নেমে এলো পুরো শহরের উপর।
পূর্ণ ছায়া ফিরে এসেছে।
কিন্তু এবার সে আগের চেয়ে আলাদা।
তার শরীর নেই।
সে পুরো আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে আছে।
তার কণ্ঠ চারদিকে প্রতিধ্বনি হলো—
— “তোমরা আমাকে দুর্বল করেছ…
তাই এবার আমি তোমাদের পৃথিবীটাই ভেঙে দেব।”
ইরার বুক ঠান্ডা হয়ে গেল।
— “ও পুরো শহরটাকে ব্যবহার করছে…”
মায়া দাঁত চেপে বলল—
— “ও এখন ভয় ছড়াবে…
মানুষের ভেতরের অন্ধকার দিয়ে শক্তি নেবে।”
চারপাশে মানুষ হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠতে লাগল।
কেউ কাঁদছে…
কেউ ঝগড়া করছে…
কেউ ভয়ে চিৎকার করছে।
ইরা বুঝে গেল।
— “ও মানুষের ভয় বাড়াচ্ছে।”
মায়া বলল—
— “ওকে থামাতে হলে আমাদের ওর কেন্দ্রে যেতে হবে।”
ইরা তাকাল।
— “ওর কেন্দ্র কোথায়?”
মায়া আকাশের দিকে তাকাল।
— “যেখানে সবচেয়ে বেশি ভয় জমেছে…”
হঠাৎ তাদের সামনে
আকাশ ফেটে একটা অন্ধকার দরজা তৈরি হলো।
পূর্ণ ছায়ার কণ্ঠ ভেসে এল—
— “এসো… যদি সাহস থাকে।”
ইরা গভীর শ্বাস নিল।
— “চল।”
মায়া তার হাত ধরল।
— “এইবার যাই… শেষ পর্যন্ত।”
দু’জন দরজার ভেতর ঢুকল।
চারপাশে অদ্ভুত শূন্যতা।
মনে হচ্ছে তারা কোনো বাস্তব জায়গায় নেই।
চারদিকে ভাসছে মানুষের স্মৃতি…
ভয়…
হারানোর মুহূর্ত।
ইরা কাঁপতে লাগল।
— “এগুলো… মানুষের ভয়?”
মায়া ধীরে বলল—
— “হ্যাঁ… আর এখান থেকেই ও শক্তি পায়।”
হঠাৎ অন্ধকার জমে
পূর্ণ ছায়ার আসল রূপ তৈরি হলো।
এইবার সে বিশাল না…
বরং মানুষের মতো।
কিন্তু তার চোখে অসীম অন্ধকার।
— “তোমরা আমাকে শেষ করতে পারবে না,”
সে বলল।
— “আমি মানুষের ভেতরে থাকি।”
ইরা সামনে এগিয়ে গেল।
— “মানুষের ভেতরে আলোও থাকে।”
পূর্ণ ছায়া হেসে উঠল।
— “আলো সবসময় হারে… যখন হারানোর ভয় আসে।”
মায়া ধীরে বলল—
— “আমরা ভয় হারাতে আসিনি…
আমরা ভয় নিয়েই দাঁড়াতে এসেছি।”
পূর্ণ ছায়া হাত তুলল।
হঠাৎ ইরা নিজেকে দেখতে পেল—
একটা দৃশ্যের ভেতর।
সে একা…
মায়া নেই…
চারপাশ ফাঁকা।
তার বুক ভেঙে যাচ্ছিল।
পূর্ণ ছায়ার কণ্ঠ—
— “এই ভবিষ্যৎ… যেখানে তুমি সব হারাবে।”
ইরার চোখে জল চলে এল।
সে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।
ঠিক তখন
মায়ার কণ্ঠ ভেসে এল—
— “ইরা… মনে কর… আমরা কেন লড়ছি।”
ইরা চোখ বন্ধ করল।
তার মনে পড়ল—
প্রথম দেখা…
প্রথম ঝগড়া…
প্রথম ভালোবাসার স্বীকারোক্তি…
বিচ্ছেদের যন্ত্রণা…
আবার ফিরে আসা…
সে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
— “আমি হারানোর ভয় পাই…
কিন্তু তোর ভালোবাসা ছাড়ব না।”
দৃশ্য ভেঙে গেল।
এদিকে
মায়ার সামনে তৈরি হলো তার সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ।
একটা ছায়া—
যেটা সম্পূর্ণ তার মতো।
সে ফিসফিস করে বলল—
— “তুই আবার নিয়ন্ত্রণ হারাবি…”
মায়ার শরীর কেঁপে উঠল।
তার চোখে জল এল।
কিন্তু সে এগিয়ে গেল।
— “হ্যাঁ… আমি দুর্বল…
আমি ভুল করি…
কিন্তু আমি পালাই না।”
সে নিজের ছায়াটাকে জড়িয়ে ধরল।
ছায়াটা ধীরে ধীরে আলো হয়ে গেল।
হঠাৎ পুরো জায়গা কেঁপে উঠল।
পূর্ণ ছায়া পিছিয়ে গেল।
— “অসম্ভব…”
ইরা আর মায়া একসাথে দাঁড়াল।
তাদের শরীর থেকে আলো ছড়িয়ে পড়ছে।
পূর্ণ ছায়া চিৎকার করল—
— “শেষ করতে হলে তোমাদের একজনকে নিজের শক্তি ছেড়ে দিতে হবে!”
নীরবতা।
ইরা মায়ার দিকে তাকাল।
মায়া ইরার দিকে তাকাল।
দু’জনেই বুঝে গেল—
শেষ সিদ্ধান্ত সামনে।
মায়া ধীরে বলল—
— “আমি পারব।”
ইরা মাথা নাড়ল।
— “না… আমরা দু’জন একসাথে পারব।”
তারা হাত শক্ত করে ধরল।
তাদের আলো একসাথে মিলতে শুরু করল।
পূর্ণ ছায়া পিছিয়ে যেতে লাগল।
চারপাশে আলো বিস্ফোরিত হলো।
পূর্ণ ছায়া ধীরে ধীরে ভেঙে যেতে লাগল।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে
সে ফিসফিস করে বলল—
— “শেষ সিদ্ধান্ত এখনো বাকি…”
সে মিলিয়ে গেল।
সবকিছু শান্ত হয়ে গেল।
শূন্যতার জায়গা ভেঙে তারা আবার বাস্তবে ফিরে এল।
ইরা হাঁপাচ্ছিল।
— “ও কি শেষ?”
মায়া ধীরে বলল—
— “আমি অনুভব করছি… শেষ আঘাত এখনো বাকি।”
ইরা তার হাত শক্ত করে ধরল।
— “যতক্ষণ আমরা একসাথে আছি… শেষ ভয় নেই।”
মায়া তার কপালে কপাল ছুঁইয়ে দিল।
— “শেষ যুদ্ধ… আমাদের ভালোবাসার।”
দূরে আকাশে
শেষ ঝড় জমতে শুরু করল।
কারণ
শেষ অধ্যায় এখন সামনে।