Jharapata 79 in Bengali Love Stories by Srabanti Ghosh books and stories PDF | ঝরাপাতা - 79

Featured Books
Categories
Share

ঝরাপাতা - 79

ঝরাপাতা 

পর্ব - ৭৯

🌹💞🌹💞🌹💞🌹

রনি মিলির মুখ তুলে ধরে নিজের বুকের উপর থেকে, "আচ্ছা, সরি বাবা। আর কেঁদো না, আর রাগ কোরো না।"

মিলি চোখের জল মুছে হাসার চেষ্টা করে, "রাগ করিনি। আমি ঐ টেবিলটা......"

ও সবে বলতে যাচ্ছিল টেবিল পরিষ্কার করতে এসেছে ঘরে। আর অর্ধেক কথা শুনেই রনি বুঝতে পেরেছে, মিলি কাঁদছে কেন। সত্যিই তো কি পরিস্থিতিতে রয়েছে মেয়েটা ! এইভাবে এ বাড়িতে এনে রেখেই কি আরও অত্যাচার করা হচ্ছে ওর উপর? 

মিলিকে আর কথা বলতে না দিয়ে ওর মাথাটা বুকের মধ্যে চেপে ধরে রনি। কি অধিকার আছে মিলির এ বাড়িতে? কিভাবে মেয়েটা হাসিখুশি থাকবে? নিজেকে বলে, আর এভাবে নয়। এবার কিছু করতেই হবে। 

মিলি ততক্ষণে ওকে ছেড়ে দিয়েছে, "আমি আসছি" বলে সরে যাওয়ার আগেই রনি বলতে যায়, আর ওকে কোথাও যেতে দেবে না নিজের কাছ থেকে। মিলিকে কাছে টেনে নিয়ে ওর কপালে চুমু খায়। মিলির বড় বড় চোখদুটোর দিকে তাকিয়ে কিন্তু নিজের সব কথা ভুলে গিয়ে ঠোঁট নামিয়ে আনে ওর ঠোঁটে। 

পিউ একরকম দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠছে। বনির‌ও ইচ্ছে করছিল, ওর হাত ধরে থামায়, তারপর ওর সঙ্গেই দৌড়ে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠে। ইচ্ছেটা প্রকাশ না করে বনি হাসতে হাসতেই উঠে এসেছে ওর পিছনে। সিঁড়ি পেরিয়ে পিউ সবে করিডরে পা দিয়েছে, বনি সিঁড়ির শেষ ধাপে, টুকাই বাবাকে ঠেলেঠুলে মায়ের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। 

মাকে দৌড়তে দেখে, বাবার হাসি দেখে টুকাই বুঝেছে, কিছু একটা মজা হতে যাচ্ছে। ও ছুটে উঠে এসেছে বনির পিছনে। 

আচমকা টুকাইয়ের সঙ্গে পায়ে বেধে পিউ ধপাস করে পড়েছে। ওর কোলের উপর টুকাই। মায়ের কোলেই পড়েছে বলে টুকাই ব্যথা পায়নি, বরং মাকে সুদ্ধ নিয়ে পড়ে গিয়ে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। 

ওদিকে পিউ পড়ে গিয়েই, "বাবাগো, গেছিগো" বলে চীৎকার শুরু করেছে। 

ওর চীৎকার শুনে মণিকা নিচে থেকে চেঁচাতে শুরু করেছে, "এ্যাই পিউ চেঁচাচ্ছিস কেন? এ্যাই বনি কি হয়েছে রে?"

বনি টুকাইকে তুলবে, না পিউকে, নাকি মায়ের কথার উত্তর দেবে, সম্পূর্ণ গুলিয়ে গেছে ওর। এতক্ষণে মায়ের চীৎকারে ভয় পেয়ে টুকাই ভ্যাঁ করে কেঁদে উঠেছে। ওর কান্নায় বনি তাড়াতাড়ি এগিয়ে ছেলেকে কোলে নিতে নিতে উত্তর দেয়, "আর বোলো না মা, পড়েছে ধপাস করে। বললে একটা কথা শোনে না। বললাম আস্তে.... কি হয়েছে টুকাইসোনা, ব্যথা লেগেছে? কোথায় লেগেছে?"

টুকাই মাথা নেড়ে ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলে, "মাম, মাম পড়ে গেছে। আমি ফেলিনি। মাম এমনিই পড়ে গেছে।"

- "হ্যাঁ মাম তো পড়ে গেছেই। তোমার কোথায় লেগেছে?"

মণিকাও আবার বলে, "কি রে কার ব্যথা লাগলো আবার?"

- "লাগেনি মা, ঠিক আছে ওরা।" বনি মাকে আশ্বস্ত করে। 

তার মধ্যেই ঘর থেকে বেরিয়ে এসে মিলি পিউকে বলে, "একি তুমি পড়ে গেলে কি করে?"

পিউর চীৎকার শুনেই রনি ছিটকে সরে গেছিল। কিন্তু কি করবে মাথা কাজ করছিল না দুজনেরই। মিলি ভয়ে চোখ গোল গোল করে ফেলেছে। রনি গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। তার মধ্যে টুকাইয়ের কান্না আর বনির কথাগুলো শুনে মিলি আর দাঁড়ায় না, বেরিয়ে এসেছে। 

ওর প্রশ্নে পিউ প্রথমে বলতে গেছিল, "তোদের ঘরে আড়ি পাততে দিচ্ছিল না ব্যাগড়ামাস্টারটা। তাও যাচ্ছিলাম। ওটার অভিশাপেই পড়ে গেছি।"

সে তো আর বলা যায় না। তাই খিঁচিয়ে ওঠে, "আরে ধরে তোল না, আগে দেখি হাত পা গুলো সব ভেঙে গেছে কিনা।"

হাত পা ভাঙার কথায় মিলি ভীষণ ঘাবড়ে যায়, তুতলে তুতলে বলে, "ভে...ভেঙে গেছে মানে? মানে কি বলছ? খুব ব্য.....ব্যথা করছে?"

- "আর ধুর তুতলি কোথাকার ! হাতটা ধর না। ভে...ভেঙে গেছে? ভেঙচি কাটতে হয় তোকে !" গজগজ করতে করতে পিউ ওঠার চেষ্টা করে। 

ততক্ষণে রনি বেরিয়ে পিউকে তুলেছে। পিউর ধমকে মিলি আরও ব্যোমকে গেছে। 

বনি ওদিকে গজগজ করে, "হাত পা ভাঙবে ওনার ! হুঁহ, জানি না যেন, এখন বকুনি থেকে বাঁচতে........ কোঁৎ"

বনি আরও ঝাড়তে যাচ্ছিল ব‌উকে, পিউও রনির গায়ে ভর দিয়ে আরাম করে দাঁড়িয়ে আকাশপাতাল হাঁ করেছে সবে জোরদার ঝগড়া করতে, বনিকে কোঁৎ করে ঢোঁক গিলে চুপ করে যেতে দেখে ঘাবড়ে যায়। তাড়াতাড়ি মুখ বন্ধ করে বনির চোখ কোনদিকে দেখে পাশে দাঁড়ানো রনির দিকে তাকিয়ে আগের চেয়েও বড় হাঁ করে, তবে এবার শব্দ বেরোয় না মুখে। 

রনির গায়ে শার্ট তো নেইই, গেঞ্জির বুকের কাছে স্পষ্ট সিঁদুরের দাগ। পিউ আর বনির একটা নিঃশব্দ চোখাচোখি হয়, ওতেই দুজনের ভাব‌ও হয়ে যায়। হাসিতে পেট ফেটে যাচ্ছে তখন দুজনেরই। 

এদিকে পিউর চোখমুখ লাল হয়ে গেছে দেখে রনি আরও যত্ন করে আঁকড়ে ধরে, "দাদা চুপ কর, সবকিছু ইয়ার্কি না। এ্যাই বৌদি, কষ্ট হচ্ছে? কোথায় লেগেছে? পায়ে? মিলি দেখোতো কোথায় লেগেছে। আমি ধরছি, ঘরে চলো।"

পিউ মনে মনে বলে, "তুই ছাড় বাছা। তোদের দুটোকে দেখলে আরও হাসি পাচ্ছে। শান্তিতে হাসতেও পারছি না।"

- "আমি ঠিক আছি," মিলি পায়ের কাছে এগিয়ে নিচু হচ্ছে দেখে তিড়িং করে লাফিয়ে উঠে পিউ বলে, "আমার কিছু হয়নি। তুমি কি করছিলে?" রনির পাঁজরে কনুই দিয়ে হালকা গুঁতোও দেয় পিউ। 

রনি হতভম্ব হয়ে পিউকে ছেড়ে দেয়। কি করছিল কি বলবে? এদিকে মিলি এতক্ষণে রনির দিকে তাকিয়েছে। পিউর গুঁতোটাও দেখেছে। পিছনে বনি দাঁড়িয়ে আছে। ওর মনে হচ্ছে দোতলার করিডরে গর্ত খুঁড়ে তার মধ্যে কি লুকোনো যায়? যদি করা যেত, এক্ষুণি তাই করত। 

বনি আর পারে না, হো হো করে হেসে উঠে টুকাইকে কোল থেকে নামিয়ে বলে, "রনি ঘরে যা। আর এখানে থাকিস না ভাই। এ্যাই পিউ, নিচে চলো বলছি।"

রনি সম্পূর্ণ উলটো বোঝে। পিউকে পালটা একটা ঠেলা দিয়ে গলা নামিয়ে দাদাকে বলে, "কি কেস বস? তুমি কি করছিলে যে হঠাৎ টুকাই এসে পড়ে ম্যাডাম পড়ে গেলেন? তুমি গুরু জিনিস !"

বনি, পিউ এমনকি মিলি, তিনজনেই রনির কথায় হাঁ করে ওর মুখের দিকে আর গেঞ্জির দিকে পালা করে তাকায়। হাসবে না কাঁদবে, বুঝতে পারে না। 

চলবে