Jharapata 85 in Bengali Love Stories by Srabanti Ghosh books and stories PDF | ঝরাপাতা - 85

Featured Books
Categories
Share

ঝরাপাতা - 85

ঝরাপাতা 

পর্ব - ৮৫

🌹💞🌹💞🌹💞🌹

নাচ, গান, এ্যাকশনে ভরা একটা রোমান্টিক মিউজিক্যাল ফিল্ম দেখে হল থেকে বেরিয়েছে বন্ধুরা। এবার একটু ঘোরাঘুরি করে ডিনার, পলাশের তরফ থেকে। আপাততঃ ফিল্মের চুলচেরা বিশ্লেষণ আর তাই নিয়ে জোরদার তর্ক চলছে। গলা ফাটিয়ে সমালোচনার ঝড় ব‌ইয়ে দিচ্ছে সবাই। মিলিও আছে সেই দলে। 

পলাশ এসবের বাইরে দাঁড়িয়ে মিলিকে দেখছে মুগ্ধ হয়ে। যখন এল দুপুরবেলা, তখন থেকেই ওকে ছাড়া আর কিছুতেই মন দিতে পারেনি পলাশ। খুব ইচ্ছে ছিল, হলে অদ্রিজার পাশের সিটে বসে। কিন্তু ওকে মাঝখানে নিয়ে বসে পড়ল সুলগ্না আর দোয়েল। দোয়েলের পর বৈশাখী। বৈশাখীর পাশে বসার তো আর ইচ্ছে ছিল না পলাশের। ওখানে বসল অঙ্কুর, শৌর্য। ঋভু, সাগর আর আয়ুষ্মানের সঙ্গে পিছনের রো তে বসল পলাশ। সেখান থেকে একফোঁটাও সিনেমা দেখেনি। মন দিয়ে অদ্রিজাকে দেখেছে। 

পলাশ তাই একটু কনফিউজড। ও ভাবছিল, অদ্রিজা যথেষ্ট হাসিখুশি রয়েছে। বেশ এনজয় করছিল সিনেমা। পাশের বান্ধবীদের সঙ্গে হাসাহাসি, কানাকানিও চলছিল। এর মানে কী? রনির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদে ওকে বেশ খুশিই লাগছে। 

পলাশ উল্লসিত হয়ে উঠছে, তবে কি অদ্রিজা রনির সঙ্গে থাকতে চায় না? বিয়েটা পুরোটাই ওর অপছন্দের‌ই ছিল? শুধু রনি ওকে ছেড়ে চলে যাওয়া, অপমান, এগুলোর জন্য অসুস্থ হয়ে পড়েছিল? তারপর বাড়ির লোক যেমন ওকে ধরে বেঁধে বিয়ে দিয়েছে, তেমন ধরে বেঁধে আবার শ্বশুর বাড়ি পাঠানোর চেষ্টায় ছিল? আর রনিও ওকে ঘরে নেবে না বলে ঝামেলা করে সরে পড়েছে? 

হুম, তাই হবে। আর এবার অদ্রিজাও ভেবে নিয়েছে, রনিকে বাদ দিলেই ও ভালো থাকবে। পলাশ খুব কায়দা করে একটা সি *গা *রে *ট ধরিয়ে বন্ধুদের উপর চোখ বুলিয়ে নেয়। সবাই চা খাচ্ছে আর তর্ক চলছে। দু দলে ভাগ‌ও হয়ে গেছে ওরা। অদ্রিজাও বেশ লাফাচ্ছে তর্কে জিততে। 

কিন্তু ওকে আর তর্ক করতে দিলে হবে না। পলাশের এক্ষুণি ওর সঙ্গে কথা বলতে হবে। ওর মনে এখন রনি নেই। এই সময়েই ওর মনে নিজের নাম লিখে ফেলতে হবে পলাশকে। 

- "শোন তোরা......" বলতে বলতে বন্ধুদের দিকে এগিয়ে মিলির পাশে দাঁড়ানো দোয়েলকে এক ধাক্কা মারে পলাশ। দোয়েলের হাতের চা চলকে পড়ে মিলির শাড়িতে। 

- "এ হে হে, কি হয়ে গেল ! তোর হাতে পড়েনি তো অদ্রিজা? আয় আয় এদিকে আয়, জল দিয়ে ধুয়ে নে।" বন্ধুরা সামলে ওঠার আগেই পলাশ স্টলের সামনের দিকটায় সাজানো মিনারেল ওয়াটারের একটা বোতল তুলে নেয়, "দাদা, এটা নিলাম। একসঙ্গে টাকা দিচ্ছি। অদ্রিজা আয়। দোয়েল ওর চা টা ধর।" মিলির হাত ধরে স্টলের থেকে দূরে ফাঁকায় নিয়ে আসে ও। বোতলের মুখ খুলে জল ঢেলে দেয়। মিলি যতটা পারে শাড়িটা ধুয়ে নেয়। 

- "আর লাগবে না। থ্যাংকস রে। বরং বোতলটা দে, জল খাই।" মিলি হাত বাড়ায়। 

ওর হাতে জলের বোতলটা দিয়ে পলাশ বলে, "থ্যাংকস কিসের? আমিই তো চা ফেললাম। শোন না, একটা কথা ছিল।" একবার পিছনে ফিরে বন্ধুদের দেখে নেয় পলাশ। ওরা সবাই গল্পে মত্ত। 

বোতলটা উঁচু করে গলায় জল ঢেলে মিলি হাসল। পলাশ আবার বন্ধুদের দেখে নিয়ে বোকাটে হেসে মিলির দিকে ফিরে তাকাল।

- "অদ্রিজা, তোর সঙ্গে আমার একটু আলাদা করে কথা আছে। এক কাজ কর, আমার সঙ্গে একটু ওদিকে চল," রাস্তার ওপারের পার্কটা দেখায় পলাশ, "আমার কথাটা শুনে চলে আসবি।"

মিলি পলাশের কী কথা থাকতে পারে, ভাবার চেষ্টা করে। একবার ভাবে, আজ পর্যন্ত পলাশের যত সিরিয়াস কথা, কাজ, সব অত্যন্ত ভুল কাজ ছিল। ওকে পাত্তা দেওয়ার কোনো দরকার আছে? 

হঠাৎ মনে হয়, পলাশের যত পাগলামির ফল ওকেই ভুগতে হয়েছে। এবারও যদি পলাশ কোনো উদ্ভট প্ল্যান বানিয়ে থাকে, সেটা আগেভাগে শুনে নেওয়াই ভালো হবে। চাই কি পলাশকে থামাতে পারবে বা আগাম সতর্কতা নিতে পারবে। 

তখনই সাগর ডাকে, "তোর হয়েছে অদ্রিজা? বৃষ্টি আসবে মনে হচ্ছে। চল আমরা মলের ভিতরেই চলে যাই। ওখানেই ঘুরি। আরও পরে খাব?"

- "তোরা যা, আমি অদ্রিজাকে নিয়ে আসছি।" পলাশ বন্ধুদের হাত নাড়ে। 

- "শাড়ির দাগ ওঠেনি তোর?" অঙ্কুর এগিয়ে আসে। 

- "দাগ উঠেছে। আর বাড়ি গিয়ে কেচে ফেললে ঠিক হয়ে যাবে। তোরা যা, আমি আসছি।" মিলি সহজভাবে বলতে অঙ্কুর‌ও বন্ধুদের সঙ্গে চলে যায়। 

🌹💞🌹🌹💞🌹

চারপাশ ভুলে চীৎকার করে ওঠে মিলি, "তুই কি পাগল, নাকি আমাকে অপমান করছিস?"

- "চীৎকার করিস না অদ্রিজা। সবাই দেখছে। আমি......."

এবার মিলির হুঁশ হয়। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আছে ওরা। ডানদিকে বিরাট শপিং মল। আরেকটু এগোলে বাস স্ট্যান্ড। ছোট ছোট দোকানগুলো তো আছেই। লোকজনের যাতায়াত রয়েছে তাই। 

এবার গলা নামিয়ে বলে, ''আস্তে কথা বললে কী হবে? তোকে বন্ধু ভাবি, তোর হয়ে আমি প্রিন্সিপাল স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। রনিকে তোর হয়ে বুঝিয়েছি। আজ ওকে কি বলব, বলতে পারিস?"

- "অদ্রিজা, তুই ভুল করছিস। আমি তোকে ভালোবাসি, সেটাই বলেছি....."

- "খবরদার পলাশ ! আমি তোকে বারণ করছি। আর কখনো এইসব কথা আমাকে বলতে আসবি না।" মিলি হাত তুলে চাপাগলায় ধমকে ওঠে, "তুই খুব ভালো করে জানিস, আমার বিয়ে হয়ে গেছে, তাকে আমি ভালোবাসি, সে আমাকে ভালোবাসে। তারপর তুই আমার সম্পর্কে এসব ভাবলিই বা কী করে, আমাকে বললিই বা কী করে?"

- "তোর বিয়েটা কোনো বিয়ে হল?" পলাশের কথার মাঝখানেই বিদ্যুৎ চমকায়, তারপর গুড়গুড় করে আকাশ ডেকে ওঠে। মিলি ভয়ে কেঁপে ওঠে। পলাশ থামে না, ও বলেই যায়, "ঐ রনি তোকে জন্মে বাড়িতে ঢুকতে দেবে? সবার সামনে স্বীকার করবে তুই ওর ব‌উ?"

মিলি চুপ করে থাকে। এসব প্রশ্নের উত্তর কাউকে দেওয়া সম্ভব নয় ওর পক্ষে। রনির সঙ্গে ওর সম্পর্ক এমন অদ্ভুত, মুখে বলে কাউকে বোঝানো সম্ভব নয়। 

- "কী রে, এবার চুপ কেন?" পলাশ বুঝেছে ওর উত্তর নেই। 

মিলি ওর চোখের সামনে আয়না ধরে, ও বুঝে গেছে, মুখ না খুললে পলাশকে থামানো অসম্ভব, "আমি আজকাল রনির বাড়িতেই থাকি। ওর মা অসুস্থ হতে অনুষ্ঠানটা পিছিয়ে গেছে, কিন্তু কাকিমা অসুস্থ বলে আমাকে বাড়িতে এনে রেখেছেন। দু তারিখ অনুষ্ঠান, সবাইকে নেমন্তন্ন করতাম। থাকগে, ওদের ফোনে বলে দেব।" মিলি গটগট করে বাসস্ট্যান্ডের দিকে পা চালায়। 

- অদ্রিজা, শোন, আমি...... আমার কথাটা শোন....."

আগুনঝরা চোখে ফিরে তাকায় মিলি, "আর একটাও কথা না। তোকে বন্ধু ভাবি ভাবতেই ঘেন্না করছে। আমার পিছনে আসবি না, খবরদার।"

বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়িয়েছে মিলি। পলাশ ভয়ে থেমে গেছে, তবে চোখ মিলির দিকে। অবাক হয়ে দেখে, রনি বাইক নিয়ে ওর পাশে এসে থামল। 

চলবে