---
Chapter 1: নতুন শহর, অচেনা শুরু
ট্রেনটা ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্মে ঢুকতেই আরোহী জানালার পাশে বসে থাকা অবস্থায় বাইরে তাকিয়ে রইল।
নতুন শহর… নতুন জীবন… আর একদম নতুন একটা শুরু।
তার হাতের মুঠোয় ধরা ছিল একটা ছোট্ট ডায়েরি—
যেখানে পুরোনো শহরের স্মৃতিগুলো এখনও জীবন্ত।
কিছু নাম, কিছু কথা, কিছু অসম্পূর্ণ অনুভূতি…
যেগুলো সে চাইলেও ভুলতে পারে না।
ট্রেন থামতেই চারপাশে হঠাৎ করেই একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হলো—
মানুষের ভিড়, হকারদের আওয়াজ, ট্রলি টানার শব্দ…
সবকিছু একসাথে মিশে যেন একটা অচেনা কোলাহল।
আরোহী ধীরে ধীরে নামল।
তার চোখে স্পষ্ট একটা ভয় আর অনিশ্চয়তা—
“এই শহরটা কি আমাকে গ্রহণ করবে…?”
---
কলেজের প্রথম দিন।
বড় একটা গেট, তার ওপর কলেজের নাম লেখা।
চারপাশে অনেক ছাত্রছাত্রী—
কেউ বন্ধুদের সাথে হেসে কথা বলছে,
কেউ ফোনে ব্যস্ত,
আর কেউ কেউ ঠিক তার মতোই একটু চুপচাপ দাঁড়িয়ে।
আরোহী এক কোণে দাঁড়িয়ে চারপাশটা দেখছিল।
তার মনে হচ্ছিল—
সে যেন এই জায়গাটার সাথে একদমই মানানসই না।
“Excuse me, তুমি কি first year?”
হঠাৎ পেছন থেকে একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এল।
আরোহী একটু চমকে পেছনে ঘুরল।
একটা ছেলে দাঁড়িয়ে—
হালকা হাসি, চোখে একটু দুষ্টুমি, আর একটা অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস।
“হ্যাঁ…” আরোহী আস্তে করে বলল।
ছেলেটা হালকা হাসল—
“Lost লাগছে তোমাকে।”
আরোহী একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল।
“না… মানে… একটু…”
ছেলেটা মাথা নেড়ে বলল—
“Follow me. আমিও first year… আর honestly, আমিও হারিয়ে গেছি 😅”
আরোহীর অজান্তেই তার ঠোঁটে একটু হাসি ফুটে উঠল।
এই শহরে, এই অচেনা ভিড়ে—
হয়তো সে একা না।
---
ক্লাসরুমে ঢুকতেই চারপাশে হালকা গুঞ্জন।
নতুন মুখ, নতুন গল্প…
আর ঠিক সেই সময়—
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটা ছেলের দিকে আরোহীর চোখ আটকে গেল।
সে চুপচাপ দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,
চোখে এক ধরনের নির্লিপ্ততা…
মনে হচ্ছে যেন সে কারো সাথেই মিশতে চায় না।
তাদের চোখ এক মুহূর্তের জন্য মিলল।
আরোহীর বুকের ভিতর হঠাৎ করেই অদ্ভুত একটা অনুভূতি হলো—
অচেনা… কিন্তু কেন জানি খুব পরিচিত লাগছে।
ছেলেটা চোখ সরিয়ে নিল।
কিন্তু সেই এক সেকেন্ড—
কিছু একটা বদলে দিল।
---
সেদিনের পর থেকেই—
এই অচেনা শহরটা ধীরে ধীরে তার জীবনের অংশ হয়ে উঠতে শুরু করল…
আর সেই অচেনা মুখগুলোর ভিড়ে—
কিছু মানুষ হয়ে উঠল তার নিজের গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
---কলেজের প্রথম দিনটা শেষ হলেও, আরোহীর মনে সেই অদ্ভুত অনুভূতিটা থেকেই গেল।
নতুন জায়গা… নতুন মানুষ… কিন্তু কেন যেন তার ভিতরটা এখনও ফাঁকা লাগছে।
হোস্টেলের ছোট্ট রুমে বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল সে।
শহরের আলো, গাড়ির শব্দ, দূরের কোলাহল—
সবকিছুই যেন তার একাকীত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলছিল।
হাতের ডায়েরিটা খুলে সে লিখতে শুরু করল—
“নতুন শহরে এসেছি…
কিন্তু নিজেকে এখনও খুঁজে পাইনি।
সবকিছুই আছে, তবুও যেন কিছু নেই…”
হঠাৎ দরজায় নক হলো।
“এই! নতুন এসেছো নাকি?”
একটা চনমনে কণ্ঠস্বর।
দরজা খুলতেই সামনে একটা মেয়ে—
চোখে দুষ্টুমি, মুখে বড়সড় হাসি।
“আমি মীনা! তোমার পাশের রুমে থাকি 😆”
আরোহী একটু অবাক হলেও হালকা হেসে বলল,
“আমি আরোহী…”
মীনা একদম দেরি না করে ভিতরে ঢুকে পড়ল—
“চলো, ক্যান্টিনে যাই! একা বসে থেকে কি হবে?”
আরোহী প্রথমে একটু দ্বিধায় পড়লেও,
শেষমেশ রাজি হয়ে গেল।
হয়তো… একটা নতুন শুরু দরকার।
ক্যান্টিনের ভিড়, হাসাহাসি, চায়ের গন্ধ—
সবকিছুই যেন একটু উষ্ণ লাগছিল।
মীনা একটানা কথা বলেই চলেছে—
“তুমি এত চুপচাপ কেন? আরে, কলেজ লাইফ মানে enjoy!”
আরোহী হালকা হেসে বলল,
“আমি একটু… quiet টাইপের…”
“ঠিক আছে, আমি কথা বলব—তুমি শুনবে 😌”
দুজনেই হেসে উঠল।
ঠিক তখনই—
হঠাৎ বাইরে বৃষ্টি শুরু হলো। 🌧️
হালকা, তারপর ধীরে ধীরে জোরে।
আরোহী জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে রইল।
তার মনে পড়ছিল পুরোনো কিছু মুহূর্ত…
যেগুলো সে ভুলতে চাইলেও পারে না।
হঠাৎ পাশে একটা কণ্ঠ—
“তুমি বৃষ্টি পছন্দ করো?”
আরোহী ঘুরে তাকাল।
সে…
সেই ছেলেটা।
যাকে সে ক্লাসরুমে দেখেছিল।
চোখে সেই একই নির্লিপ্ততা…
কিন্তু আজ একটু ক্লান্ত লাগছে তাকে।
“হ্যাঁ…” আরোহী আস্তে বলল,
“বৃষ্টি অনেক কিছু মনে করিয়ে দেয়…”
ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
তারপর হালকা হাসল—
“Sometimes… memories are better than reality.”
আরোহী তার দিকে তাকিয়ে রইল।
এই কথাটার মধ্যে লুকিয়ে ছিল অনেক না বলা গল্প।
“আমি রোহিত।”
সে হাত বাড়াল।
আরোহী একটু থেমে, তারপর হাতটা ধরল—
“আরোহী…”
একটা সাধারণ পরিচয়…
কিন্তু অদ্ভুতভাবে special।
বৃষ্টির ফোঁটাগুলো জানালায় পড়ছিল,
আর সেই মুহূর্তে—
দুজন অচেনা মানুষ,
ধীরে ধীরে একে অপরের গল্পের অংশ হয়ে উঠছিল।
সেদিন রাতে আরোহী ডায়েরিতে লিখল—
“আজ…
এই শহরটা একটু কম অচেনা লাগছে।”