রবিবার,,,,,,,,,,,,,,,,
23/04/2019,,,,,,,,
"জাফির খান আরিজ, এর একমাএ পুএ এড্রিয়ান খান জেহেফিল এর সঙ্গে ১ কোটি ১ টাকার বিনিময়ে আপনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইতে চাচ্ছে আপনি কি এই সম্পর্কে রাজি আছেন, তুমি কি কবুল"
কথা টা শুনেই অষ্টাদশির বুক ধক করে উঠলো। নাম হীন একটা অনুভূতি কাজ করছে। চোখে অশ্রু টলমল করেছে, না জানি এখনি না গোড়িয়ে পড়ে গাল বেয়ে।
সেরাফিনা নোভা— নামটা শুনলেই যেন একটা শান্ত নদীর কথা মনে পড়ে। নিঃশব্দে বয়ে চলা, কারও ক্ষতি না করা, শুধু নিজের মানুষদের ভালোবেসে বাঁচতে চাওয়া একটা মেয়ে। খুব সাধারণ, খুব নরম মনের। পরিবারের প্রথম মেয়ে হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই সে ছিল সবার আদরের, সবার চোখের মণি। বাড়ির প্রতিটা মানুষ তাকে ভালোবাসতো, অন্তত সে তাই বিশ্বাস করত।
সেরাফিনা কখনও কাউকে কষ্ট দিতে শেখেনি। কারও বিপদে সবার আগে পাশে দাঁড়াতো, নিজের কষ্টগুলো হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখত। তার স্বপ্ন ছিল খুব সাধারণ— শান্ত একটা জীবন, নিজের পরিবার, আর মানুষের জন্য কিছু করা।
কিন্তু পৃথিবীটা তার মতো সরল ছিল না।
তার ভালো মন, নরম স্বভাব আর চুপচাপ সহ্য করে যাওয়ার অভ্যাসটাই একসময় সবার কাছে দুর্বলতা হয়ে দাঁড়াল। যাদের আপন ভেবেছিল, তারাই সুযোগ নিতে শুরু করল। কেউ তার বিশ্বাস ভাঙল, কেউ তার আত্মসম্মান নিয়ে খেলল, আবার কেউ তাকে এমন অন্ধকার মুহূর্তের মধ্যে ঠেলে দিল যেখান থেকে ফিরে আসা সহজ নয়।
সেই রাতগুলোতে সেরাফিনা অসহায় হয়ে কাঁদত। নিজের ভাঙা মনটা নিয়ে বারবার প্রশ্ন করত—
“ভালো মানুষ হওয়াটাই কি আমার সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল?”
একটা সময়ের পর কান্নাগুলো থেমে গেল।কারণ মানুষ যখন সীমার বাইরে ভেঙে যায়, তখন সে বদলে যেতে শুরু করে।সেরাফিনা নোভা বদলাতে শুরু করল।তার চোখের কোমলতা ধীরে ধীরে ঠান্ডা কঠোরতায় রূপ নিল। যে মেয়ে আগে সবার জন্য বাঁচতে চাইত, এখন সে নিজের জন্য বাঁচতে শিখল। সে বুঝে গেল, এই পৃথিবীতে দুর্বলদের জন্য করুণা নেই। এখানে টিকে থাকতে হলে শক্ত হতে হয়, এতটাই শক্ত— যেন তোমার নাম শুনলেও মানুষ কেঁপে ওঠে।
সে প্রতিজ্ঞা করল, আর কখনও কাউকে নিজের দুর্বলতা দেখাবে না।যারা তার জীবনটাকে নরকে পরিণত করেছিল, তাদের প্রত্যেককে সে মনে রেখেছে। প্রতিটা অপমান, প্রতিটা চোখের জল, প্রতিটা জঘন্য মুহূর্ত তার ভিতরে আগুন হয়ে জমে আছে।
সেরাফিনা এখন শুধু একটা সাধারণ মেয়ে নয়।সে এমন কিছু হতে চায়, এমন এক শক্তিশালী নাম—যাকে দেখে মানুষ ভয় পাবে, সম্মান করবে, আর বুঝবে—শান্ত মানুষগুলো যখন বদলে যায়, তখন তারা সবচেয়ে ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
সবে তো কলেজে উঠলো বয়স কত হয়েছে বিয়ে করার। তার ইচ্ছা করছে চেঁচিয়ে কান্না করতে আর বলতে "এখন ও পর্যন্ত সেরাফিনা ছেলেটাকে দেখেনে শুধু এতো টুকু জানে যে লোকটা তার বেস্ট ফ্রেন্ড জেনিফার ভাই আর কিছুই জানে নাহ, কাউ কে না জেনে না দেখে কিভাবে বিয়ে করবে"
" তুমি কি কবুল মা"
অষ্টাদশি একবার আসাদুল এর দিকে তাকিয়ে দেখলো । কান্নায় দূধে ফর্সা মুখ লাল বর্ণের ধারণ করেছে। চোখ ফুলে আছে, ঠোঁট তিতির করে কাঁপছে সাথে শরীর ও। মেয়ের এই অবস্থা দেখে আসাদুল এর ও বুক ধক করে উঠলো। আসাদুল মেয়র দিকে সরে এলো। "আব্বু তুমি তো বলেছিলে ভালো করে পড়ালেখা করলে বিয়ে দেবে নাহ, জেনিফার ও আব্বু আম্মু কই ওর বিয়ে দিল নাহ তাহলে তুমি কেন আমার বিয়ে দিচ্ছো আব্বু" কথাটা বলে আবার ফুপিয়ে উঠলো।
পাশে থেকে আবার ডাক শোনা গেলো"তুমি কি কবুল" আসাদুল মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল একটা চুম্বন ও করলো কপালে। "এক দিন না এক দিন তো বিয়ে করা লাগবে মা, তাছাড়া তোমাকে বিয়ে দিচ্ছি ঠিকই, তবে তুমি তোমার পড়াশোনা পুড়ো করতে পারবো তো, ততোদিন তো আমাদের কাছে থাকবে মা কবুল বলে দাও আম্মা" সবাই মেয়ে টা কে বোঝাতে থাকে কবুল বলার জন্য। মায়েটা শেষ মেষ মেনে ও নেয়।
যখনই সাইন করতে যাবে, পাশে থেকে একটা হাত সেরাফিনা হাতের কবজি ধরলো। "তুমি যদি এখন বিয়ে না করতে চাও কোনো ব্যাপার নাহ, কিন্তুু তোমার কথা দিতে হবে যে পড়ে তুমি আমাকেই বিয়ে করবে"
কথাটা শুনে সেরাফিনা চোখ লাল হয়ে গেল, শরীর তো এমনিতেই কাঁপছে,সাথে মেজাজ ও হাড়ালো সেরাফিনা,পাশের একটা টেবিলে ওপড়ে থাকা ছুড়ি টার দিকে তাকালো তখনই তুলে নিলো হাতে,আর সঙ্গে সঙ্গে ধাড়ালো ছুড়িটা লোকটার বুকে গুজে দিলো, মুখ থেকে রক্ত বেড়িয়ে এলো। ছুড়িটা এপার থেকে ওপার হয়ে গেল। হঠাৎ আক্রমণে জেহেফিল ও কিছু বুঝতে পাড়লো নাহ। তখনই শক্তিশালী দেহটা মাটিতে লুটিয়ে পড়লো, একে একে সবাই তার কাছে চলে গেলো। দেওয়ালে রক্ত ছিটে লেগে আছে।আহত জেহেফিল এর চোখ সেরাফিনা তেই আবদ্ধ। সবাই ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে জেহেফিল কে নিয়ে, বুক থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেড়িয়ে যাচ্ছা।
সেরাফিনা ছুড়ি হাতে নিয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে, ছুড়ি বেয়ে টপ টপ করে রক্ত পড়ছে। তার শান্ত মুখে অদ্ভুত এক হাসি যেন যুদ্ধে জয়ী হয়েছে।
To Be Continue 😅
Happy Reading ☺
https://www.facebook.com/share/14cgmMs45E7/
-------------------------
💀 পাঠক/পাঠিকার জন্য বিশেষ সতর্কতা 💀
এই গল্পের পাতায় প্রবেশ করার আগে কয়েকটি কথা মনে রাখুন—
✨ এটি রোমান্টিক, সাসপেন্স, থ্রিলার, ফানি ও আবেগময় গল্পের এক অনন্য মিশ্রণ। এখানে ভালোবাসা, রহস্য, বিপদ, হাসি আর চোখে জল—সবই আছে।
⚡ কিন্তু সতর্ক! গল্পটিতে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা ও কিছু কঠোর ভাষা রয়েছে। সংবেদনশীল পাঠকদের সাবধানতার সাথে পড়ার অনুরোধ।
👑 গল্পের কেন্দ্রে আছেন একজন শক্তিশালী নেতা, একজন ক্ষমতাবান কোম্পানির বস এবং এক উন্মাদ প্রেমিক। তাদের জীবন, ক্ষমতা, প্রতিশোধ আর ভালোবাসা—সবই গল্পের মূল চালিকাশক্তি।
🌀 প্রতিটি চরিত্রের গোপন রহস্য ও অতীত ধীরে ধীরে প্রকাশ পাবে, তাই চরিত্রগুলো মনে রাখতে ভুলবেন না।
⚠️ মনে রাখুন, গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তব জীবনের কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার সঙ্গে মিল থাকলে, তা কেবল কাকতালীয়।
📖 এখন আপনি প্রস্তুত হলে, গল্পের অন্ধকার ও আলো মিশ্রিত জগতে প্রবেশ করুন। পাঠকের দায়িত্বে পড়া শুরু করুন।