Jharapata 80 in Bengali Love Stories by Srabanti Ghosh books and stories PDF | ঝরাপাতা - 80

Featured Books
Categories
Share

ঝরাপাতা - 80

ঝরাপাতা 

পর্ব - ৮০

🌹💞🌹💞🌹💞🌹

কোনোমতে একটু সামলে নিতেই বনি হো হো করে হেসে ফেলে। মিলি থাকলেও আর চেপে থাকা সম্ভব নয় ওর পক্ষে। সঙ্গে পিউও শুরু করতেই বনি ব‌উ আর ছেলের হাত ধরে টেনে নিয়ে চলে আসে। মিলি লজ্জায় কি করবে ভেবে না পেয়ে ওদের পিছনেই যাওয়া ঠিক হবে ভেবে হাঁটা দেয়। 

রনি ভুলভাল যা ভেবেছে, তাতে ওর‌ও হাসি পাচ্ছে। এখন দাদারা চলে যাচ্ছে দেখে ও মিলির হাত ধরে নিজের ঘরের দিকে হাঁটা দেয়। মিলি তাড়াতাড়ি ওর হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে চাপাগলায় বলে, "ছাড়ো এখন। একেই কি কাণ্ড !"

- "আরে সেইজন্যই তো," ততক্ষণে রনি ওকে নিয়ে ঘরে চলে এসেছে, "ওরা এখন আর কিছু বলতে পারবে না। শোনো না," মিলির কোমর জড়িয়ে ধরে রনি কিছু একটা প্ল্যান করতে যায়।

মিলি আঁতকে উঠে ওকে ঠেলে দেয়, "তুমি জানো কি করেছ? জামাটা পরে বেরোতে পারোনি?"

- "মানে?"

- "মানে ওরা আমাদের নিয়ে হাসছিল। আরও কত হাসবে দেখো এরপর।" রনির হাত ধরে ওকে দেওয়ালে লাগানো আয়নাটার দিক ঘুরিয়ে দেয় মিলি। 

রনি তখন‌ও সেদিকে তাকায়নি। আবার মিলির দিকে ঘুরে বলে, "কি হয়েছে বলো না?"

- "বলার কিছু বাকি রেখেছ? ওরা আমাদের নিয়ে হাসছে, তুমি তার মধ্যে....." আঙ্গুল তুলে মিলি আবার আয়নাটা দেখায়। 

আয়নায় নিজের ছায়া দেখেই এবার রনির আঁতকে ওঠার পালা। দাদা বৌদি দুজনেই যে ওর দিকে তাকিয়ে চুপ করে গেছিল, সেটা এবার মনে পড়ে। 

ভ্যাবলার মতো মিলির দিকে তাকাতেই মিলি রাগে মুখ ঘোরায়, "কি করেছ বুঝেছ? আমি এখন কি করব?"

- "তুমি কি করবে মানে? এই দাগটা আমি লাগিয়েছি?" রনি খিঁচিয়ে ওঠে নিজের আসন্ন বিপদের কথা ভেবে। ওহ, দাদা আর বৌদি যে কি করবে, বিশেষ করে বৌদি। অবশ্য করার‌ই কথা। এরকম দু চারবার ওরা ধরা পড়েছে রনির সামনে। তখন কম লেগপুল করেছে ও? সেখানে আজ নিজেই ওদের সুবিধা করে দিয়েছে। 

- "আমি লাগিয়েছি দাগটা? আমাকে তুমি.... তুমি জড়িয়ে ধরলে কেন? জামাটা পরে বেরোতে পারেনি, আবার ওখানে বেশি কথা বলতে গেছে। আর একটাও কথা বলবে না।" দুপদুপ করে মিলি বেরিয়ে আসে। ওর ক্রাইম পার্টনার মাছি গেলা হাঁ করা অবস্থায় ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে। 

বনি আর পিউ নিচে নামতে সবে মণিকা ওদের লেগেছে কিনা জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল, দুজন ছুটে এসে মায়ের দুদিকে বসে গড়াগড়ি দিয়ে হাসতে থাকে। পিউ প্রায় মণিকার কোলে শুয়ে পড়েছে, বনি মায়ের পিঠে হেলান দিয়ে পড়ে আছে। টুকাই জুলজুল করে দুজনকে দেখছে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে। 

মণিকা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, "কি হয়েছে বল তো? এত হাসি....."

- "চুপ চুপ চুপ," বনি কোনোমতে হাসি সামলে মুখে আঙ্গুল রেখে ইশারা করে, "একদম চুপ, ওরা যেন না শোনে। দুজনের যা......" নিজেই আবার হেসে ফেলে। 

মণিকা ভুরু কুঁচকে তাকায়, একটু একটু বুঝতেই পারছে। নিজের‌ই ছেলে বৌ, এরাও তাই, সম্পর্কের খাতিরে জিজ্ঞেস‌ও করতে পারছে না। শেষে পিউকে বলেই বসে, "না হেসে বল না ছাতা।"

- "হয়েছে তোমার ছাতার মাথা। মামনি, আর লোকটোক খাওয়াতে হবে না। তুমি আর কি লোক জানিয়ে বৌ আনবে আর কি বা বিয়ের বাকি থাকা নিয়মকানুন করব বলে আমার আশা ছিল।"

- "আচ্ছা আচ্ছা, হয়েছে থাক। ওদের অত পিছনে লাগতে হবে না।" মণিকা তাড়াতাড়ি চাপা দেয়। দুটোর ভাব হয়েছে ভেবেই ও খুশি, আর জেনে কাজ নেই। 

বনি ততক্ষণে উঠে বসেছে, "মা, মিলিকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলে, বেস্ট হয়েছে। কাল ওর বাবা মায়ের সঙ্গে কথা বলো, আজ আটাশে জানুয়ারি, তিরিশ তারিখে আর সব করার উপায় নেই, সবাই আসতে পারবে না একদিনের মধ্যে। কবে সব হবে দিন ঠিক করো। ততদিন ওকে বাড়ি পাঠিয়ে দাও, এখানে আর রাখতে হবে না।"

- "এ্যাই না, আমি কিছু দেখতে পেলাম না, এখন মিলিকে বাড়ি পাঠাবে না।" পিউ লাফিয়ে ওঠে।

- "তোমার আর দেখে কাজ নেই, এরপর সলিড একটা কেলেঙ্কারি করবে দুটোতেই।" পিউর পিঠে ঠাঁই করে একটা চাপড় লাগিয়ে বনি উঠে পড়ে, "খেতে দাও। ঐ হতভাগাকে ডাকো, আমি পারব না।" হাসতে হাসতে বনি জামাটার প্যান্টের ভিতরে গোঁজা অংশটা টেনে তুলতে তুলতে চলে যায়। 

মিলি নেমে এসে চুপচাপ মণিকার ঘরে ঢুকে বসে থাকে। কি করবে এখন? কি কাণ্ড হল? মণিকা কাছে এসে বসে মাথায় হাত রেখে বলে, "মিলি, একটা কথা বলি? তুই এভাবে এ বাড়িতে থাকলে ভালো দেখায় না। আমার ঘরে আসবি, বসবি, গল্প করবি, মানে পিউয়ের মতো। তবে তোর একটা নিজের ঘর থাকবে তো। পিউ যেমন থাকে।"

মিলি হঠাৎ এসব কথায় হাঁ করে চেয়ে থাকে। ওরা যে কাকিমার সঙ্গে হাসাহাসি করেছে, সেটা টের পাচ্ছিল। জোরদার লেগপুলের জন্যই তৈরি ছিল, সেখানে এত সিরিয়াস কথা? 

মণিকা জাঁকিয়ে বসে ওর পাশে, "তোদের যে বিয়ের সব নিয়মকানুন করা হয়নি তখন, তারপর একটু ঝামেলাও হয়ে গেছে। তাই রনির ঘরে থাকতে পাঠাইনি। কিন্তু আর কতদিন? এবার সেগুলো সেরে ফেলি? কি রে তোর আপত্তি নেই তো? তুই হ্যাঁ বললে, আমি তোর বাবার সঙ্গে কথা বলব।"

মিলি চুপচাপ নিজের হাতের নখ দেখছে। পিউ ঢুকতে ঢুকতে ওদের কথা শুনছিল। দুই ভাইকে খেতে দিয়ে এসেছে। এখন মিলির অন্যপাশে বসে ওকে জড়িয়ে ধরে বলে, "চুপ করে থাকলে হবে না। মুখে হ্যাঁ বল।"

ঢোঁক গিলে মিলি বলে, "আমি কি বলব? রনিদা তো......."

- "তোমার রনিদাকে কি বলব? তার তো পাগলা খাবি নাকি না আঁচাবো কোথায়?" এতক্ষণ চেপে রাখা হাসিটা ভসভসিয়ে উঠে আসে পিউর পেট থেকে। 

মিলিকে লজ্জা থেকে বাঁচাতে মণিকা তাড়াতাড়ি বলে, "ঠিক আছে ঠিক আছে, আমি কথা বলব। তুই এবার রনিকে দাদা বলাটা বন্ধ কর। আমাকেও আর কাকিমা বলবি না। পিউকে দিদি বলবি। সব ঠিক করে নে। আর যেন কোনো গোলমাল না থাকে, বিয়ের পর যা যেরকম হওয়ার, আমি সব তেমন চাই।" ইচ্ছে করেই একটু গম্ভীর ভাব দেখায় মণিকা। 

পিউ হাত ধরে মিলিকে নিয়ে যায়, "চল চল, আবার খাবো থেকে মোমো এনেছি। একবার গরম করেছি, আবার ঠান্ডা হয়ে গেলে আর খাওয়া যাবে না।"

দাদার ডাকাডাকিতে এসে মাথা নিচু করে খাওয়ার টেবিলে বসেছিল রনি। যা নয় তাই বলে বলে ঠুকে যাচ্ছিল বনি। সেখানে মিলিকে বৌদি আদর করে জড়িয়ে ধরে নিয়ে আসছে, একই অপরাধে ধরা পড়ার পর‌ও, দেখেই মিলির ধমক আর দোষারোপ‌ও মনে পড়ে মাথা গরম হয়ে গেল রনির। 

চলবে