Marks by sin - 10 in Bengali Love Stories by Anindita Basak books and stories PDF | মার্কস বাই সিন - 10

Featured Books
Categories
Share

মার্কস বাই সিন - 10

মার্কস বাই সিন–১০

এতদিন পর্যন্ত আহানের জীবনটা বেশ স্বাভাবিক আর ছোট ছোট আনন্দে ভরা ছিল। কিন্তু মাধ্যমিকের বছরটা আসতেই সেই ছন্দটা আচমকা ভেঙে যায়।

পরীক্ষার ঠিক আগে খবরটা আসে—আহানের বাবা মিশনে শহিদ হয়েছেন। এবং খবরটা শোনার মুহূর্তে আহান ঠিক কিভাবে রিয়্যাক্ট করবে, তাই ওর কিছুই বোধগম্য হয় না। 

শুধু মনে হচ্ছিল যেন ওর চারপাশের শব্দগুলো হঠাৎ করেই বড্ড দূরে সরে গেছে। সে দেখতে পাচ্ছিল মানুষজনের মুখ নড়ছিল, কিন্তু কোনো আওয়াজ যেন তার কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছিল না।

সেদিনই প্রথমবার আহান সত্যি একা হয়ে যায়। মাকে সে কোনোদিনই নিজের কাছে পায়নি…আর যাকে ধরে বাঁচতে শিখেছিল, তাকেও হারিয়ে ফেলল।

সেই দিনের পর থেকে জীবনের ওপর একটা গভীর রাগ জমে ওঠে তার ভেতরে।

সেদিনের পর থেকেই আহানের কাছে ওর দাদাই ছিল সব। আশীষ সেনগুপ্ত, একজন সৎ, নীতিবান উকিল। পরে ওর বিয়ে হয়, আসে মায়া সেনগুপ্ত, ওর আদরের বউদি। তারপর আসে ওদের ছোট্ট দেবাংশ, ওর ভাইপো—যে এখন ক্লাস ফোরে পড়ে।

এভাবেই কেটে গেছে আটটা বছর। আহান এখন শহরের সেরা অফিসারদের একজন—সৎ, তীক্ষ্ণ, নিয়মে চলে। রাগ করে, কিন্তু অন্যায় সহ্য করে না। ভালোবাসে, কিন্তু সেটা খুব গভীর ও নীরবভাবে। এই হল আমাদের আহানের পরিচয়। এবার কার্লের সাথে তার কিভাবে পরিচয় হয় সেটাই দেখার। আগুন আর বরফ পাশাপাশি রাখলে তারা কি বিক্রিয়া দেখাবে এখন সেটাই জানা যাবে আস্তে আস্তে, যত গল্প এগোবে।

এখন গভীর রাত। একটা ছেলে নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য প্রাণ পনে দৌড়াচ্ছে গাঢ় অন্ধকারে ঘেরা এক গভীর জঙ্গলের ভেতর দিয়ে। তার পাগুলো যেন মাটি ছুঁয়ে উড়ে যাচ্ছে।

ঘন নিস্তব্ধতা ভেদ করে শুধু শোনা যাচ্ছে তার হাঁপানোর শব্দ আর শুকনো পাতার ওপর পায়ের আঘাত। মাঝে মধ্যে ছেলেটা ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকাচ্ছে—কিন্তু চারপাশে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। তবুও তার পা এক সেকেন্ডের জন্য‌ও থামছে না। কারণ সে জানে এখন থামা মানেই নিশ্চিত মৃত্যু।

ছেলেটার হাতে পুলিশের হ্যান্ডকাফ। বামদিকের কপাল ফেটে গেছে—সেখান থেকে অনবরত রক্ত চুঁয়ে পড়ে তার গাল, গলা পেরিয়ে জামার সামনের অংশ ভিজিয়ে ফেলেছে। দূরে কোথাও পুলিশের সাইরেন বাজছে—তীব্র, একটানা।

সে দৌড়ানোর গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। হাঁ করে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে থাকে। পা যেন আর চলছে না তার। তার চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে ক্লান্তিতে।

হঠাৎ— ট্যাং!

একটা ধাতব আওয়াজ। সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটা হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে যায় মাটিতে। চারপাশটা ধীরে ধীরে ভিজে ওঠে তার লাল রক্তে, বাতাসে বারুদের গন্ধ ভেসে বেড়ায় আর পিছন থেকে ভেসে আসে একটা গম্ভীর কণ্ঠ— "চেকমেট।"

আহান একটা একতলা বাড়ির সামনে এসে বাইক থামায়। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে জিভ কাটে।

"ইস্... অনেকটাই দেরি হয়ে গেল।" নিজের মনে বিড়বিড় করে বলে বাইক থেকে নেমে দাঁড়ায় সে‌ তারপর বাইক পার্ক করে সে লোহার গেট খুলে মেন গেটের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বেল বাজায়।

মিনিট তিনেকের মধ্যে একজন লোক এসে দরজা খুলে দেয়। আহান লোকটির মুখের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসে তারপর বলে "ঘন্টু কি খুব রেগে আছে আমার ওপর? কোথায় ও? আসলে রাস্তায় এতো জ্যাম ছিল......."

সেই লোকটা হাসে, তারপর আহানকে ভেতরে আসার জন্য ইশারা করে বলে "রাগ হবে না। তোর ভাইপো তোর জন্য সকাল থেকে অপেক্ষা করছে। আর তুই দেখ কতো দেরি করে ফিরলি। তখন থেকে ঘড়ি দেখে যাচ্ছে। আর 'কাকু কখন আসবে, দেরি হয়ে যাচ্ছে আসেনি কেন?' প্রশ্ন করে করে আমাদের মাথা খারাপ করে দিচ্ছে।"

আহান হেলমেট টেবিলে রেখে জুতো খুলে ভিতরে ঢোকে। "সরি রে ভাই, তুই জানিসই তো, এখন আমি কেমন ব্যস্ত! তাড়াতাড়ি বেরতো চেয়েও দেরি হয়ে গেল।"

"আরে ঠিক আছে, আমি জানি। যা একটু ফ্রেশ হয়ে নে। তারপর ছাদে চলে আয়। তোর ব‌উদি কি সুন্দর সাজিয়েছে দেখবি আয় ছাদটাকে।"

"আরে না না, এখন ছাদেই যাই চল। আগে আমার চ্যাম্পের সাথে দেখা করি, তারপর বাকি সব।"

"ঠিক আছে, যা বলিস। আর আজ একজন স্পেশাল গেস্ট এসেছে।"

"গেস্ট?" আহান কৌতুহল হয়ে প্রশ্ন করে। 

"ছাদে আছে। চল, উপরে গেলেই দেখতে পাবি।"

"আর আমার ভাইপো? সেও ছাদে আছে তো?"

"হ্যাঁ রে বাবা, ওখানেই আছে। জানিস আজ সকাল থেকে আমাদের রিমোটে হাত দিতে দেয়নি। সারাদিন নিউজ চ্যালেনে তোর সব ইন্টারভিউ দেখে যাচ্ছে। ঠিক যেন তোর ছোট ভার্সন!"

আহান হেসে ফেলে। দুই ভাই সিঁড়ি ভেঙে গল্প করতে করতে উপরের দিকে উঠে যেতে থাকে।


চলবে........................

(এই গল্পের পাশাপাশি একটা নতুন স্ট্রেট গল্প আসতে চলেছে। আশা করি আপনাদের সেই গল্পটিও ভালো লাগবে।)