The Fire of Dormant Love - 1 in Bengali Crime Stories by Lamisa Anjum Sk books and stories PDF | সুপ্ত প্রেমের আগুন - 1

Featured Books
Categories
Share

সুপ্ত প্রেমের আগুন - 1

এক সুন্দর সকালের সূচনা।সবে মাত্র 4:00 বাজে। এখনো সূর্যী মামার পুরোপুরি আকার দেখা যায়নি।  সকালের আকাশ যেনো একটু ঘুম ভাঙা মুখে হালকা নীল আর ধূসর মেঘে মোড়ানো। চারপাশ নিস্তব্ধ, শুধু ঝির ঝির করে পড়া বৃষ্টির টুপটাপ শব্দে ভরে উঠছে পরিবেশ। পাতার ওপর বৃষ্টির ফোঁটা জমে মুক্তোর মতো ঝলমল করছে, আর বাতাসে ভেসে আসছে ভিজে মাটির গন্ধ—যা মনকে অদ্ভুত এক শান্তি দিচ্ছে। দূরে কোনো কোনো গাছের পাতায় জমে থাকা পানি নিচে ঝড়ে পড়ে নতুন ছন্দ তৈরি করছে।


       চায়ের কাপ হাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে কেউ হয়তো ভাবছে, “আজকের দিনটা ধীরে, সুন্দরভাবে শুরু হোক।” রাস্তা এখনো ফাঁকা, মাঝে মাঝে দু’একটা ভেজা ছাতা হাতে মানুষ তাড়াহুড়ো করে হেঁটে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ সকালের সূচনা যেনো প্রকৃতি নিজ হাতে সাজিয়ে রাখা এক শান্ত, মায়াময় মুহূর্ত—যেখানে সময়ও যেন একটু থমকে দাঁড়িয়েছে।



       ভোরের আকাশে কুয়াশার চাদর, পাখিরা এখনও ঢুলছে। ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে চারটা বাজিয়ে দিয়েছে। বাড়ি জুড়ে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। নীলিমা চৌধুরী রান্নাঘর গুছিয়ে, চা বসিয়ে, মেয়ের ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালেন। আজ কিন্তু বড় দিন—ঐশীর মেট্রিক পরীক্ষা। এতদিনের রাত জাগা পড়া, নোট বানানো, মাকে নিয়ে অগুনতি ঝগড়া—সব আজকের জন্য।


দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিতেই দেখলেন, ঐশী কম্বলের ভেতর খরগোশের মতো ঘুমাচ্ছে। মুখটা বালিশে গুঁজে রেখেছে যেন কেউ তাকে ধরতে না পারে। নীলিমার ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ফুটল। তিনি হাত দু’টো কোমরে রেখে গলা টেনে বললেন—

“ওই হে ঘুমকাতুরে রাজকুমারী! ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কি অঙ্কের সব ফর্মুলা ডাউনলোড করছিস নাকি? সূর্যদেব বলছে, ঐশী তো নাকি পৃথিবীর সেরা ঘুমকন্যা!”


ভেতর থেকে কোনো উত্তর নেই। তিনি আরও নাটকীয় গলায় বললেন—

“ঐশীইই… শোন মা, চারটা বাজে! আজ কি পরীক্ষার হলে গিয়ে বলবি—‘স্যার, আমি স্বপ্নে সব লিখে ফেলেছি, কপি জমা দিন!’?”


কম্বলের ভেতর হালকা নড়াচড়া। নীলিমা বিছানার পাশে এসে বসলেন, খিলখিল করে হেসে মেয়ের চুলে হাত বুলিয়ে মজা করে বললেন—

“শোন রাজকুমারী, যদি এখন না ওঠিস, আমি কিন্তু আইস ক্রীম খাওয়া বন্ধ করে দেব, তখন কিন্তু তোমার ফেভারিট গুলাবজাম খাওয়াও বন্ধ!”


একটু গুনগুন আওয়াজ ভেসে এল। নীলিমা ভুরু নাচিয়ে আবার বললেন—

“তাড়াতাড়ি না উঠলে আমি কিন্তু তোর সব কলমে কালির বদলে লেবুর রস ঢেলে দেব। লিখতে গেলে খসখস শব্দ হবে আর গন্ধ আসবে কাঁচা লেবুর!”



বাইরে ঝিরঝিরে বৃষ্টি, হাওয়ায় ভিজে মাটির ঘ্রাণ। নীলিমা চৌধুরী দাঁড়িয়ে ভাবছেন,

“এই মেয়েটাকে না ডাকলে হয় না… কিন্তু ডাকলেই আবার ভিমরুলের চাকে কাঠি দেওয়ার মতো অবস্থা!”


দুধে ফর্সা রঙের কমল মেয়েটি যেন এক অপূর্ব চাঁদের টুকরো। কালো সিল্কি কোমর অবধি চুল গুলি অষ্টাদশীর ছোট্ট মুখে টি জুরে খেলা করছে। কালো রঙের থ্রি-পিস জামা গায়ে তাকে আরও রহস্যময় ও মনোহর লাগছে— সাদা-কালোর মায়াবী বৈপরীত্যে সে হয়ে উঠেছে একেবারে অনিন্দ্যসুন্দর।মনে হচ্ছে এক অপরূপ সন্দুর হুর পরী আসমান থেকে নেমে এসেছে জমিনে। 


       চোখ দুটো ঘুমে আধবোজা, পাতার ফাঁক দিয়ে শান্তির ছায়া ঝরে পড়ছে। লম্বা পাপড়ির আড়ালে চোখ যেন নিরব সাগরের গভীরতা লুকিয়ে রেখেছে।

নাকটা ছোট্ট, টিকলো আর নিখুঁত, যেন শিল্পীর হাতে গড়া মাটির মূর্তি।

মুখশ্রী শান্ত, ঠোঁট দুটো ফুটে উঠা হালকা  গোলাপি আভা কোমলভাবে বন্ধ— যেন কোনো স্বপ্নের হাসি সেখানে ঘুমিয়ে আছে।একপাশে ছোট্ট একটি তিল সাঁজসজ্জার মতো তাকে করে তুলেছে আরও মোহনীয়।একটা দূধে ফর্সা রঙের মেয়ের বর্ণনা এভাবে করা যায় –তার ঘুমন্ত শরীর নিস্তব্ধতায় ভরা, বুকের হালকা ওঠা-নামা যেন শান্ত ঢেউয়ের মতো, চারপাশে এক ধরনের প্রশান্তির আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে।


         সবাই বলে মেয়ের উপর সব থেকে বেশি মায়ের নজর পড়ে । তাই নীলিমা চৌধুরী বিসমিল্লা পড়ে ডান দিকে থু  করেন । তার পড়ে আদুরে সুরে ডাক তে থাকেন। 


অবশেষে মুখে দুষ্টু হাসি নিয়ে ডাক দিলেন—


নীলিমা: “ঐশী… উঠো মামনি… ৯টা বেজে গেছে!”


ধপাস করে উঠে বসল ঐশী, চুল এলোমেলো, চোখ আধাবোজা, মুখ রাগে লাল।


ঐশী: “হাই আল্লাহ! আম্মা! আপনি কি সিরিয়াস? আজ তো আমার পরীক্ষা! এখন ৯টা? আগে ডাকলেন না কেন? এখন তো সব শেষ…!”


এক নিঃশ্বাসে সব কথা বলে ঐশী হাঁপাচ্ছে।


নীলিমা হেসে খুন—

নীলিমা: “হায়রে বোকা মেয়ে, সবে তো ৪টা বাজে। একটু মজা করলাম। এখন নেমে এসে নাস্তা করো।”


ঐশী গজগজ করতে করতে  ব্রাশ হাতে ছাদে চলে গেল। হালকা বৃষ্টি মুখে লাগতেই বিরক্তি উড়ে গেল। ঐশীর রুমের পাশেই ছাদ । এক অপূর্ব সকাল।

চারিদিকে হালকা কুয়াশার মতো মেঘের ছায়া, আকাশ থেকে ঝির ঝির বৃষ্টি নেমে আসছে। সেই ভেজা বাতাসে ছাদের কোণে দাঁড়িয়ে আছে এক অষ্টাদশী কিশোরী। তার দুধে ফর্সা গায়ে বৃষ্টির ফোঁটা মিশে গেছে মুক্তোর মতো, ভেজা চুল কপালে নেমে এসে আরও রূপ বাড়িয়ে তুলেছে। কালো চোখে একরাশ স্বপ্ন, ঠোঁটে অচেনা মিষ্টি হাসি—যেন এই বৃষ্টির ছোঁয়াই তাকে নতুন করে জীবন ছুঁয়ে দিচ্ছে।


চারপাশের পৃথিবী যেন থমকে গেছে তার সেই মুহূর্তকে রঙিন করে তুলতে—

বৃষ্টি, ছাদ আর সেই অষ্টাদশীর ভেজা রূপ—

সব মিলিয়ে সকালটিকে করেছে স্বপ্নের মতো অপূর্ব


নিজের চেহারা দেখে ঐশী মনে মনে নিজের সঙ্গে ভাবলো। 

“আরে বাবা! আমি তো আজ একদম হিন্দি সিনেমার নায়িকা হয়ে গেছি। এখন যদি পাশের বাড়ির রাজীব আমাকে দেখে ফেলে, তাহলে তো পড়াশোনা ছেড়ে আমার ফ্যান ক্লাব খুলে বসবে!”


আবার ডাক ভেসে এল—

নীলিমা: “ঐশী, আর কতক্ষণ? নাস্তা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে!”


ঐশী চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। হেসেই বলল—

ঐশী: “আম্মু, আপনি একবার বলেন তো… আমি কি আজ পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি নাকি মডেলিং শোতে অংশ নিতে যাচ্ছি? ঠিক করতে পারছি না।”


নীলিমা চেয়ারে বসে মাথায় হাত দিয়ে হাসতে হাসতে বললেন—

নীলিমা: “হায় আল্লাহ! এ মেয়েকে নিয়ে যে আমি কবে শান্তি পাবো!”


তারপর মা–মেয়ের দুজনেরই শুরু হলো দুষ্টুমি—

নীলিমা বললেন, “তোর এই মুখখানা দেখে স্যার যদি খাতা না দেখে মার্কস দিয়ে দেন, তাহলে আমি অবাক হবো না।”


ঐশী খিলখিল করে হেসে বলল,

“আহা! তাই তো বলছিলাম, আমি পড়া না পড়লেও চালিয়ে নিতে পারবো… মায়ের প্রশংসার ওপর ভরসা আছে!”


দুজনের খুনসুটি আর হাসির মধ্যেই শুরু হলো সেই ভোরের সুন্দর সকাল।


ঐশী হাই তুলতে তুলতে গজগজ করে বলল—

“মা, তুমি একদম দুষ্টু!”


নীলিমা হেসে কপালে টোকা মেরে জবাব দিলেন—

“দুষ্টু না হলে এত সকালে তোর মতো ঘুমকুমারীকে কে তুলবে বল তো? আজ রাজকুমারীর পরীক্ষা, তাই তো পুরো রাজ্য জাগছে। এবার উঠ, মুখ ধুয়ে নাও, না হলে সূর্যদেব এসে সরাসরি বলবেন—‘ঐশী, পরীক্ষার হলে ঘুমানো যাবে না!সূর্যদেব ও তোমাকে খুঁজতে বেড়িয়েছে’”


মা-মেয়ের এই খুনসুটিতে ঘর ভরে উঠল হাসিতে, আর সকালের কুয়াশা গলে গিয়ে যেন জানিয়ে দিল—আজকের দিনটা হবে একেবারে মিষ্টি আর জয়ময়।


নীলিমা চৌধুরী নীচে চলে গেলেন। এই সময়ে ঐশী গান শুরু করলো।


         রিমঝিম এ ধারাতে.....

      চাই মন হারাতে।

         রিমঝিম এ ধারাতে..... 

      চাই মন হারাতে ।

          এই ভালোবাসাতে।

       আমাকে ভাসাতে......

          এলো মেঘ যে এলোঘিরে

        বৃষ্টি সুরে সুরে সোনায় রাগিনী।

               মনে স্বপ্ন এলোমেলো ।

        এই কি শুরু হল।

                প্রেমের কাহিনি.......


ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন😊। আমার প্রথম গল্প। পাশে থাকিবেন। 

To Be Continue😅

Happy Reading .☺️