Marks by sin - 15 in Bengali Love Stories by Anindita Basak books and stories PDF | মার্কস বাই সিন - 15

Featured Books
  • WAIT FOR WET - 3

    आरी कोरबीन के दोनों कामों के लिए मान तो गया था, हालांकि वह ऐ...

  • अमृत वाणी - संत वाणी - 10

    “हर जीव के भीतर साक्षात नारायण का वास है, इसलिए किसी भी प्रा...

  • देव मार्ग

    ऋगुवेद सूक्ति-- (56) की व्याख्या " भद्रं कर्णेभि: श्रृणुयाम...

  • Beginning of My Love - 26

    हॉस्पिटल में दो-तीन दिन रहने के बाद अमाया को राजस के मेंशन प...

  • आलसी चीकू

    कहानी: आलसी चीकू चीकू 14 साल का था। देखने में गोल-मटोल और स्...

Categories
Share

মার্কস বাই সিন - 15

মার্কস বাই সিন–১৫

"গতরাতে শহরের এক নামকরা অপরাধী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। সূত্রের খবর, মৃত ব্যক্তি ‘রাজা’—যার বিরুদ্ধে একাধিক খুন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, সে কুখ্যাত অপরাধচক্রের মাথা ‘কার্ল’-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিল।আজ সকালে তাকে অন্য একটি জেলে স্থানান্তর করার কথা থাকলেও, গতরাতে আচমকাই সে কারাগারের নিরাপত্তা ভেঙে পালানোর চেষ্টা করে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রাজা জেলরক্ষীর কাছ থেকে একটি রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গেট ভাঙার চেষ্টা করে। পুলিশ বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়..."

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে এসে বসে ঋষিল। নিউজ চ্যানেল খুলে ডিম-টোস্ট মুখে পুরতে গিয়েও থমকে দাঁড়ায় সে। তারপর রিমোট তুলে নিয়ে টিভির সাউন্ডটা আরো বাড়িয়ে দিয়ে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে সেইদিকে।

আহান নিজের রুম থেকে বেরিয়ে ঋষিলকে ওইভাবে থেমে তাকিয়ে থাকতে দেখে সে ভ্রু কুঁচকে একবার টিভির দিকে তাকায়, তারপর মাথা নাড়িয়ে ঋষিলের দিকে এগিয়ে এসে, ওর মাথায় হালকা চাটি মেরে বলে “ওই গাধা, ওইভাবে কি দেখছিস? তোর আজ ইন্টারভিউ না? দেরি হয়ে যাবে তো। তাড়াতাড়ি খেয়ে নে।”

ঋষিল মাথায় হাত বুলিয়ে, হাতে ধরে থাকা ডিমটোস্টে একটা বড়ো কামড় দিয়ে বলে “তুই তো কাল আমাদের সঙ্গে ছিলি, তাহলে এটা করল কে? ওয়েট… সেই কারণেই তুই কাল প্রথমের দিকে এত টেনশনে করছিলিস, বারবার ফোন চেক করছিলিস!”

আহান কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে “রাজাকে আজ কোর্টের অর্ডার অনুযায়ী অন্য জেলে ট্রান্সফার করার কথা ছিল যেটা আমার আন্ডারে পরে না এমনকি ও যে জেলে এতোদিন ছিল সেটাও ইনচার্জ আমি ন‌ই। তাহলে তুই কি করে বলতে পারিস আমি এই সব করেছি?"

আহান টিভির সাউন্ড কমিয়ে কফি হাতে নিয়ে ঋষিলের পাশে এসে বসে। ঋষিল আহানের কথা শুনে ওর দিকে সরু চোখে তাকায় তারপর হঠাৎ হেসে ওঠে। আহান হালকা অবাক হয়ে বলে "এই গাধা এতে হাসির কি হল রে? এইভাবে হাসছিস কেন?"

ঋষিল মাথা নাড়িয়ে ওর দিকে কিছুটা সরে এসে বলে “আরে ভাই, এটা তো ছোটো বাচ্চাও বুঝবে। কার্লের লোক সে, আর তুই কার্লের কেস হ্যান্ডল করছিস—তাহলে এই সমস্ত কিছুর পেছনে তোরই মাথা আছে। কি তাই তো?"

আহান হেসে ওর মাথায় একটা গাট্টা মারে "তুই একটু বেশি বুঝছিস না আজকাল।" ওর সামনের প্লেট থেকে একটা টোস্ট তুলে নিয়ে একটা বড়ো কামড় দিয়ে বলে “কার্ল সম্পর্কে এখনো বেশি কিছু হাতে আসেনি আমাদের। যতো খুঁজি, ততই ঘোলাটে দেখায়। লোকটা খুবই চালাক, জানিস। ক্রাইম করে খুব সহজে বেরিয়ে যায়। কোথা থেকে এসেছিল, কোথায় গেল- কিচ্ছু বোঝা যায় না। এমনকি শুধুমাত্র ওর নাম ছাড়া কিছুই আমাদের হাতে নেই। এমত‌ অবস্থায় কিছু একটা করারতো ছিলোই, তাই একটা চাল চালালাম।”

ঋষিল হঠাৎ গম্ভীর মুখে বলে “মানে? রাজা বেঁচে আছে… তাই না?”

আহান হালকা হাসে। “তুই আমায় খুব ভালো বুঝিস, ঋষ। হ্যাঁ, সে বেঁচে আছে। তবে সবার অগোচরে। আর যতদিন ওকে দরকার, ততদিন ও থাকবে।”

ঋষিল অভিভূত গলায় বলে “ওয়াও আহানদা, দারুণ চাল। তবে তুই কেমন করে নিশ্চিত হচ্ছিস, ওর কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ইনফো পাবি?”

আহান এবার হালকা গলায় বলে “কার্লের একজন ডান হাত আছে—নাম কেউ জানে না ঠিক করে। কিন্তু এই রাজা… ওকে খুব মানে। রাজা কার্লকে কখনও দেখেনি, কিন্তু ডান হাতকে চেনে, বিশ্বাস করে। ওই ডান হাত সম্পর্কে কিছু ইনফো সে দিতে পারে। আর জানিস তো, এই ছোটো লোকগুলোই অনেক বড় কথা জানে। কার্লের অনেক আস্তানার হদিস হয়তো ওর কাছ থেকে পাওয়া যাবে।"

ঋষিল কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে “কিন্তু ও তো অনেকদিন জেলে ছিল। তাহলে ও সমস্ত ইনফরমেশন দেবে কি করে তোদের?”

আহান চোয়াল শক্ত করে বলে “হ্যাঁ, এটা সত্যি কথা ও অনেকদিন জেলে ছিল। কিন্তু জানিস তো, আমাদের মধ্যেই কেউ কেউ আছে যারা বাইরের দুনিয়ার ইনফো জেল পর্যন্ত পাঠায়। ভেতরে-বাইরে কেউ ইনফো পাচার করছে। আমি সেই 'বিভীষণ'-দের খুঁজছি। আর সেই কারণেই এই ছেলেটা এখন আমাদের কাছে ভীষণ মূল্যবান।”

ঋষিল তাকিয়ে থাকে আহানের দিকে।তারপর হেসে বলে “তুই তো এক্কেবারে দাবাড়ুর মতো চাল দিচ্ছিস ভাই। রেসপেক্ট।”

আহান হালকা হেসে ভ্রু তুলে ভারিক্কি গলায় বলে “বলছিস?”

“হুম, আর নয়তো কি। আমার দাদা বেশ বুদ্ধি আছে মানতে হবে।”

"তাই বুঝি?" এই বলে আহান ঋষিলের কান ধরতে যায়। ঋষিল তড়িঘড়ি উঠে যায় ওর পাশে থেকে। তারপর দুজনে একসাথে খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে। ওদের হাসির শব্দ দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফ্ল্যাটে ঘুরে বেড়ায়।



চলবে.....................................