ছোট্ট, মিষ্টি আর কোমল স্বভাবের অন্বেষার জন্য বাবা-মা এবং দাদা শিবরাজের ভালোবাসার যেন শেষ নেই।অন্বেষাকে কেবল তার পরিবারের লোকেরাই নয়, বাড়ির মালিক দম্পতি এবং প্রতিবেশীরাও তাকে ভালোবাসে।সুরভি মনে করল, “এই মেয়েটাই যেন আমাদের জীবনে নতুন সূর্যোদয়। আমাদের জীবনের দুঃখ মুছে দিয়েছে। যেন লক্ষ্মী আমাদের ঘরে এসেছে”।
দিন কাটতে লাগল। ভালোবাসার আবরণে বড় হতে লাগল অন্বেষা। বাবা, মা আর দাদা শিবরাজ — তিনজনেরই আদরের ধন সে। বাবা, মা আর দাদার অফুরন্ত ভালোবাসা মমতায় তার শৈশব ভরে উঠল।
বিশেষ করে দাদা শিবরাজ যেন তার ছায়া, সারাক্ষণ রক্ষা করে রাখত ছোট বোনটিকে। যত দুষ্টুমিই করুক না কেন, দাদা খুব একটা রাগ করত না।অন্বেষা মিষ্টি, কিন্তু ভীষণ দুষ্টু।এখন অন্বেষার বয়স তিন বছর। দুষ্টুমিতে ভরা দিনগুলোয় সে কখনো গরুর সঙ্গে, কখনো পাড়ার কুকুরের সঙ্গে খেলত। দাদার চুল টানত, আবার মিষ্টি হেসে দাদার গালে টোকা দিত। দাদা মাঝে মাঝে চোখ কপালে তুলে বলত, “অন্বেষা, একটুও শান্তি পাই না তোকে নিয়ে!” — কিন্তু তার মধ্যেও ছিল ভালোবাসার হাসি।
অন্বেষা দাদার মাথার চুল ধরে টানাটানি করত, আবার কখনো হালকা ঘুষি মেরে হাসতে হাসতে পালিয়ে যেত। শিবরাজ ধৈর্য ধরত, কিছু বলত না, তবে কখনও কখনও দুষ্টুমি সীমা ছাড়িয়ে গেলে শিবরাজ ধৈর্য হারিয়ে বোনের গালে একটা ছোট্ট থাপ্পড় বসিয়ে দিত।
তখন অন্বেষা কাঁদতে কাঁদতে মায়ের কাছে গিয়ে নালিশ করত,
“মা… দাদা আমায় মারছে!”
মা হেসে জিজ্ঞেস করত, “কেন রে, দাদা তো এমন না, কী করেছিস তুই?”
অন্বেষা আধো আধো গলায় বলত,
“দাদা... আমি কিছুই করি নি…দাদা আমনি করছে…”।
মা সব বুঝত — বোনের দুষ্টুমি আর দাদার সহ্যশক্তি দুটোই তাঁর অজানা ছিল না।
তাই সুরভি হেসে দাদাকে দেখে মমতা মেশানো গলায় বলত,
“দাদা ঠিকই করেছে, তোকে শাসন করেছে। দাদাকে বিরক্ত করিস কেন? এখন ওর ফাইনাল পরীক্ষা, পড়াশোনা করতে দে দাদা কে”।
শিবরাজ তখন ক্লাস ফাইভে পড়ে, পড়াশোনার চাপও কম নয়। সামনেই বার্ষিক পরীক্ষা।
তারপর মেয়েকে বুকে টেনে নিয়ে আদুরে গলায় বলত, “দাদা তোকে কত ভালোবাসে জানিস? যা, রাগ না করে দাদার পাশে গিয়ে বোস, একটু আঁকিবুঁকি কর দাদার সাথে। দাদার মতো মন দিয়ে পড়লে তবেই তো ভালো মেয়ে হবি”।, মায়ের কথা শুনে অন্বেষা শান্ত হতো। তারপর গুটিগুটি পায়ে গিয়ে আবার দাদার পাশে বসত।
শিবরাজ তখন হাসিমুখে অন্বেষাকে কোলে নিয়ে নিজের বই থেকে একটা ছবি দেখিয়ে বলত, দেখ তো, এটা কী?
অন্বেষা আধো আধো গলায়, একরাশ বিস্ময় নিয়ে ছবিটার দিকে তাকিয়ে আবার দাদার দিকে চেয়ে বলত, “এটা কী?”
দাদা হাসিমুখে তাকে শেখাত, ধীরে ধীরে বুঝিয়ে দিত। আর অন্বেষা আনন্দে হাততালি দিত। সেই মুহূর্তে একরাশ ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ত সারা ঘরজুড়ে।
সময় পেলেই সে অন্বেষার সঙ্গে খেলত,কারণ অন্বেষা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে আদরের মানুষ —অন্বেষার হাসি ছিল বাড়ির সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়।
কিন্তু এই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হলো না। অন্বেষার যখন পাঁচ বছর বয়স হবে, তখন তার ঘনঘন ঠান্ডা, কাশি ও জ্বর হতে শুরু করল।। রবি তৎক্ষণাৎ ডাক্তারকে দেখাল এবং ওষুধও নিল, কিন্তু কাশি ও জ্বরটা দুদিনের জন্য কমলেও আবার শুরু হয়ে গেল এবং তা ঘনঘন হতেই থাকলো।
অবস্থা আরও খারাপ হলো যখন মুখে ঘা দেখা দিল। ডাক্তার ওষুধ বদলালেন, কিন্তু অন্বেষা ঠিকমতো সেরে উঠল না। পরিবার, বিশেষ করে বাবা-মা, শিবরাজ — সবাই অন্বেষার জন্য গভীরভাবে চিন্তিত এবং দুঃখিত হয়ে পড়ল।বাড়িওয়ালা কাকু-কাকিমা —পাড়া-প্রতিবেশীরা সবাই নিয়মিত আসত এবং সাহায্য করতে চাইছিল। সুরভি বুঝতে পারছিলেন না ঠিক কী করলে ভালো হয়ে যাবে অন্বেষা।সুরভি চেষ্টা করছিলেন প্রাকৃতিক উপায়ে,—তুলসী পাতা, মধু আর বাবার শেখানো বিভিন্ন ভেষজ উপায়ে যাতে অন্বেষার সর্দি, কাশি ও জ্বর কিছুটা কমে।
পাড়া-প্রতিবেশীরাও বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছিল, সব কিছু অন্বেষার জন্য চেষ্টা করা হলো। তবুও কোনো কার্যকারিতা দেখা গেল না, এবং অন্বেষার অবস্থা আগের চেয়ে আরও খারাপ হতে লাগল।তার ওজন বাড়ছিল না, খাওয়ায় আগ্রহও কমতে লাগল।
শিবরাজ সব সময় অন্বেষার পাশে ছিল, সবসময় কোলে কোলে রাখত ।তাকে খাওয়ানো, খেলার মাধ্যমে মনোবল ঠিক রাখার চেষ্টা করত। তবে অন্বেষার অবস্থা ঠিকঠাক হলো না। এই সময় পুরো পরিবার ভীষণ কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছিল, কারণ তাদের ছোট্ট আনন্দের উৎস — অন্বেষা — অসুস্থ হয়ে পড়েছিল এবং ক্রমে খুবই দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল।
রবির একজন বন্ধু পরামর্শ দিল, গ্রামের ডাক্তারের কাছে না গিয়ে একবার কলকাতার বড় কোনো সরকারি হাসপাতালে দেখাতে। কারণ সরকারি হাসপাতালে ভালো অভিজ্ঞ ডাক্তার থাকেন। রবিও এই পরামর্শটি ঠিক মনে করল এবং কলকাতা যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে লাগল।
সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী: ঋণশোধের উপাখ্যান
তাদের গ্রাম ফালাকাটা থেকে শিলিগুড়ি (NJP) তারপর কলকাতা, অনেক দূরে। তাই টাকার প্রয়োজন ,রবি তার সঞ্চয় থেকে কিছু টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিল—যাতায়াত, চিকিৎসা, থাকা-খাওয়ার খরচের জন্য।সব প্রস্তুতি শেষে, এক রাতের ট্রেনে পুরো পরিবারকে নিয়ে রবি রওনা দিল কলকাতার উদ্দেশে।পরিবারের চোখে তখন শুধু একটাই আশা—অন্বেষা যেন সুস্থ হয়ে ওঠে।
হাওড়া স্টেশনে নামতেই তখন দুপুর হয়ে গেছে। রবি প্রথমে তার বন্ধুর বাড়িতেই উঠল। তার বন্ধু বেশ আতিথ্যপরায়ণ, তাই তারা সপরিবারে খুবই ভালো যত্ন পেলো।
রাতে খাওয়া দাওয়ার পর রবি বন্ধুর কাছ থেকে পরামর্শ নিল—ভোরবেলাতেই যেন তারা পিজি হাসপাতালে যায়। কারণ ওটা সরকারি হাসপাতাল, তাই রোগীর ভিড় সবসময় প্রচুর থাকে, আর নিয়মকানুনও অনেক মানতে হয়।
পরের দিন ভোরবেলাতেই রবি উঠে পড়ল। সবাইকে তৈরি হতে বলল, কারণ সকালে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে।রবির বন্ধু শিবরাজকে তাদের বাড়ি থেকে যেতে বলল , তার মা-বাবা ও চেষ্টায় করল যেন শিবরাজ না যায়। শিবরাজ কিছুতেই রাজি হলো না—সে তার বোনকে একা ছেড়ে থাকতে পারবে না।অবশেষে, শিবরাজও তাদের সঙ্গে হাসপাতালের পথে রওনা দিল।
কলকাতায় পৌঁছে রবি যখন পিজি (PG) হাসপাতালে গিয়ে দাঁড়াল, সে রীতিমতো অবাক হয়ে গেল। বিশাল বড় জায়গা, চারদিকে শত শত রোগী আর তাদের আত্মীয়স্বজনের ভিড়। কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না রবি—কোথায় যাবে, কার সাথে কথা বলবে।
অবশেষে সে জানতে পারল, প্রথমে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে হবে। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর অবশেষে অন্বেষার জন্য টিকিট কাটতে পারল সে।
অবশেষে রবি ডাক্তারের সামনে পৌঁছাল। ডাক্তারবাবু ছিলেন বেশ অভিজ্ঞ ও প্রবীণ। তিনি অন্বেষাকে খুব সময় নিয়ে শান্তভাবে পরীক্ষা করলেন। অন্বেষার বুক পরীক্ষা করলেন, গলা দেখলেন, ত্বকের অবস্থা এবং মুখের ঘা—সবকিছু খুঁটিয়ে লক্ষ্য করলেন। এরপর রবি সাথে করে আনা ফালাকাটার ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশন ও ওষুধের তালিকাটিও তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখলেন।
সবকিছু পরীক্ষা করার পর ডাক্তারবাবু কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর রবির দিকে তাকিয়ে খুব ধীরস্থিরভাবে বললেন, “আগের ওষুধগুলো আমি দেখলাম। ওর শরীরে সংক্রমণ বারবার ফিরে আসছে, জ্বরও ছাড়ছে না। দেখে মনে হচ্ছে এটা সাধারণ ঠান্ডা-কাশি নয়। আমি নতুন কিছু ওষুধ এক মাসের জন্য দিচ্ছি, তবে তার আগে ওর শরীরের আসল সমস্যাটা বুঝতে আমাদের কিছু পরীক্ষা করানো খুব দরকার”।
রবি কিছুটা চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কী ধরনের পরীক্ষা ডাক্তারবাবু?”
ডাক্তারবাবু চশমাটা ঠিক করে নিয়ে রবির দিকে তাকালেন। তারপর টেবিলের ওপর রাখা প্রেসক্রিপশন প্যাডে কলম ছোঁয়াতে ছোঁয়াতে শান্ত গলায় বুঝিয়ে বললেন, “দেখুন, অন্বেষার এই বারবার অসুস্থ হওয়ার কারণটা আমাদের গভীরে গিয়ে দেখতে হবে। আমি কিছু রক্তের পরীক্ষা লিখে দিচ্ছি, যা ওর শরীরের বর্তমান অবস্থা বুঝতে সাহায্য করবে”।
আমি সন্দেহ করছি অন্বেষার শরীরের "প্রতিরক্ষা প্রাচীর" বা ইমিউন সিস্টেমে বড় কোনো ফাঁক আছে, যার কারণে ওষুধ খাওয়ার পরেও সে বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এটি নিশ্চিতভাবেই কোনো দীর্ঘমেয়াদী বা জটিল রোগের ইঙ্গিত, যা সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকে সারছে না।
রবি একদৃষ্টে ডাক্তারবাবুর দিকে তাকিয়ে রইল। সে কিছুই বুঝতে পারছিল না।ডাক্তারবাবু রবির চিন্তিত মুখটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন।
ডাক্তারবাবু বোঝাতে লাগলেন ,আমাদের শরীরটা একটা কেল্লার মতো, যার চারদিকে থাকে 'প্রতিরক্ষা প্রাচীর'। বাইরে থেকে যখন কোনো রোগ-জীবাণু আমাদের আক্রমণ করে, তখন আমাদের শরীরের ভেতরের এই শক্তি বা ইমিউন সিস্টেম সেই আক্রমণ রুখে দেয়। অন্বেষার ক্ষেত্রে সমস্যাটা হচ্ছে, ওর শরীরের সেই 'প্রতিরক্ষা প্রাচীর' বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কোথাও একটা ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
রবি কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল, "সেটা ঠিক কীরকম ডাক্তারবাবু?"
ডাক্তারবাবু বুঝিয়ে বললেন, "সাধারণত ছোটখাটো সর্দি-কাশি হলে আমাদের শরীরের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটাকে দু-তিন দিনে হঠিয়ে দেয়। কিন্তু অন্বেষাকে আমি যে পরীক্ষাগুলো দিলাম, সেগুলো দিয়ে আমি দেখতে চাইছি ওর রক্তে সেই রক্ষী কোষগুলো আদৌ আছে কি না, বা থাকলেও তারা ঠিকমতো কাজ করছে কি না।
কারণ ওকে আমরা যে অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছি, সেগুলো সাময়িকভাবে ওকে আরাম দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ওর নিজের শরীরের যে স্বাভাবিক লড়াই করার ক্ষমতা, সেটা কাজ করছে না। সেই কারণেই একবার জ্বর কমলেও কয়েকদিন পর আবার ফিরে আসছে।"
রবি মন দিয়ে শুনছিল। ডাক্তারবাবু একে একে পরীক্ষার নামগুলো বললেন এবং কেন সেগুলো প্রয়োজন, তা পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিলেন:
“প্রথমে আমাদের করতে হবে সি-বি-সি বা কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট। এর মাধ্যমে আমরা দেখব ওর রক্তে সাদা কণিকা এবং বিশেষ করে লিম্ফোসাইটের সংখ্যা ঠিক আছে কি না। এরপর দেখব ইমিউনোগ্লোবুলিন লেভেলস এটা খুব জরুরি কারণ এর মাধ্যমেই বোঝা যায় ওর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেম স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে কি না”।
একটু থেমে তিনি আবার বলতে শুরু করলেন, “এরপর আমরা করাবো লিম্ফোসাইট সাবসেট অ্যানালাইসিস। এছাড়া একটি এইচ-আই-ভি টেস্ট করানো দরকার, যাতে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে অন্য কোনো কারণে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে কি না। সবশেষে করাবো কমপ্লিমেন্ট টেস্ট , সি-থ্রি, সি-ফোর। আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কিছু প্রোটিন থাকে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যাবে সেই প্রোটিনগুলো সংক্রমণ ঠেকাতে ঠিকমতো কাজ করছে কি না”।
রবি ডাক্তারবাবুর কথাগুলো মন দিয়ে শুনল। ডাক্তারবাবু প্রেসক্রিপশনটা রবির হাতে দিয়ে বললেন, “এই রক্ত পরীক্ষাগুলো ছাড়া আমি বুঝতে পারছি না ওর শরীরে ঠিক কোন জায়গাটায় 'ফাঁক' আছে। এই সব রিপোর্টগুলো হাতে এলে আমরা নিশ্চিত হতে পারব ওর শরীরের ভেতরে আসলে কী ঘটছে। রিপোর্টগুলো তৈরি হলে যত দ্রুত সম্ভব আমাকে এসে দেখাবেন”।
রবি হাসপাতালে ল্যাব কাউন্টারে পৌঁছে খুব শান্তভাবে প্রেসক্রিপশন জমা দিল। তার মনের ভেতর এক অস্থিরতা কাজ করছিল, কিন্তু বাইরে সে নিজেকে স্থির রাখার চেষ্টা করল। ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টের কাছে গিয়ে সে বিনীতভাবে জিজ্ঞেস করল, “ডাক্তারবাবু যে পরীক্ষাগুলো লিখেছেন, এই মেডিকেল পরীক্ষা গুলোর টেস্ট এখানেই কি করা সম্ভব?
ল্যাবের অ্যাসিস্ট্যান্ট কাজের ফাঁকেই অভ্যস্ত স্বরে বললেন, না। এখন আমাদের কাছে আমাদের ল্যাবে এই কিটটা নেই, তাই রিপোর্ট আসতে এক মাসেরও বেশি লেগে যাবে। তাই ভালো হয় যদি আপনি বাইরে কোনো বড়, ভালো প্রাইভেট ল্যাব থেকে করিয়ে আনেন।
রবি জিজ্ঞেস করলো, এই টেস্টের রেজাল্ট তারা কবে দিতে পারবে? কতদিনে রিপোর্ট আসবে?
ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট বলল, এটি ঐ ল্যাবের উপর নির্ভর করবে, তবুও সাধারণত পনেরো দিন লাগার কথা।
রবি বলল, “আপনি ভালো ল্যাবের ঠিকানা দিন না”।
ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট এক ল্যাবের ঠিকানা দিলো এবং বলল, এখানে তুলনামূলকভাবে কম খরচ এবং রিপোর্টও নিখুঁত হবে।