>>আমার ডাইরি <<
--------------------------
1 )ক্ষমা করো পৃথিবী, তাকে আমি ঘৃণা করতে পারিনি, তাকে আমি নিষ্ঠুর মৃত্যু দিতে পারিনি!
_~যার হাতের পাঁচটা আঙুল আমার নিরবতা, যার বুকের পাজরে লেগে থাকা ঘামের গন্ধ আমার সবচেয়ে প্রিয়, যার উষ্ণ ঠোঁটের ছোয়া আমার প্রতিদিনের অভ্যাস, যার এলোমেলো চুলে আমি হারিয়ে যায়, যার ভালোবাসার আহরনে সবকিছু তুচ্ছ করে ছুটে যাই, তার কষ্ট আমি কি করে সহ্য করি?
2)
কিছু বই পড়তে পড়তে সমাপ্ত হয়ে যায় কিন্তু,, সেই সমাপ্তির ব্যাথা থেকে যার চিরজীবন!
3)
সকালে যে রোদ তোমাকে স্পর্শ করে সেই রোদ আমাকেও ছুঁয়ে দেয়।
যে বৃষ্টিতে তুমি ভিজো সেই বৃষ্টি আমাকেও ভেজায়! যে জোছনা তোমাকে সঙ্গ দেয় সেই জোছনা জানে আমার দুঃখের কথা!
তুমি যে আকাশ দেখ সেই একই আকাশ আমিও দেখি।
কিন্তু তোমার আমার দেখা হয় না!
4)
তোমাকে পাওয়ার মধ্যে
সবচেয়ে বড় বাধা ছিলে তুমি।
তোমাকে ডিঙিয়ে
কী করে তোমার কাছে যাই বলো?
যে আমাকে চায় না
বোকার মতো আমি তাকেই চাই!
5)
যে পাওয়ার জন্য ভালোবাসে, সে আসলে কখনো কাউকে পুরোপরি ভালোবাসতেই পারে না।
ভালোবাসা এমন হতে হয়, পাবোনা জেনেও তাকে আমি ভালোবাসি। যদি পেয়ে যাই তবে সেটা আমার সৌভাগ্য। কিন্তু না পেলেও ক্ষতি নেই।
তাকে পাব না বলে, ভালোবাসবো না, এমনটা নয়। যদি এমন হয় তবে এখানে ভালোবাসার চেয়ে চাওয়াটা বেশি! স্বার্থ বেশি! কাউকে ভালোবাসলে নিজস্ব কোনো স্বার্থ থাকতে নেই।।
6)
সমাপ্ত 💌
____________________
বুকের বাম পাশে এক সমুদ্র নোনা জল পুষেছি, সবটুকু তোমাকে দেব বলে। ক্যালেন্ডারের পাতায় জং ধরেছে শত শত বছর, তবু তোমার ফেরার রাস্তাটা আজও পাল্টায়নি। অপেক্ষাটা এখন আর সেকেন্ড বা মিনিটের নয়, অপেক্ষাটা এখন এক জন্ম থেকে অন্য জন্মের; যেখানে দূরত্ব বাড়ে, কিন্তু ভালোবাসাটা কমে না
7)
সব থেকেও যেন এক বিশাল শূন্যতা থাকে, স্মৃতিরা হৃদয়ে রোজ নতুন আল্পনা আঁকে। হয়তো কোনোদিন আর হবে না আমাদের দেখা, তবু এই মনে তুমি আছো, আমি নই একা। না পাওয়ার বিষাদ নিয়ে পথ চলি নিরন্তর, আশার প্রদীপ জ্বেলে সাজাই শূন্য ঘর; যদি কোনো এক ভোরে ফিরে আসো আমারই ভেতর
8)
অপেক্ষায় থাকবো আমি, হাজার রাতের মতো নীরবতায়, আবেগগুলো জমিয়ে রাখবো, কেবল নিজেরই দীর্ঘশ্বাসে।
প্রতিটি পাতায় লিখবো গল্প, শব্দ সাজাবো তোমার মায়ায়, অথচ সেই অক্ষরেও তোমার ছায়া কেউ কোনোদিন পাবে না।
হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসাগুলো হোক আজ বড্ড ব্যক্তিগত, পৃথিবী জানুক আমি কবি, জানুক আমি তোমার স্মৃতির কাছে নত,
সবাইকে শোনাবো কবিতাগুলো, শুধু তোমার নামটা থাকবে গোপন আজীবন।।
9)
তোমাকে না পাওয়ার পরে মানুষ আমাকে বলেছে, যে ভাগ্যে থাকে না, তাকে শত চেষ্টা করেও পাওয়া যায় না। তুমি নাকি আমার ভাগ্যে ছিলে না।
আমি তোমাকে চেয়েছি, ভাগ্যের বাইরে গিয়েও তোমাকে চেয়েছি। খোদার দরবারে তোমাকে ভিক্ষা চেয়েছি। কিন্তু তোমাকে আমি পাইনি! কেন পাইনি? তুমি কি সত্যিই আমার ভাগ্যে ছিলে না?
তুমি কি আমাকে চেয়েছ? দুজনে চাইলে ভাগ্যের বাইরে গিয়েও পাওয়া যায়। তবুও কেন আমরা একে অন্যকে পাইনি? নাকি তুমি আমাকে চাওনি?
তোমাকে পাওয়ার ভাগ্য নিয়ে কেন জন্মালাম না আমি? যে তোমাকে সহজে পেলো তার ভাগ্য কেন আমার হলো না, বলতে পারো??
10)
. " তুমি যদি আমার না হও,তবে সুখের অসুখ তোমাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দিক!"
11)
শেষ অংশটা আলাদা করে দিলাম—
---
“সব ভালোবাসা পাওয়া যায় না, কিন্তু যেগুলো পাওয়া যায় না, সেগুলোই হয়তো সবচেয়ে বেশি সত্যি হয়ে থাকে।”
12)
---
রাতটা অদ্ভুত নিস্তব্ধ ছিল। জানালার ফাঁক দিয়ে আসা হালকা বাতাসে পর্দাটা দুলছিল, যেন কেউ অদৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে তার দিকে। সে বিছানার এক কোণে বসে ছিল, হাতে পুরোনো একটা ডায়েরি—যার পাতাগুলো সময়ের সাথে হলদে হয়ে গেছে, কিন্তু ভেতরের শব্দগুলো এখনো তাজা, এখনো জীবন্ত। প্রতিটা পাতায় তার নিজেরই লেখা, নিজেরই গল্প, কিন্তু আজ যেন সেগুলো আর তার মনে হচ্ছে না—মনে হচ্ছে অন্য কারো জীবন, অন্য কারো অনুভূতি।
কিছু ভালোবাসা থাকে, যেগুলো কখনো উচ্চারণ করা যায় না। তারা নিঃশব্দে জন্ম নেয়, নিঃশব্দেই বড় হয়, আর একসময় নিঃশব্দেই হারিয়ে যায়। সে বুঝেছিল, ভালোবাসা সবসময় কাছে টানে না—কখনো কখনো দূরে ঠেলে দেয়, এমন দূরে যেখানে ফিরে আসার কোনো পথ থাকে না। তবুও, কেন যেন মানুষ সেই পথেই হাঁটতে চায় বারবার।
তার মনে পড়ছিল সেই প্রথম দেখা—একটা সাধারণ দিন, সাধারণ মুহূর্ত, অথচ সেই মুহূর্তটাই তার জীবনটাকে অসাধারণ করে দিয়েছিল। সে হাসছিল, আর সেই হাসির মধ্যে ছিল এক অদ্ভুত উষ্ণতা, যেন শীতের সকালে প্রথম রোদ। সে তখনই বুঝে গিয়েছিল, এই মানুষটা তার জীবনে কোনো না কোনোভাবে থেকে যাবে—হয়তো কাছে, হয়তো দূরে, কিন্তু থাকবে।
কিন্তু সময় কখনো কারো জন্য থেমে থাকে না। দিন গড়িয়ে যায়, মানুষ বদলে যায়, আর সম্পর্কগুলোও ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যায়। একসময় যে কথাগুলো প্রতিদিন বলা হতো, সেগুলো আর বলা হয় না। যে অপেক্ষাটা একসময় আনন্দ দিত, সেটা একসময় ক্লান্তি হয়ে দাঁড়ায়। আর তখনই মানুষ বুঝতে পারে—সব গল্পের শেষ একসাথে হয় না।
তার চোখের কোণে জল জমে উঠছিল, কিন্তু সে কাঁদছিল না। হয়তো সে এতটাই ক্লান্ত হয়ে গেছে যে আর কাঁদার শক্তিটুকুও নেই। শুধু একটা প্রশ্ন বারবার তার মনে ঘুরছিল—“যদি একটু আগে বুঝতাম, যদি একটু আগে বলতাম, তাহলে কি গল্পটা অন্যরকম হতো?”
বাইরে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলো। টুপটাপ শব্দে ভরে গেল চারপাশ। সে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল, হাতটা বাড়িয়ে দিল বৃষ্টির ফোঁটার দিকে। ঠান্ডা জল তার আঙুল ছুঁয়ে গেল, আর সেই স্পর্শে যেন সে হঠাৎ করে আবার বেঁচে উঠল। হয়তো সবকিছু শেষ হয়ে যায় না, কিছু অনুভূতি থেকে যায়—স্মৃতির মতো, বৃষ্টির গন্ধের মতো, অথবা কোনো এক অসমাপ্ত গল্পের মতো।
13)
নিচে একটা নতুন রোমান্টিক “শেষ” লিখে দিলাম—
---
“তুমি পাশে থাকলেই বুঝি পৃথিবীটা এত সুন্দর লাগে —তুমিই পৃথিবীটাকে সুন্দর করে দাও। আর যদি কোনোদিন হারিয়েও যাও, তবুও আমি জানবো—আমার হৃদয়ের ভেতর তুমি চিরকাল রয়ে গেছো, আমার সবচেয়ে প্রিয় ভালোবাসা হয়ে।”